আমরা সব পারি………..

স্বপ্ন দেখার সময় নিজেকে আকাশের সীমানা ছাড়িয়ে দূরে কোথাও ভাবতে খুব বেশি কষ্ট হয় না, কিন্তু রূঢ় বাস্তবতা সব সময় টেনে নামিয়ে আনতে চায় জড়তা আর রেষারেষির এ পৃথিবীর বুকে। তবুও সবকিছু ছাপিয়ে যখন একটি স্বপ্ন সত্য হয়ে দাঁড়ায়, তখন এক অন্যরকম ভালোলাগায় ভরে যায় হৃদয়-মন।

074

প্রিয় শিক্ষকদের সাবধানবাণী আর ক্রমাগত উপেক্ষায় মন বিষিয়ে উঠেছে অনেক বারই। যে বন্ধুদের পাশে পাব বলে আমরা সাহস করেছিলাম এক অসম্ভবকে জয় করার, তাদের অভিমান করে সরে যাওয়া বুক ভেঙ্গে দিয়েছে বার বার। সীমিত সাধ্য নিয়ে যাদের কাছে গিয়েছি, সন্দেহ ভরা ভ্রূকুটি আর তাচ্ছিল্যের অপমান সইতে চাইনি, সইতে হয়েছে। ফলাফল – হতাশার সাগরে ডুব দেয়া, ক্রমাগত তারিখ পরিবর্তন আর স্থান নিয়ে মনকষাকষি, সিদ্ধান্তহীনতা। বার বার ভয় হচ্ছিল, তরী কি তীরে ভিড়বে না? ২-১ ব্যাচ আগের পূর্বসূরীরা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, মহা সমারোহে আয়োজন করে পরবর্তীতে টাকা ফেরত দিয়ে দেবার, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে না তো! তবুও আশার বাতিঘরের নিভু নিভু আলো আমাদের জাগিয়ে রেখেছে সব সময়ই। কারন, আমরা যে সব পারি!!!

Image01

প্রথম অভিজ্ঞতা, দুরু দুরু বুকে এক চ্যালেণ্জ নিয়ে কাজ করতে হয়েছে সর্বক্ষন। বন্ধুরা আমার, তোমাদের যদি সে সময় পাশে না পেতাম, এ সিদ্ধান্তহীনতা আর অব্যবস্থাপনা যদি তোমরা হাসিমুখে মেনে না নিতে, কি হত তা ভাবতেও ভয় লাগে। কৃতজ্ঞতা বা ধন্যবাদ জানাবো না তোমাদেরকে। কারণ, নিজেকে কি নিজে ধন্যবাদ দেয়া যায়? আমরা সবাই কাজ করেছি একসাথে – কেউ দেহে, কেউ মনে। দেরী করে যাত্রা, ধীর গতির নড়বড়ে বাহন, ভীত এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনা, প্রখর রোদ, সময়ের টানাটানি, দীর্ঘ যানজট আর অম্লমধূর কিছু ঘটনা……..এই তো আমাদের প্রাপ্তি। শুধু কি তাই? যাবার আগে গুরু মাইমুল স্যার বলেছিলেন, যে মন নিয়ে যাচ্ছেন, তার চেয়ে অনেক বড় মন নিয়ে ফিরে আসতে হবে। আসি নি আমরা, বল? আজ ১৪টি মাস পাশাপাশি ক্লাস করেও যার সাথে কখনো একটি কথাও হয়নি, সে বন্ধুটিকেও পেয়েছি এক উচ্ছল ও প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে। দ্বিধা-সংকোচের দেয়াল ভেঙ্গে গেছে এক নিমেষেই। এ সাফল্য আমাদের সকলের, একান্ত আপন।

Image02

বন্ধুরা, ঐতিহাসিকভাবে এটা নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে, আইন বিভাগের স্মরণকালের ইতিহাসে এ রকম ক্রিয়েটিভ এবং মেধাবী কোন ব্যাচ আর আসে নি। কোথায় নেই আমরা? আইন শাস্ত্রের একমাত্র সহশিক্ষা কার্যক্রম মুটিং – আমাদের ব্যাচ থেকে অংশগ্রহণ সেখানে সবচেয়ে বেশি। আমাদের ক্লাসের ফার্স্ট বেঞ্চ ইন্টেলেক্ট সোসাইটি আর লাস্ট বেঞ্চ ভাদাইম্যা গ্যাং – এবং মাঝখানের সবাই, ক্লাসের মধ্যেই লেখাপড়া – বাঁদরামো – ফাকি – গবেষণা – রুপচর্চা – খেলা – খাওয়া – ঘুমানো – প্রেম, নিজ নিজ সকল ক্ষেত্রে সবচেয়ে উজ্জল। আমাদের ব্যাচের কয়েকজন ছাত্র গঠন করছে স্কুল অফ জুরিসপ্রুডেন্স, কেউ কেউ প্রকাশ করতে যাচ্ছে ত্রৈমাসিক আইন ম্যাগাজিন, আল্লাহর অসীম দয়ায় কোন ঝামেলা ছাড়াই করে সবাই মিলে করে এসেছে একটি বনভোজন – এবং এ সবগুলো কাজই হচ্ছে কোন ধরণের বাইরের আনুকূল্য (এমন কি ডিপার্টমেন্ট) ছাড়াই, আমার বন্ধুদের মেধা, শ্রম এবং নিজেরে পকেটের টাকায়। কেন? কারণ. আমরা সব পারি, তাই।

তাই, প্রিয় বন্ধুরা, এসো আমরা সকল সংকীর্ণতা কাটিয়ে উঠি। হল, এলাকা, আঞ্চলিকতা, এমন কি স্কুল-কলেজের সম্পর্কের গন্ডির মধ্যে নিজেদের আটকে না রেখে সর্বজনীন বন্ধূত্ব আর সহমর্মিতা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ব্যাচ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করি। অসম্ভব বা অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে?

অসুবিধা কোথায়, আমরা যে সবই পারি!!!!

8 April ~ 2011

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s