আমাদের প্রিয় এ পৃথিবীতে চোখের সামনে যতটুকু আমরা দেখতে পাই, তার মধ্যে এমন অনেক বিষয় আছে যা সাধারণ চিন্তায় আমাদের কাছে অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃত বলে ধরা দেয়, কিন্তু উন্নত প্রযুক্তি ও সাহসী বৈজ্ঞানিকদের অদম্য প্রচেষ্টায় তার আসল চিত্রটি বেরিয়ে আসে। শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে চলে আসা এ ধরণের কোন ঘটনা প্রথমত হয় ইতিহাস, আর কালের বিবর্তনে এ ইতিহাসই পরিণত হয় কিংবদন্তী আর লোককথায়। প্রচলিত কাহিনী ও তার সাথে সত্য-মিথ্যার মিশেল, ঘটনা ও তার অতিরঞ্জিত বর্ণনা সবকিছু মিলেই সৃষ্টি হয় এ অতিপ্রাকৃত ঘটনাগুলো, সংস্কারের বশেই হোক আর অবচেতন মনেই হোক আমাদের মনে স্থান করে নিতে এগুলোর খুব বেশি সময় লাগেনা। তবে আবার যখন চোখের সামনে সত্য উন্মোচিত হয়, তা মেনে নিতেও বিজ্ঞানমনস্ক আমাদের মন দেরী করে না। এ ধরণের কিছু কিংবদন্তী বা অতিপ্রচলিত ভুল ধারণা ঘিরে আছে পৃথিবীর বেশ কিছু স্থানকে ঘিরে, এমনকি আমাদের দেশেও। এ ধরণের অসংখ্য স্থানের মধ্যে আজকে সুবিখ্যাত দু’টি স্থান ও এদের ঘিরে গড়ে ওঠা কিংবদন্তী সম্পর্কে আমরা এখানে আলোচনা করব।

নাজকা লাইনস – ব্যোমযাত্রীর পদচিহ্ন
দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দেশ পেরু। সেখানকার নাজকা মরুভূমিতে যদি একটি বিমান নিয়ে উড়ে যাওয়া যায়, তাহলে একটি স্থানে অপেক্ষা করবে এক অপার বিস্ময়। ককপিট থেকে দেখা যাবে মরুভূমির বুকে আঁকা অসংখ্য আকিবুকি, জ্যামিতিক নকশা আর পশু-পাখির ডিজাইন। খ্রিস্টপূর্ব সময় থেকে আজ পর্যন্ত এ রেখাগুলো সগৌরবে জানান দেয় তাদের অস্তিত্ব আর চিন্তার রেখা একে দেয় আমাদের কপালে। মনে জেগে উঠতে চায় দূরবর্তী কোন ছায়াপথ বা নক্ষত্রের গ্রহ থেকে পথ ভুলে পৃথিবীতে আসা কোন বুদ্ধিমান প্রাণীর কথা, যে তার নিজের প্রয়োজনে এ ধরণের রেখাচিত্র একেছিল।
পেরুর রাজধানী লিমা থেকে প্রায় ৪০০ কি:মি: দক্ষিনে নাজকা এবং পালমা শহরের মাঝামাঝি স্থানে প্রায় ৫০০ বর্গ কি:মি: এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এ অসাধারণ কর্ম। এখানে আঁকা চিহ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্যামিতিক নকশা, আরও রয়েছে হামিংবার্ড, মাকড়শা, হাঙ্গর আর নানা সরীসৃপের রেখাচিত্র। খুব বেশি গভীর নয় এগুলো মাত্র ৬-১২ ইঞ্চি গভীরতায় আঁকা চিত্রগুলো বিমান থেকে বা স্যাটেলাইটে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। প্রায় ১৮০টির মত নকশা রয়েছে এখানে, যার মধ্যে শ’খানেক জ্যামিতিক চিত্র, আর বাকীগুলো বিভিন্ন পশু-পাখিদের প্রতিলিপি।
১৯৩০ এর দশকে সর্বপ্রথম বিমানযোগে ঐ মরভূমি পার হবার সময় এ লাইনগুলো আবিস্কৃত হয়। এরপর থেকে এ নিয়ে চিন্তা ও গবেষণার শেষ নেই। গবেষকরা ধারণা করেন, নাজকা জাতির লোকেরা কাঠ ও ঐ ধরণের সরঞ্জামাদি দিয়ে এ রেখাগুলো এঁেকছে। অনেকগুলো রেখারই শেষপ্রান্তে কিছু শিলীভূত কাঠের উপকরণ পাওয়া গিয়েছে, যা থেকে কার্বন টেস্টের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ঐ রেখা আঁকার সময়কাল বের করেছেন।
