ক্ল্যারিফিকেশন:- এ লেখাটি একজন আরব মহিলার জীবন কাহিনী, তার বোনের মেয়ের জবানীতে একটি স্মৃতিচারণ। যার সম্পর্কে এখানে লেখা হয়েছে তিনি হলেন হানা আল শাইবানী – ফিলিস্তিন মুক্তি সংগ্রামে প্রাণদানকারী প্রথম ইরাকী যোদ্ধা। আল জাজিরায় প্রকাশিত তার বোনের মেয়ে দিমা শাইবানী যে স্মৃতিচারণ করেছেন তার খালা সম্পর্কে, তারই অনুবাদ এখানে দেয়া হয়েছে।

My Aunt the Revolutionary…..

HANA Shaibani
মূল:- দিমা শাইবানী
অনুবাদ – শাইখ মাহদী

প্রায়ই আমার মনে পড়ে ছোটবেলার সেই স্মৃতিগুলোর কথা, যখন আমি বাসায় পড়ে থাকা পুরোনো অ্যালবামে পারিবারিক ছবিগুলোর মাঝে পঞ্চাশের দশকের ইরাককে দেখতে পেতাম। আমার কোন একজন নানুর বিয়েতে তোলা ছবিগুলো, যেখানে মুক্তোর নেকলেস পরা প্রাণোচ্ছল ছোট ছোট মেয়েরা আর টান টান শর্টস পরা ছেলেদের হাসির মাঝে আমি এক নির্ভীক ইরাককে দেখতে পেয়েছিলাম।

কিন্তু একটি বিশেষ ছবি আমাকে ভীষণভাবে আলোড়িত করেছিল। সেটি ছিল একটি ছোট কিশোরীর ফটোগ্রাফ, অন্তর্ভেদী তার চোখের দৃষ্টি। বলা হল, এটি আমার খালা। যতই আমি তার সম্বন্ধে জানতে থাকি, ততই বিস্ময়ে অভিভূত হতে থাকি।

আমি তাই আজ শোনাতে চাই পঞ্চাশের দশকে বেড়ে ওঠা একজন উজ্জীবিত ইরাকী তরুণীর গল্প; পুরুষশাসিত রাজনীতির জগতে প্রবেশ করে একজন নারীর ফিলিস্তিন বিপ্লবের মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হবার গল্প; প্রতিরোধের পথ বেছে নেয়া একজন সাহসী নারীর গল্প যার মৃত্যুর কারণটি আজও অজানা রয়ে গেছে!

আমি আমার নিজের, পরিবারের সদস্যদের এবং বন্ধু-বান্ধব, সবার স্মৃতিতে আমার খালা সম্পর্কিত জ্বাজ্বল্যমান কিছু টুকরোকে জোড়া দেবার চেষ্টা চালাচ্ছি, যদিও এ ধরণের আলাদা আলাদা স্মৃতিগুলোকে একত্রিত করা আমার জন্য কখনো কখনো খুবই কঠিন হয়ে দাড়ায়।

নির্ভীক এবং দৃঢ়চেতা

আমার খালা হানা আল শাইবানী ১৯৪২ সালের ২৭ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। বড় দু’ভাই এবং ছোট দু’ভাইয়ের মাঝে তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র মেয়ে। তার বাবা ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক। মেয়ের উপর তার প্রভাব ছিল যথেষ্ট এবং আমার খালা যে পর্যন্ত এসেছিলেন তার পিছনে তার বাবার যথেষ্ট অবদান ছিল।

১৯৫৬ সালের দিকে ইরাকে বা’থ পার্টি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করতে শুরু করে। স্বাধীনতা, আরবীয় সমাজতন্ত্র এবং ঐক্য নিয়ে যে শ্লোগানগুলো তারা বের করে, তরুণ সমাজ ব্যাপক হারে তা গ্রহণ করে; হানাও তার ব্যাতিক্রম ছিলেন না। রাজনৈতিক তৎপরতা ও যোগ্যতা প্রমাণের মাধ্যমে শিক্ষাগত যোগ্যতা কম থাকা সত্বেও যখন তাকে বা’থ পার্টির সদস্য করে নেয়া হয়, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৪! বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে তিনি দিনের বেলা পার্টির কাজ করতেন, আর সন্ধ্যাবেলায় ক্লাস করতেন। ১৯৫৮ সালে যখন ইরাকে রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়, হানা দ্রুত উঠতে থাকেন উপরে; ঐ বছরই তাকে বা’থ পার্টির মহিলা সদস্যাদের নেত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়, তখন তার বয়স ১৬ বছর। দু’বছর পর বৈরুতে অনুষ্ঠিত আরব ন্যাশনাল বা’থ পার্টির কনফারেন্সে ইরাক থেকে তিন জন প্রতিনিধি যোগদান করেন, হানা ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তখনও তিনি একজন টিন-এজার, কিন্তু ইতোমধ্যেই যা তিনি অর্জন করেছেন, ঐ অঞ্চলের বেশির ভাগ মহিলা তা কল্পনাও করতে পারতো না।

