ছিমছাম একটা বাড়ি, তার নীচ তলায় একটা সাইনবোড।

 

 আবু সাদাত মো: সায়েম আলী পাঠান

এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট

এল এল বি, এল এল এম (ঢাবি)। ডিপ্লোমা ইন ল (ইউ এল)

প্রভাষক, আইন বিভাগ, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

খটোমটো এ পরিচয়ের আড়ালের মানুষটা কিন্তু সেই এভার স্মাইলিং সায়েম ভাই। ক’দিন ধরেই ব্যাপক তোড়জোড়, আয়োজন আর আমাদের অপেক্ষা। আনঅফিসিয়াল হলেও সম্ভবত মূট সোসাইটির প্রথম (আমার দেখা) পিকনিক হতে চলেছে নরসিংদীর মেঘনা পাড়ে। শীতের দিন সাত সকালে যাত্রাবাড়ির জ্যাম ঠেঙ্গিয়ে যাত্রা হল শুরু। দু’টো নোয়াহ, প্রথমটায় সায়েম ভাই, এরশাদ ভাই, সারোয়ার ভাই আর ইমরানকে নিয়ে এক ঝাঁক হোয়াইট স্কিন-u গার্লস সহকারে পথ দেখিয়ে চলছেন। পেছনে যথারীতি সুপ বয়েজ – তনয় ভাই, সজীব ভাই, মাবরুক ভাই আর নিবির ভাই, সাথে সুপ বয়েজ জেনারেশন এক্স হিসেবে আমরা। হার এক্সিলেন্সী জাস্টিস ফেরদৌসী (?!!) দয়া করে আমাদের গাড়িতে অবস্থান নেয়ায় আমরা কৃতার্থ ছিলাম সারাটা পথ।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ ক’বারই লিখেছেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে অতিথিপরায়ণ হল বাংলাদেশী মানুষ, যারা এমনই এক জাত…….অতিথির জন্য সকালের নাস্তায়ও কোর্মা পোলাও এনে ধরে। সায়েম ভাইয়ের মায়ের ’সেইরকম’ রান্নার পাশাপাশি (শ্রেষ্ঠাংশে মুরগী-গরু-ডিম-খিচুড়ী ও আরও অনেকে) সায়েম ভাইয়ের বাবার উষ্ণ অভ্যর্থনা………. লিখে পুরোটা বোঝানো আসলে খুবই কঠিন ব্যাপার……. 🙂

DUMCS Picnic

নরসিংদী থানাঘাট থেকে যাত্রা হল শুরু………..আমাদের সাথে যোগ দিলেন পিনাকী দা। বিশাল নৌকা, মানুষ মাত্র আঠারো জন। শান্ত পানি কেটে একে একে নৌকা আগাচ্ছে আর সজীব ভাই বারে বারে জানতে চাচ্ছেন…… why this kolaveru di?। গলুইয়ের উপর বসে টাইটানিক পোজে ছবি, ধেয়ে আসা স্পিডবোটের ঢেউয়ে নৌকার দুলুনি, তনয় ভাইয়ের গভীর জীবন দর্শন সম্বলিত আলোচনা (এক্সক্লুসিভ ফর দ্য Soup Boyz ওনলি !!) আর নদীর পাড়ের সেই চিরায়ত দৃশ্যগুলো একে একে ছাড়িয়ে গিয়ে একপর্যায়ে নামা হল জনশূণ্য এক চরে, যার পাড় ছুয়ে গেছে মেঘনার সবুজাভ পানি। তীরে কেটে আসা ঢেউগুলো সমুদ্র সৈকতের কথা মনে করিয়ে দেয়। চরে প্রাণী বলতে আমরা ক’জন ছাড়া কিছু সরীসৃপ আর চিল। এমন সুযোগ কি সহজে মেলে ! মুহিব হাসান আর সম্মানিতা বিচারপতি মহোদয়া উক্ত স্থানে যা যা করিলেন, উহা কেবল বটতলার সাহিত্যেরই অংশ হতে পারে! পিনাল কোডের ৩৭৭ ধারার প্রয়োগ না করে আমরা হাটু পর্যন্ত প্যান্ট গুটিয়ে নেমে গেলাম পানিতে। কেউ বাদ থাকে নি, শুধুমাত্র অভিভাবকের ভূমিকায় মাহদী হাসান সকলের জামা, ক্যামেরা ও মোবাইল – মানিব্যাগ রক্ষার গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। সজীব ভাই আর পিনাকী দা একটা চিল ধরতে চেষ্টা করেছেন বলে শোনা গিয়েছে (আমরা কেউই দেখি নি, সুতরাং উল্টোটাও সত্য হতে পারে;)। নরম বালুতে দর্শনীয় এক দৌড় প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে মুনমুন কিভাবে যে নদীতে পড়লো, সেই জানে।

নদীসম্ভোগ শেষ, এবারে খাবারের প্যাকেটগুলোর অভিমান ভাঙ্গিয়ে পড়ন্ত বিকেলর চকচকে রোদে সবাই চড়ে বসলো ছইয়ের উপর। গ্রামে থাকা হয়নি কখনো যদিও, ডুবোডুবি করতে থাকা পানকৌড়ি পাখিটা প্রথম দেখেও চিনতে ভুল হয় নি। মাঝখানে করিমপুর ঘাটে নৌকা লাগিয়ে খাটি দুধের চা আর নরসিংদীর কলা………. জীবনটা সত্যিই সুন্দর 🙂

অবশেষে থানাঘাটে নেমে বিশাল বটগাছটার নিচে দাঁড়িয়ে মনে হল, ইসস……আরেকটু যদি ঘোরা যেত…………. :S

DUMCS Picnic 02

পাঠান দূর্গে দ্বিতীয়বার হামলা চালিয়ে কিছুটা সময় কাটিয়ে আমরা ধরলাম ফেরার পথ। আসা আর যাওয়ার পুরোটা সময়েই আমাদের গাড়িতে বাজলো রাজ্যের যত ফ্লপ সংস…………… (কোলাভেরি ডি কিন্তু একবার ও বাজে নি!)। অবশ্য হাই (??!!) ফিলসফিক্যাল আলোচনা আর মাঝে মাঝে উলালা…..উলালা টাইপের টিউন, অন্তত সায়েম ভাইয়ের গাড়ির তুলনায় মজা আমরাই বেশি করেছি। সব মিলে সারাটা দিন ছিল নিঃসন্দেহে…….

…….a Kolaveri Day ;))

৯ ডিসেম্বর, ২০১১

Advertisements