তবে এ রেখাগুলো কি কারণে আঁকা হয়েছিল, তা নিয়ে গবেষণা শেষ হয়নি। বিখ্যাত পুরাতত্ববিদ এরিক ফন দানিকেনের মতে, নাজকা লাইনগুলো মূলত ভিনগ্রহের আগন্তুকদের ব্যবহার করা এয়ারস্পেস ও সিগন্যাল সেন্টার হিসেবে কাজ করত। তার ধারণা মতে, ভিনগ্রহের এ আগন্তুকদেরই তখনকার মানুষেরা স্বর্গ থেকে নেমে আসা দেবদূত ভেবেছিল, এবং দেবতা হিসেবে তাদের পূজা করেছিল। তবে বেশির ভাগ গবেষকই এ মতের সাথে ভিন্নতা প্রকাশ করেন। অনেকে মনে করেন, নাজকা ইন্ডিয়ানরা তাদের উপাস্য দেবতাদের খুশী করবার জন্য এ ধরণের বিশালাকৃতির রেখাচিত্র এঁেকছিল, যাতে দেবতারা স্বর্গ থেকেও তা দেখতে পান। আবার কেউ কেউ মনে করেন, জ্যোতির্বিদ্যা এবং নক্ষত্র পর্যবেক্ষনের কাজে এ রেখাগুলো আঁকা হয়েছিল। আকাশের অরায়ন তারকামন্ডলীর সাথে নাজকাদের আঁকা বৃহত্তর মাকড়শার একটি নকশার আশ্চর্যরকম সাজুয্য আছে বলে কোন কোন গবেষক দাবী করেন। আবার কারো মত হল ঐ রেখাগুলো ছিল নাজকা ইন্ডিয়ানদের উপসনার একটি অংশ। তবে এ সম্পর্কে কোন মতৈক্যে পৌছানো না গেলেও এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই, মানব সভ্যতার বিকাশের ইতিহাসে এ এক অসামান্য উপকরণ। কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তি ছাড়া শুধুমাত্র মানবিক প্রচেষ্টায় এমন নকশা তৈরী করা, যা একমাত্র বিমান থেকে বা স্যাটেলাইট থেকেই নিখুত হয়েছে কি না তা বোঝা যায়, মানুষের সেই মেধারই পরিচয় তুলে ধরে, যে মেধা তাকে আসীন করেছে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে।
একটি জিজ্ঞাসা সকলের মনেই আসে, তা হল খ্রিষ্টপূর্ব যুগের এই অগভীর পাতলা রেখাগুলো এ কয়েক হাজার বছর পরেও এত নিখুত আর অক্ষত আছে কিভাবে? এর উত্তর পেরুর ঐ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে আছে। নাজকা মরুভূমি বৃষ্টিশূন্য একটি এলাকা, বায়ুপ্রবাহও খুব কম। সারা বছরই সেখানকার তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সে. এর আশে পাশে থাকে। এ কারণেই হয়তো আজও অক্ষত থেকে আমাদের বিস্ময়ের যোগান দিয়ে চলেছে এই নাজকা লাইনস। তবে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে সেখানেও। ২০০৭ এর ফেব্র“য়ারীর মাঝামাঝিতে ব্যাপক বন্যা আর ভূমিধ্বসের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ঐ অঞ্চলটি।
ইউনেস্কো ১৯৯৪ সালে পেরুর এই নাজকা লাইনসকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করেছে। সারা বিশ্বের অসংখ্য পর্যটক আজও আসেন এ বিস্ময়কীর্তি দেখবার জন্য।
btrimap
বারমুডা ট্রায়াঙ্গল – মীমাংসিত অলৌকিকতা
অনেক আগ থেকেই পৃথিবীর রহস্যময় কোন স্থান বললেই আমাদের মনে যে নামটি ভেসে উঠত সেটি বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। যেখানে কম্পাস কাজ করে না, কোন জাহাজ গেলে তা আর ফিরে আসে না, ওপর দিয়ে বিমান উড়ে গেলে সেটিকে আর খুজে পাওয়া যায় না। কিন্তু সত্যি সত্যিই কি এ ধরণের কোন স্থান পৃথিবীতে আছে ?
