নেহায়েত ভালো কিছু মুট কম্পিটিশন এখানে হয়, তা না হলে বাংলাদেশ থেকে ট্যুরিস্ট হিসেবে গুজরাত এবং এর শহরগুলোতে আসবার কোন অ্যাপারেন্ট কারণ নেই, যদি না………

যদি না কোন বিশেষ উদ্দেশ্য না থাকে। ভিসা নিতে গিয়ে আমাদের তিনজনকেই এই প্রশ্নটার জবাব দিতে হয়েছিলো – গুজরাতে কি, কে আছে, কেন যাবো ? সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হোক বা নরেন্দ্র মোদীর এলাকা হোক, ট্যুরিস্টরা খুব কমই ওখানে যান। তবে এটা ঠিক, আহমেদাবাদ শহরটা একদমই আলাদা, অন্য সব শহরের চেয়ে। নিরামিষ খাবার কারণেই হোক বা গান্ধীজির কারনেই হোক, এ শহরের মানুষগুলো খুবই বন্ধুবৎসল আর হাসিখুশি। ইনফ্যাক্ট, চার-পাচ দিন ওখানে থেকে আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছিলো এই শহরে কিভাবে দাঙ্গা হওয়া সম্ভব!!!

G 1
গান্ধী আশ্রমে আবক্ষ মূর্তি

হাওড়া থেকে আমাদের ট্রেন সময় মতই ছেড়ে দিল। ৩৬ ঘন্টার জার্নি, ট্রেনে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্যই ছিলো সাধারণ ভারতীয়দের সাথে মেশার সুযোগ পাওয়া। কিন্তু আমাদের থ্রি টিয়ার কম্পারটমেন্টে সহযাত্রীদের দেখে একটু দমে গেলাম, একটি পরিবার……… বুড়োবুড়ি আর মা-বাচ্চা, আর একটা চ্যাংড়া ছেলে। চ্যাংড়া দেখি উঠেই সিটের তলায় তার স্যুটকেস রেখে একটা চেইন বেধে তালা মেরে দিলো। আমাদের কাছে জিনিসটা একদমই নতুন। জিজ্ঞাস করলাম এটা কি খুবই দরকার? (এসি কম্পারটমেন্টেগুলো এমনিতেই লকড থাকে)। বলল, এসি কামরা মে তো কোই জরুরত নেহি !!! মনে মনে বলি, জরুরত নেহি তো তুমি হালায় বান্ধলা ক্যান  !

ট্রেন ছাড়লো, আর জানা গেলো আমাদের সাথের পরিবারটা খাস গুজরাতি। এদের লাইফস্টাইল সম্পর্কে জানার ব্যাপক আগ্রহ। তাই কতক্ষণ পরই যখন সিটের তলা থেকে একটা অদ্ভুত কাঠের বাক্স (লোকমান ভাই এটার নাম দিসিলেন জাদুর বাক্স) টেনে বের করলো, আমি আপার বাঙ্ক থেকে উকি দিলাম। বাক্স খুলতেই দেখলাম টমেটো, তেলের বোতল টাইপের কিছু হাবিজাবি আর বিশ্বাস করবেন না, চানাচুর !!! (বেসন বা এই জাতীয় কুড়মুড়ে জিনিস গুজরাতিদের কেন এতো প্রিয় আল্লাহই জানেন) সারাটা জার্নিতে এদের ট্রেনের কিছু খেতে দেখি নাই, আর একদিনে গড়ে আট থেকে দশবার এই জাদুর বাক্সের কেরামতি দেখা গেছে। এমনকি সুধীর দা (সেই চ্যাংড়া, যার সাথে আমাদের দুর্দান্ত বন্ধুত্ব হয়ে যায়) নিজেও এদের ফুড হ্যাবিটসে অবাক। উড়িশ্যার ছেলে সুধীর পান্ডে, রিলায়েন্সের ইঞ্জিনিয়ার পোস্টিং গুজরাতেই।

G 2
লোকমান ভাই – “চ্যাংড়া” সুধীর দা – সারোয়ার ভাই

একে একে উড়িষ্যা, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ছাড়িয়ে গুজরাতে ঢুকল ট্রেন। সারা রাত আর দিন ল্যাপটপে মুভি, সুধীর দা’র সাথে তুমুল আড্ডা (বিষয়বস্তু অবশ্যই ১৮+, গুজরাতি আন্টি আর আপু দেখলাম অন্য কোথাও সরে গেলো) শেষ করে নেমে পড়লাম আহমেদাবাদ। স্টেশন থেকে বেরোতে আবার চেকপোস্ট।

– ‘আপ কাহা সে আয়া !’