সব দিক থেকেই তিনি ছিলেন নির্ভীক এবং দৃঢ়চেতা। আমাদের পরিবারে যে সব ঘটনা চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, তার মধ্যে ১৯৫৯ এর ঘটনাটি অন্যতম, যখন আমার খালা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আব্দুল করিম কাসিমের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ডাকা একটি মিছিলে যোগদান করতে যান। পরিস্থিতি খুবই ছিল উত্তপ্ত এবং মিছিলে যোগদানকারী অনেকেরই মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল। কিন্তু খালা মিছিলে যোগদানের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

বিপদ আঁচ করে তিনি তার পিস্তল, যা তিনি বহন করতেন নিরাপত্তার খাতিরে, স্কার্টের নিচে লুকিয়ে সিড়ি দিয়ে নেমে আসলেন। তার বাবা বারংবার তাকে মিনতি করছিলেন না যাবার জন্য। তিনি বলছিলেন যদিও একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে মিছিলে যাওয়া দরকার এটা তিনি বোঝেন, কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে মেয়ের জন্য প্রগাঢ় ভালোবাসাই তাকে বাধ্য করছে তাকে বাধা দিতে। হানার জবাব কি ছিল? ‘বাবা, দেশপ্রেমিক তুমিও, কোন ডাক আসলে কখনো তুমি তা উপেক্ষা করতে পারো নি। একটু বুঝতে চেষ্টা কর, তোমার স্নেহাশীষ ছাড়া নয় বরং তা নিয়েই আমাকে যেতে দাও!’ তার বাবা তাকে আর বাধা দিতে পারেন নি।

আপন সুরের সন্ধানে

মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও হানা বিভিন্ন কারখানায় ও কৃষিফার্মে কাজ করতে বেশি পছন্দ করতেন, যাতে করে সাধারণ মানুষের খুব কাছে আসা যায় এবং তাদের চিন্তাভাবনার গতিধারা বুঝা যায়। এ দুর্বল মানুষগুলোর উপর তার প্রভাবও ছিল শক্তিশালী। মাসান্তে তার বেতনের একটি বড় অংশ তিনি বাগদাদের দরিদ্র অঞ্চলে বসবাসকারী তার পরিবারের কাছে পাঠাতেন।

পুরুষশাসিত সমাজে নারীকে দুর্বল ভাবা হত সব জায়গাতেই, হানার কর্মক্ষেত্রও এর ব্যতিক্রম ছিল না। তবুও তিনি তার আত্নবিশ্বাস আর চেষ্টায় সেই প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের জন্য আলাদা একটি সম্মানের আসন সৃষ্টি করে নিতে সফল হয়েছিলেন। তার সহকর্মীরা তাকে শ্রদ্ধা করতেন, যে কোন অন্যায় রুখে দাঁড়াবার সাহস আর হার না মানা মানসিকতার জন্য।

১৯৬১ সালের দিকে বা’থ পার্টির অভ্যন্তরে কিছু দুর্নীতির ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া যায়। হানা এ অভিযোগগুলোতে খুবই কষ্ট পান। এমনকি পার্টির ভিতরকার এই কদর্য চিত্র তার আস্থার ভিতকেই নড়িয়ে দেয়, এক পর্যায়ে তিনি বা’থ পার্টি ত্যাগ করেন। তিনি নিশ্চিতভাবেই জানতেন, তার এ দলত্যাগ পুরো বা’থ পার্টির কাছেই তাকে শত্র“ হিসেবে দাঁড় করাবে।