সর্বপ্রথম যে বিষয়টি আমাদের সামনে আসে, তা হল, এই কথিত বারমুডা ট্রায়াঙ্গল আসলে কোথায় ? মূলত আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যাংশের পশ্চিম প্রান্তে সাগরের একটি অংশকেই অভিশপ্ত ট্রায়াংগল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আরও স্পষ্টভাবে, আমেরিকার ফ্লোরিডা, বাহামা এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জকে সীমানা ধরে অঙ্কিত একটি কাল্পনিক ত্রিভূজাকার জলসীমাকেই বারমুডা ট্রায়ঙ্গল নামে অভিহিত করা হয়। এর মধ্যে একটি দ্বীপরাষ্ট্র রয়েছে, বারমুডা (২০০৭ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নেয় দেশটি, সর্বকালের সবচেয়ে স্থূলকায় ক্রিকেটার ডয়েইন লেভেরক কে মনে আছে?) – এই দ্বীপের নামেই জলভাগটির নামকরণ করা হয়।
মূলত ১৯৫০ সালে সংবাদ সংস্থা এপি প্রকাশিত একটি নিবন্ধে সর্বপ্রথম বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে রহস্যময় জাহাজ    অন্তর্ধান হবার সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯৫২ সালে ফেইট ম্যাগাজিনে মার্কিন বিমান বাহিনীর ফ্লাইট-১৯ বিমান বহরের পাঁচটি বিমান একসঙ্গে নিখোজ হবার সংবাদ প্রচার করা হয়। এরপর থেকে আমেরিকার বিভিন্ন ম্যাগাজিনে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল সম্পর্কিত নানান ঘটনা প্রকাশিত হওয়া শুরু করে। ১৯৭৩-৭৪ সালের দিকে বেশ কিছু বইও বাজারে চলে আসে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনাবলী নিয়ে। এক পর্যায়ে এটি বিশ্বের সর্বত্র পরিচিত একটি রহস্যপূর্ণ স্থানে পরিণত হয়। সঙ্গত কারণেই বিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করেন এবং এর ফলে জবাব মিলে যায় সকল জিজ্ঞাসার, মিটে যায় প্রায় কিংবদন্তীতে পরিণত হওয়া বারমুডা ট্রায়াঙ্গল রহস্য।
সর্বপ্রথম ১৯৪৫ সালের ফ্লাইট – ১৯ নিখোজ হবার ঘটনার মধ্য দিয়েই সামনে আসে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্য। এরপর ১৯৪৮ সালে ৩২ জন যাত্রী নিয়ে একটি ডিসি – ৩ ডাকোটা বিমান নিখোজ হয় এখানে। ১৯৬৩ সালে মার্কিন বিমান বাহিনীর দু’টি কেসি – ১৩৫ জঙ্গী বিমান মুখোমুখি সংঘর্ষে ধ্বংস হয়ে যায়। জাহাজের ক্ষেত্রে ইতিহাস আরও পুরোনো। ১৮১২ সালে আমেরিকার সাউথ ক্যারোলিনা থেকে নিউইয়র্ক যাবার পথে ‘প্যাট্রিয়ট’ নামের একটি জাহাজ এখানে নিখোজ হয়, যাতে একজন যাত্রী ছিলেন থিউডোসিয়া, তৎকালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাস্টন বার এর কন্যা। এছাড়াও ১৮৭২ সালে মেরী সেলেস নামে একটি বিখ্যাত জাহাজ, ১৮৮১ সালে নিউইয়র্কগামী ইলেন অস্টিন নামের আরেকটি জাহাজ এবং অন্যান্য আরও কিছূ জাহাজডুবির ঘটনায় প্রসিদ্ধ হয়ে পড়ে এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল।
মার্কিন সাংবাদিক ডেভিড ল্যারি কুশে ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত তার বই ‘বারমুডা ট্রায়াঙ্গল মিস্ট্রি – সলভ্ড’ এ অনেক প্রশ্নেরই যুক্তিগ্রাহ্য জবাব দিয়ে গেছেন। এছাড়াও আধুনিক গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরাও পেয়ে গিয়েছেন তাদের মনের সব প্রশ্নের জবাব।