– বাংলাদেশ।

– ‘হুম, বৈদেশি নাগরিক !!’

ব্যাগের চেকিংটা আরো একটু কড়া হল। মুট কোর্ট কমিটির পক্ষে আমাদের পিক আপ করলো আদিত্য।

আহমেদাবাদ শহরটা দুই ভাগে বিভক্ত – ওল্ড পার্ট আর নতুন শহর, মাঝখানটায় সবরামতী নদী। পুরোন অংশটা মুসলিম প্রধাণ, যথারীতি ঘিঞ্জি আর ভাঙ্গাচুরা টাইপের। পাচ টনি বিশাল অশোক লেল্যান্ডের পাশাপাশি যখন দেখি উট-টানা গাড়ীও মালপত্র নিয়ে হেলেদুলে চলছে হাইওয়ে ধরে, তখন দারুণ লাগছিলো। আমরা তো আর শহরের এই ব্যবধান জানি না, টাটা সাফারি জীপটা আমাদের নিয়ে একেবেকে এইসব এলাকার মধ্য দিয়ে যখন যাচ্ছিলো, তখন ঢাকাইয়া গৌরবে আমার ভাব দেখে কে………… এ কোন শহর হইল !!! তবে নদীটা পার হবার পর থেকেই মোটামুটি আমি ধরা, দুর্দান্ত ইনফ্রাস্ট্রাকচার। আমি প্রেম করি গাড়ীর সাথে, তাই মার্সিডিজ বা বিএমডব্লিউ পর্যন্ত সহ্য করলাম, কিন্তু অডি’র শোরুম আর রাস্তায় ডিসপ্লে করা সারি সারি ব্রান্ড নিউ অডি দেখে আমার মাথা পুরা শেষ। এই জিনিস ঢাকায় নাই !!! নির্মা ভার্সিটির ক্যাম্পাসে গিয়ে ওদের হলে না উঠা পর্যন্ত মাথা ঠান্ডা হলো না :P

Savramati
সবরামতী নদী

মুট কম্পিটিশন চলাকালীন বের হওয়ার কথা ভাবতেও পারিনাই, তাই প্রোগ্রাম শেষ করে আমরা বের হয়ে গেলাম। আহমেদাবাদ শহরে দেখার মত জিনিস খুব অল্প। প্রথমেই গান্ধী আশ্রম। সবরামতী নদীর তীরে ছায়াঘেরা এই আশ্রমে মহাত্না গান্ধী ছিলেন বহুদিন, অসহযোগ আন্দোলনের জন্মও হয়েছিলো এই আশ্রমে। গান্ধীজির নিজের ব্যবহ্রত চরকা দেখে মনে পড়ল স্বদেশী আন্দোলনের কথাও। শান্ত নিস্তরঙ্গ নদীর পাশের চৌচালা একটি ঘর থেকেই শুরু হয়েছিলো ব্রিটিশ রাজ বিতাড়নের নীলনকশা………… ভাবতেই অবাক লাগে। গান্ধী মিউজিয়ামটা পাশেই। সেখানে গান্ধীজির নোয়াখালিতে অবস্থানের কিছু রেলিকস দেখে অদ্ভুত আনন্দ পেয়েছিলাম।

G 4
গান্ধী আশ্রম – এখানেই বাস করতেন মহাত্না গান্ধী

G 6
গান্ধীজির খাস কামরা

G 7
তিনটি জ্ঞানী বানর, যাদের মূলমন্ত্র – Speak No Evil – See No Evil – Hear No Evil

এরপর সিদি সায়িইদের মসজিদ। পুরো পাথরের এই মসজিদটার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এক ধরণের গাছের ডিজাইন করা পাথরের জাল……… যার পুরোটাই এক টুকরো পাথর খুদে বের করা। এই জিনিস উপমহাদেশে আর কোথাও নেই।