এটা ছিল সেই সময়ের কথা যখন আরব বিশ্বে ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলন দানা বেঁধে উঠছিল। এ সময়ই গঠিত হয় পি.এল.ও, জর্দান ও লেবাননকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি সশস্ত্র সংগ্রামী আন্দোলন যাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করা। আরব জাতীয়তাবাদের একজন আন্তরিক সমর্থক হিসেবে হানা এ আন্দোলনটিকে নিজের আদর্শের অনেক কাছের বলে মনে করেন এবং এতে যোগদান করবার তাগিদ অনুভব করতে থাকেন।

সময় নষ্ট না করে হানা লেবানন এবং জর্দান ভ্রমণ করেন, পি.এল.ও পরিচালিত বেশ কিছু সেমিনার ও কনফারেন্সে যোগদান করেন। এ সময় তিনি পি.এল.ও প্রধান ইয়াসির আরাফাতসহ অন্যান্য নেতাদের সাথেও সাক্ষাত করেন।

কিন্তু পি.এল.ও তে যখন বিভিন্ন কারণে বিভাজন সৃষ্টি হয়ে যা, তখন হানা এর উপরও আস্থা হারিয়ে ফেলেন। এ সময় নতুন একটি সংগঠন, ‘ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অফ ফিলিস্তিন’ (ডি এফ এল পি) তাকে আকৃষ্ট করে। হানা দেখতে পান অন্য দলগুলোর তুলনায় এ দলটি শক্তিশালীভাবে আদর্শকে অনুসরণ করে। বাগদাদে ফিরে তিনি তার ভাইদের জানান, ‘ডি এফ এল পি’তে যোগ দেবার জন্য তিনি এবার পাড়ি জমাচ্ছেন জর্দানে।

আত্নত্যাগের স্বপ্ন

জর্দান পৌছে হানা তার ইরাকী পরিচয় লুকিয়ে ফিলিস্তিনি মানুষেদের সাথে তাদেরই একজন হিসেবে বসবাস শুরু করেন। তিনি ‘আমল’ ছদ্মনাম গ্রহণ করেন এবং ফিলিস্তিনি উচ্চারণে কথা বলতে শুরু করেন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, ফিলিস্তিনি মানুষগুলো শুধুমাত্র তখনই তাকে আপন করে নিতে পারবে যখন তারা জানবে তিনি তাদেরই একজন, এবং এর মাধ্যমেইে তিনি তাদেরকে আরও ভালোভাবে সহযোগিতা করতে পারবেন।

তিনি বসবাস করতে শুরু করেন একটি উদ্বাস্তু ক্যাম্পে। সেখানে থেকে তিনি নিয়মিত লেখালেখি করতেন ডি এফ এল পি এর নিজস্ব নিউজলেটারে, দুঃস্থ নারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষন দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করবার চেষ্টা করতেন। কিন্তু এখানে তার মনে দু’টি বিষয় বারবার আলোড়িত হতে থাকে, একটি হল মাকে না জানিয়ে ডি এফ এল পি’তে যোগ দেয়া, আর আরেকটি হল এ দল সম্পর্কে একটি খটকা, সত্যিই কি এ পথ সত্যিকার কোন পরিবর্তন পরিবর্তন আনতে পারবে কি? তার বন্ধুরা ধারণা করেন, তখন যদি তিনি বাগদাদে ফিরে আসতেন, তাহলে ডি এফ এল পি এর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেই আসতেন, কিন্তু ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্বপ্ন বুকে নিয়ে তিনি তার আদর্শে অবিচল থেকে যান।

১৯৭০ সালের পবিত্র মাস মহররম পড়েছিল মার্চে, যে মাসে ইরাকী শিয়ারা রাসূল (সা  এর অতি আদরের নাতি হযরত হুসাইন (রা  এর শাহাদত দিবস পালন করে থাকে। হানা যখন ইরাকে ছিলেন, তখন প্রায়ই তিনি মহররমের শোকর‌্যালীতে যোগদান করতেন। কিন্তু এ বছর তিনি ছিলেন উদ্বাস্তু ক্যাম্পে। এক বিকেলে তিনি রেডিওতে শুনছিলেন দু’জন বীরযোদ্ধার আতœত্যাগের স্মরণে প্রচারিত অনুষ্ঠান, এ সময় তার মনে এক নতুন চিন্তা জেগে উঠল – জীবন দেবার চিন্তা। রেডিওর শোকাভিভূত উচ্চারণের মাঝে তিনি সহকর্মীদের বললেন, তিনি জীবন দেবার স্বপ্ন দেখছেন এবং এ কল্পনাও করছেন, তিনি যদি কফিনে করে বাগদাদে ফিরে যান, তাহলে তার মা কিভাবে তা গ্রহণ করবেন!