প্রথমত, বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই পৃথিবীর ভয়ংকরতম নৌপথ ও বিমানের রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানে যে পরিমাণ জাহাজডুবি বা বিমান দুর্ঘটনা হয়, তা পৃথিবীর যে কোন স্থানে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলোর মতই; সংখ্যা বা ধরণ নিয়ে কোন ব্যবধান নেই। ১৯৯২ সালে লন্ডনভিত্তিক নৌ-বীমা কোম্পানি লয়েড্স এর রেকর্ডে দেখা যায়, বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে কোন বিশেষ সংখ্যায় বা অধিক হারে নৌদূর্ঘটনা ঘটে না।
দ্বিতীয়ত, ধারণা করা হত বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের সাথে হারানো মহাদেশ আটলান্টিকের কোন যোগ আছে, যার কারণে সেখানকার জলবায়ুতে ভিন্নতা রয়েছে ও সেগুলোই দুর্ঘটনা ঘটার মূল কারণ। এছাড়াও আটলান্টিকের সাথে ভিনগ্রহের আগন্তুকদের সম্পর্ক খুজে বের করে তাদেরও কিছু প্রভাব থাকার কথা অনেক গবেষকই বলেন। পরে দেখা যায়, যে ধরণের ভূপ্রকৃতি দেখে এ ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি নেয়া হয়েছিল, তা মূলত একটি কোরাল প্রাচীর, যা জিমনি দ্বীপ নামে একটি কোরাল দ্বীপ গঠন করেছে।
তৃতীয়ত, একটি সুবিখ্যাত প্রচলিত কথা হল, বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের সীমানায় কম্পাস কাটা দিক হারায়। এ থেকে সেখানে বিশালাকৃতির চুম্বক বা অন্য কোন মহাজাগতিক উপস্থিতির কথা অনেকে জোর গলায় বলে থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা হল, পৃথিবীর বেশ কিছু স্থান আছে যেখানে প্রাকৃতিক কারণেই কম্পাস কাটা একটু এদিক-ওদিক হয়ে যায়। আমোরকার উইসকনসিন থেকে মেক্সিকান উপসাগর পর্যন্ত সরলরেখা টানা হলে এ স্থানে কম্পাস একটু বিচ্যুতি দেখায়, যা স্বাভাবিক বলেই ধরে নেয়া হয়। যদিও বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে এ ধরণের বিচ্যুতি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়, তবুও যদি তা হয়ও, তাকে প্রাকৃতিক বলেই ধরে নেয়া যেতে পারে।
চতুর্থত, বলা হয়ে থাকে, সেখানে অস্বাভাবিক জলস্রোতের কারণে ঘূর্ণির সৃষ্টি হয় যা একটি জাহাজকে ডুবিয়ে দিতে যথেষ্ট। এর কারণেটিও প্রাকৃতিক। ভৌগলিক ভাবেই মেক্সিকান উপসাগর ও ফ্লোরিডা অববাহিকার নদীগুলো থেকে যে স্রোত সাগরে এসে পড়ে, তার মাত্রা ও বেগ অনেক বেশি থাকে (২.৫ মিটার/সেকেন্ড) এবং এটি কোন ছোট নৌকা বা পানিতে নামতে সক্ষম হালকা সেসনা বিমানকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এছাড়াও ‘রগ ওয়েভ’ বা ‘ফ্রিক ওয়েভ’ – বিশালাকৃতির পাগলা ঢেউ যা নাবিকদের কাছে পরিচিত শয়তানের হাত হিসেবে, প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টি হতে পারে পৃথিবীর যে কোন মহাসাগরে। ১৯৯৫ সালের আগ পর্যন্ত এ স্রোত এক ভয়াবহ অতিপ্রাকৃত শক্তি বলে নাবিকদের কাছে  ধরা দিত, কিন্তু বর্তমানে এটি প্রমাণিত যে এই তীব্র স্রোত বা সাগরের অস্বাভাবিক আচরণ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক একটি বিষয়।
অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, সমুদ্র তলের মিথেন গ্যাস নির্গমন জাহাজডুবির একটি কারণ হতে পারে, কেননা এ গ্যাস পানির ঘনত্ব কমিয়ে দিয়ে একটি জাহাজ ভেসে থাকার জন্য যে ঘনত্ব দরকার, তার নিচে নামিয়ে দেয়। বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে এ ধরণের কোন গ্যানের উৎস থাকার কথা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে প্রণীত একটি রিপোর্টে স্বীকার করা হয়েছে, আবার আরেকটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ১৫০০০ বছরে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের আশে পাশে কোন মিথেন নির্গমনের ঘটনা ঘটে নি।
সবচেয়ে বড় কথা, লোকেমুখে প্রচার হতে হতে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল সম্পর্কে নাবিক ও বৈমানিকদের মনে একটি ভীতি জন্মে গেছে, যার কারণে এখানে উপস্থিত হবার পর অতি সাধারণ কোন প্রাকৃতিক ঘটনা বা খুবই ছোট কোন যান্ত্রিক ত্র“টিও অলৌাকি ঘটনা হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে তাদের মনে। ফলশ্রুতিতে মানসিক কারণেও অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।
তবে কথিত বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এখন পৃথিবীর ব্যস্ততম নৌ-রুট গুলোর মধ্যে একটি। ফ্লোরিডার সাথে বাকি বিশ্বের যোগাযোগ এবং পর্যটনের লীলাভূমি ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের গমনপথও এই ‘অভিশপ্ত’ জলসীমার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। মজার ব্যাপার হল, বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্য উদঘাটিত হবার পর এখানে আর কোন জাহাজ বা বিমান নিখোজ হবার ঘটনা দেখা যায় নি।
শেষ কথা
প্রযুক্তি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে অসামান্য উন্নতি লাভ করবার পর মানুষের সামনে প্রকৃতির অজ্ঞাত এবং রহস্যময়ী রূপ ধীরে ধীরে অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তারপরও অনেক সময়ই ইচ্ছে করে প্রচলিত লোককথা বা কিংবদন্তী গুলোতে রং চড়িয়ে একটি আন্তর্জাতিক পরিচিতি দেবার চেষ্টা করা হয়। তার কারণ? খুব সহজ, পর্যটন ব্যবসার জন্য একটি সহজ ক্ষেত্র তৈরি। আর তাই পেরুর নাজকা লাইনস, বারমুডা ট্রায়াঙ্গল, ইস্টার আইল্যান্ড বা এ থরণের আরও অরেক পুরাকীর্তিকে জগৎবিখ্যাত করে তোলা হয়েছে ভিন গ্রহের আগন্তুক বা অন্য কোন রহস্যময় শক্তির প্রলেপ দিয়ে। তবে উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, মানুষের সৃষ্ট এ সকল পুরাকীর্তি এবং মানুষের তৈরি এ সব কিংবদন্তী আনন্দ, চিন্তা এবং অনেক ক্ষেত্রে শিহরণের খোরাক যুগিয়ে যায় আমাদের সবার জন্য, এই বা কম কি
Advertisements