G 5
এই ডিজাইনটা এক টুকরো পাথর থেকে বানানো

G 8
সিদি সায়িইদের পাথুরে মসজিদ – এখনো নামায হয়

সিদি সায়িইদের মসজিদ থেকে এরপর খাস পুরনো আহমেদাবাদ শহর। পথে পড়ল আহমেদাবাদ ক্রিকেট স্বর্গ – সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল স্টেডিয়াম। পাশ কাটিয়ে কিছুদূর এগোলে তিন দরওয়াজা নামের একটা প্রাচীন স্ট্রাকচার, তার মধ্য দিয়ে সরু ভীড়ের রাস্তা। অনেকটা আমাদের ঢাকা গেটের মতই তবে আরো গর্জিয়াস এবং……… নোংরা! পুরো এলাকাটা ঢাকার গুলিস্তানের মত, কোন ডিফারেন্স নাই। একটা ছোট গেটের সামনে এসে অটো ড্রাইভার আমাদের নামালো। চারপাশে বিশাল বিশাল হাড়ি নিয়ে দোকান দিয়ে আছে লোকজন……… বিরিয়ানির মন উদাস করা সুবাস মনে করে দিলো এই শহরের মুসলমান জনগোষ্টীর কথা। নির্মা ক্যাম্পাসে গত পাচ দিনের ডাল-ভাত-আলু চচ্চড়ি খাওয়া (যদিও ওদের মেন্যুতে ছিলো সবচেয়ে দামি ভেজ ডিশগুলো – পনির মাসালা, আলু গোভি, ডাল দু’তিন রকম কিন্তু আমাদের কাছে ওগুলো স্রেফ আলু চচ্চড়ি আর কচুপোড়া !!!) আমাদের পেট চুইচুই করছে ওদিকে ঢু মারার জন্য, কিন্তু সাইট সিয়িং আগে।

সরু দরজা, ভিতরে কোন সুবিধজনক জিনিস আছে বলে ভরসা হয় না। যা হোক, ঢুকে গেলাম, আর সাথে সাথে চক্ষু চড়কগাছ। এত বিশাল কম্পাউন্ড, এতো বড় স্থাপনা আর এতো থমথমে একটা জমকালো মসজিদ……………. ছ’শো বছরের পুরনো আহমেদাবাদের শাহী মসজিদ কেন এতো বিখ্যাত বুঝতে পারলাম। পুরোটাই পাথরের, সারি সারি থাম আর পুরু দেয়ালে ভিতরটা ঠান্ডা, নিস্তব্ধ। দুর্দান্ত এই মসজিদে একসময় বীর মুজাহিদরা আসতেন, রাজফরমান জারী হত, অসাধারণ সব ন্যায়বিচার হত আর আজ সেই শহরে মুসলমান পরিচয় দেয়াটাও রিস্কি হয়ে দাড়িয়েছে। দু’রাকাত নামাজ পড়ে দাঙ্গায় শহীদ হওয়া মুসলিমিনদের জন্য মুনাজাত করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম। বেরোতেই মনটা আরো খারাপ হয়ে গেলো। মসজিদটা্র সরু দরজাটা ঘিরে রেখেছে কিছু কাপড়ের ভ্যান, আর সেগুলো যথারীতি মেয়েদের অন্তর্বাস। জানি না এই সেটিংটা কি ইচ্ছাকৃত, না কাকতালীয়। অবশ্য নরেন্দ্র মোদী’র কাছে এর চেয়ে ভালো আর কি ই বা চাওয়ার আছে।

G 9
আহমেদাবাদ শাহী জামে মসজিদ

আমাদের মুটের ক্লোজিং সেরিমনিটা ধরার তাড়া ছিলো, তাই বিরিয়ানীর প্রাণকাড়া ডাক উপেক্ষা করেই চললাম পরের গন্তব্যে। ল গার্ডেন………… আইন বাগান !!!! আহমেদাবাদ শহরের সবচেয়ে বড় পার্কটার এই নামকরণের উদ্দেশ্য কি তা বুঝলাম না। সাজানো গোছানো পার্ক, যেমনটি হয়ে থাকে। এরপর ইসকন কৃষ্ণ মন্দির। এখানে যাবো শুনে ড্রাইভার একটু অবাক হয়েই তাকালো। বুঝলাম না, মুসলমান হয়ে মন্দির দেখবো শুনে এতো অবাক হওয়ার কি আছে !!!