স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেবার হানাকে বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। কয়েকদিন পরই, যে দিনে শিয়া ইরাক কেঁদে ওঠে বেদনায়, সেই আশূরার দিনে হানা মৃত্যুবরণ করেন। দিনটি ছিল ১৯৭০ এর ১৭ই মার্চ, তার বয়স ছিল মাত্র ২৮ বছর।

আজ পর্যন্ত হানার মৃত্যু সম্পর্কে বিভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে সকলে একমত যে জর্দানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ইরবিদে তার মৃত্যু হয়। কেউ কেউ বলেন, ডি এফ এল পি’র একটি নিয়মিত মহড়া চলাকালে দুর্ঘটনাক্রমে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। আবার অনেকে বলেন, ট্রেনিং চলাকালে অসাবধানতায় তার নিজের অস্ত্রটিই হাত ফসকে পড়ে যায় এবং মাটিতে ধাক্কা খেয়ে তা থেকে গুলি বেরিয়ে গিয়ে তাকে বিদ্ধ করে। তবে ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয় একটি বুলেট, যা সরাসরি তার হৃৎপিন্ডের মাঝখানটি বিদীর্ণ করেছে।

স্বাধীনতার মূল্য

আমাদের পুরো পরিবার খালার মৃত্যুতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ইরাকী সরকার তাকে ‘শহীদ’ ঘোষণা করে, প্রথম ইরাকী যোদ্ধা হিসেবে যিনি ফিলিস্তিন মুক্তি সংগ্রামের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার স্বপ্নটি পূর্ণ হয়, ফিলিস্তিনী পতাকায় জড়ানো কফিনে করেই বাড়িতে ফেরেন তিনি। হাজারো মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত খালার কফিনটি যখন দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, প্রথানুযায়ী মহিলারা কফিনের উপর চকোলেট ও মিষ্টি ছড়িয়ে দিচ্ছিল।

এটি ছিল চল্লিশ বছর আগেকার একটি ঘটনা, কিন্তু একজন আরব মেয়ে হিসেবে আমার কাছে হানা আল শাইবানী চিরজীবন্ত একটি প্রেরণার উৎস। যে আদর্শে তিনি বিশ্বাস করতেন, তা থেকে কোন কিছুই তাকে বিচ্যুত করতে পারেনি, এবং আদর্শের বাস্তবায়নে তিনি কখনো কারো চেয়ে পিছনে থাকতে চাননি। তিনি সেই মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করতেন যা চিন্তা ও কর্মের দিক থেকে এখনকার মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে ছিল।

অনেকে তাকে শহীদ বলেন, বীরযোদ্ধা বলেন, ইরাকের একটি অহংকার হিসেবে গণ্য করেন। কিন্তু কখনও তাকে ‘মুসলিম’ বা ‘শিয়া’ বা ‘সুন্নী’ বলে চিহ্নিত করা হয়নি। যদিও এ সময়কার মিডিয়া এবং জনমানুষের চোখ তাকে ঐ ধরণের কোন রং দিয়ে রাঙিয়ে দেখতে বেশি পছন্দ করে।

বহু বছর আগে আমার খালার যে ছবিটি আমি দেখেছিলাম, তা আমি আমার হৃদয়ের মণিকোঠায় সাজিয়ে রেখে দিয়েছি। খালার মৃত্যুর পর এ ছবিটি দিয়ে একটি পোস্টার তৈরি করে ইরাকের দেয়ালে দেয়ালে লাগানো হয়েছিল। পোস্টারটিতে লেখা ছিল:-‘মৃত্যু অবশ্যই আসবে, কিন্তু উপযুক্ত মূল্য না পেলে মৃত্যুকে কিছুতেই বরণ করা উচিত নয়; আর স্বাধীনতার চেয়ে উপযুক্ত মূল্য আর কিছু হতে পারে না………..’

Advertisements