G 10
ইসকন মন্দিরের আউটলুক

ইসকন মন্দিরের ভেতর ছবি তোলা নিষেধ। ভিতরে কিছু অসাধারণ গ্রাফিটি আকা, শ্রী কৃষ্ণের জীবনের বিভিন্ন দিক। এক কোণে রাধাশ্যামের বিগ্রহ, তার চারপাশে মাথা হেট করে আছে ভক্তকূল। মন্দিরের উপরে একটা চওড়া গম্বুজ, তাতে সাইক্লিক অর্ডারে আরো কিছু ঘটনা সাজানো, খুবই জীবন্ত। ফেরবার পথে আরেকটা তীর্থে ঢু মারলাম, শ্রী গোবিন্দজী গুরুদুয়ারা। আসা যাওয়ার পথে এটার চকচকে সাদা আউটলাইন আর ডেকোরেশন দেখে চোখ টেরিয়ে গিয়েছিলো, আর এবার ঢোকার সময় শিখ লোকজনকে দেখে মাথা ঘুরে গেলো। একবার আমাদের ঢাবি ক্যাম্পাসের গুরুদুয়ারা নানকশাহীতে ঘুরতে গিয়ে ওখানকার রক্ষকের কোমরে একটা ভয়াবহ কৃপাণ বাধা দেখেছিলাম, সাথে কমপ্লিমেন্টারী হিসেবে ঘন দাড়ী আর পাকানো গোফ। সেই থেকে এই শিখ জাতিটাকে বড়ই ভয় পাই, আর তাদের ফিজিক যে শক্তিশালী। পাঞ্জাবী মেয়েরা জাতিগতভাবে বেশ সুন্দরী, কিন্তু তাকিয়ে দেখতেও ভয় লাগে, ভালো ছেলের মত চোখ নামিয়ে চলে আসলাম। ক্যাম্পাসে ফিরে আমাদের আহমেদাবাদ ভ্রমণের ইতি।

G 11

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি হয়েও নির্মা ইতোমধ্যেই নাম করতে শুরু করেছে

বিকেলটা আমরা কাটিয়ে দিতাম সারখেজ-গান্ধীনগর হাইওয়ে ধরে হাটতে হাটতে। ধুলো ঊড়িয়ে গাড়ি চলে তীরবেগে, আর সেই ধূলোয় স্নান করে মানুষজন খোলা আকাশের নীচে চৌকিতে বসে বসে ঐ বেসনজাত মুচমুচে খাবার-দাবার নিয়ে কাটিয়ে দেয় অলস সময়। আমরাও বেশ ক’বার ট্রাই করেছিলাম………… সাথে অত্যধিক পেয়াজ, নোনতা চাটনি আর রায়তা টাইপ পানসে পানসে সব সস। শেষে সারোয়ার ভাই সুবিধা করতে না পেরে সবজি খিচুড়ি খাওয়া শুরু করলেন, আর ঐ ধুলার রাজত্বে আমি মনের আনন্দে একের পর এক চাপাটি সাটতে লাগলাম। চেনা সব্জির মধ্যে আছে আলু, বেগুন আর বাধাকপি আর কচি মিরচ !!! (কাচা মরিচ) …………… কেন যে নিজেদের এরা জগতের স্বাদ সাম্রাজ্য থেকে বঞ্চিত রেখেছে, কে জানে।

রাত হলেই শুরু হতো আরেক মজা। দ্রুম দ্রুম বিকট সব শব্দে আমরা আতকে ঊঠতাম প্রতি রাতেই। প্রথম যেদিন শুনলাম…… সারোয়ার ভাই বললেন, স্টেনগান ফায়ারিং। লোকমান ভাই বললেন, পিস্তল। আমি ভাবলাম দাঙ্গা। সকালে আমাদের টিম ম্যানেজার বললো, আর কিছুই না……. আতশবাজী ! ভারতের বিয়ের অন্যতম অপরিহার্য অনুষঙ্গ হলো এই ফায়ারওয়ার্কস, আর তার ধুন্ধুমার শব্দে আমাদের ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা

গুজরাতের আরেকটা চোখে পড়ার মত বিষয় হলো মানুষ। একটা নরমাল সিএনজি অটোরিক্সায় কতজন আটে, ভাবুন তো ! ঢাকায় চারজন পূর্ণবয়স্ক লোক কি পেছনে বসতে পারবে, বা বসতে চাইবে ? ওখানে রাস্তায় হাত দেখালে অবলীলায় থেমে যায় যে কোন ট্যাক্সি, এবং নারী পুরুষ নির্বিশেষে দুমড়ে মুচড়ে পাচজন পর্যন্ত পেছনে বসে চলে যায়, একদম নরমাল !! রাস্তাঘাটে কথাবার্তাও যথেষ্ট ফ্রেন্ডলি এবং হেল্পফুল। ইসকন টেম্পলের কাছে আছে বিগ বাজার, শহরের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু বলা যায়। মাথা খারাপ করা সব শপিং মল চারপাশে……. আর এর ভেতর দুর্দান্ত কিছু অ্যামিউজমেন্ট সেন্টার। হাসি খুশি আনন্দের এই লহরীতে দাঁড়িয়ে এখনও আমার বিশ্বাসই হয় না এই শহরে জ্যান্ত মানুষ আগুনে পুড়িয়ে উতসব করা হয়েছে।

যদিও খুব বেশি ট্যুরিস্ট এখানে আসেন না, যারা আসেন তারা সমাদরটা তাই একটু বেশিই পান।

ট্র্যাভেল হেল্প –
কোলকাতা থেকে হাওড়া আহমেদাবাদ এক্সপ্রেস আছে প্রতিদিন, মঙ্গলবার পাবেন হাওড়া পোরবান্দার এক্সপ্রেস………… সময় নেবে ৩২-৩৬ ঘন্টা। থ্রি টিয়ার এসিতে পড়বে ১৫৫০ রুপী, নন এসি স্লিপারে খরচ অর্ধেক। ঢাকা থেকে প্লেনে গেলে পড়বে ১৯,০০০ র কাছাকাছি, কলকাতা থেকে ৯০০০ (জেট এয়ার, কিংফিশার)। থাকবার জন্য শহরের পুরনো অংশই ভালো। কম দামে ভালো হোটেল পাবেন, মোটামুটি ৫০০ রুপী থেকে শুরু। সারাদিন ঘোরাঘুরি করতে একটি অটো রিজার্ভ করে নিতে পারেন, ছয়-সাতশ রুপী পড়বে। হাতে সময় থাকলে গুজরাতের নতুন রাজধানী গান্ধীনগরও ঘুরে আসতে পারেন, দূরত্বটা ৩০-৩৫ কিঃমিঃ। সেখানে অক্ষরধাম টেম্পলে একটা লাইট এন্ড সাউন্ড শো হয়য়, খুবই বিখ্যাত। (আমরা দেখিনি !!) খাওয়া দাওয়া তো মূলত নিরামিষ, খরচ খুব বেশি না। একটু খুজলে নন-ভেজ ও পেয়ে যাবেন, এমনকি স্পেশ্যাল এগ রেস্টুরেন্ট ও আছে !!! হালাল খেতে চাইলে জামে মসজিদ চলে যাবেন। গুজরাতের মেমেন্টো রাখতে চাইলে ল গার্ডেনের পাশেই অনেক হ্যান্ডীক্র্যাফটস এর দোকান পাবেন।

ভালো কথা, আহমেদাবাদে মানি এক্সচেঞ্জ একটা বড় সমস্যা। ইস্কন শপিং মলে একটা মাত্র আমরা পেয়েছিলাম, তাও পুরা ধরা খাওয়ায় দিসিলো।

শুষ্ক গরম, নিরামিষ খাওয়া আর গান্ধীজির আদর্শ মিলে মিশে জিনিসটা দাঁড়ালো কি………… দেখে আসুন একবার আহমেদাবাদে !

Advertisements