উসমানিয়া খিলাফতের পীঠস্থান তুরস্ক প্রথম মহাযুদ্ধের পর কামাল আতাতুরকের হাতে ধবংস হয়ে যায়। আধুনিকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার নামে যাবতীয় ইসলামী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। এর বিপরীতে সাইয়েদ বদীউজ্জামান নুরসী (রঃ) গড়ে তোলেন একটি আন্দোলন। তার রিসালাহ-ই-নূর পত্রিকার মাধ্যমে তুরস্কের দ্বারে দ্বারে পৌছে যায় ইসলামের আহবান। এর ধারাবাহিকতায় আদনান মেন্দারেসের নেতৃত্বে তুরস্কে ইসলামপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসে পঞ্চাশের দশকে। কিন্তু কামাল আতাতুরকের প্রেতাত্না হয়ে থাকা ধর্মনিরপেক্ষ সেনাবাহিনীর এক অভ্যুত্থানে শাহাদাত বরণ করেন প্রধাণমন্ত্রী আদনান মেন্দারেস। এরপর থেকে কঠোর শাসন ও সাংবিধানিক বিধিনিষেধের কারণে তুরস্কে ইসলামের পুনঃজাগরণ এক প্রকার অসম্ভব মনে হতে থাকে। কিন্তু আশির দশকে আবার নাজিমুদ্দিন আরবাকানের নেতৃত্বে জেগে ওঠে ইসলামী আন্দোলন। সাইয়েদ নুরসীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আল্লাহর সৈনিকেরা একে একে সকল বাধা অতিক্রম করে বর্তমানে তুরস্ককে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে, যার ফলে সমগ্র মুসলিম জাহান আজ তুরস্কের দিকে তাকিয়ে খুজে নিচ্ছে অনুপ্রেরণা।

TTTT 02

১৯৮০ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ঐতিহ্যবাহী মুসলিম দেশ ও তুরস্ক খেলাফতের পীঠস্থান তুরস্কে সরকারি অফিস-আদালত,স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম মেয়েদের হিজাব পড়া নিষিদ্ধ করা হয় এবং তাদেরকে নগ্নভাবে চলাফেরা করতে বাধ্য করা হয়। দেশটির এলিট শ্রেণী সেক্যুলারিজম রাষ্ট্র ধর্মের মর্যাদায় এবং কামাল পাশাকে দেবতার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। ধর্মনিরপেক্ষতা লংঘনের অভিযোগ এনে দেশটির সাংবিধানিক আদালত এ পর্যন্ত ২০টি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজমুদ্দিন আরবাকানের ওয়েলফেয়ার পার্টিও রয়েছে। নাজিমুদ্দিন আরবাকানের রাজনৈতিক শিষ্য হিসেবে ধীরে ধীরে পটভূমিতে আসেন রজব তাইয়েব এরদোগান। আরবাকানের ওয়েলফেয়ার পার্টির পক্ষ থেকে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। তার জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কারণে মেয়র হিসেবে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৯৭ সালের ১২ ডিসেম্বর দক্ষিণ তুরস্কে এক জনসভায় তুর্কি জাতীয়তাবাদী কবি জিয়া গোকাল্পের একটি কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে আলোচনায় ঝড় তোলেন। এ কবিতা আবৃত্তির দায়ে তুর্কি সেক্যুলার সরকার তাকে দণ্ডিত করে। ১৯৯৭ সালে ওয়েলফেয়ার পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ দলের সদস্যরা ভার্চু পার্টি (ফজিলত পার্টি) নামে নতুন দল গড়ে তোলেন। কিন্তু ১৯৯৯ সালে এ দলকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ বছরই এরদোগানের নেতৃত্বে গঠিত হয় জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি। ২০০২ সালের নভেম্বরে পার্লামেন্ট নির্বাচনে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বিজয়ী হয়েও আইনগত নানা প্রক্রিয়ার কারণে এরদোগানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া বিলম্বিত হয়। অবশেষে ২০০৩ সালের ১৪ মার্চ তিনি তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কারণ মেয়র থাকা অবস্থায় কবিতা পড়ার কারণে তিনি শাস্তি ভোগ করছিলেন। আর এ কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তার শাস্তির মেয়াদ শেষ হলে এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল তার আসন থেকে পদত্যাগ করলে সে আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থী হন এরদোগান। নির্বাচিত হয়ে তিনি পার্লামেন্টে আসেন। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

২০১২ সালের তুরস্কের ১২ জুনের বহুল আলোচিত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী এরদোগানের দল একেপি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। একেপি ২০০৭ সালের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছে। ২০০৭ সালের নির্বাচনে সাড়ে ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়ে একেপি আসন জিতেছিল ৩৪১টি। এবার ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েও একেপি আসন জিতেছে ৩২৬টি। দেশটিতে একেপি হিসেবে পরিচিত জাস্টিস এন্ড ডেভেলেপমেন্ট পার্টির জনসমর্থন এবং সাংগঠনিক শক্তি ক্রমেই বাড়ছে।

TTTT 05

সর্বশেষ নির্বাচনের জন্য একেপি সংসদের ৫৫০ আসনের জন্য যে প্রার্থী তালিকা নির্বাচনের আগে ঘোষণা করে তার মধ্যে আগের নির্বাচনে (২০০৭) নির্বাচিত মাত্র ১৪৬ জন এমপি স্থান পান। এবারের প্রার্থীদের মধ্যে ৫১৪ জনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি রয়েছে। এমনকি এর মধ্যে প্রতিবন্ধী ছিলেন ১১ জন। মহিলার সংখ্যা অর্ধ শতাধিক। নির্বাচনের আগে থেকেই বিভিন্ন জরিপে একেপি তৃতীয় মেয়াদের জন্য যে ক্ষমতায় আসছে তা পরিষ্কার হয়ে যায়। নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশি-বিদেশি একেপি বিরোধী শক্তি অনেকটা এক হয়ে চেষ্টা করে, যাতে একেপি এককভাবে সংবিধান সংশোধনে সফল না হয়। লন্ডনের ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিন তুরস্কের জনগণকে একে পার্টির পরিবর্তে সিএইচপিকে ভোট দিতে প্রকাশ্যেই আহ্বান জানায়। তবে ২০১২ এর নির্বাচনে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে। সেটি হলো, তুরস্কের রাজনীতি সেক্যুলারিজমপন্থী এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যপন্থী-এ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। এই মেরুকরণে একেপি ক্রমেই শক্তি অর্জন করছে। তবে একই সাথে একেপি বিরোধী শক্তিও সুসংগঠিত হচ্ছে।

একেপি’র সাফল্য

এরদোগানের নেতৃত্বাধীন একেপি সরকারের বড় ইতিবাচক পয়েন্ট,তিনি দেশটির অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। বৈদেশিক সম্পর্কে একেপির দৃষ্টিভঙ্গি ও পদক্ষেপ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। সাম্প্রতিক আরব জাগরণে তুরস্ক প্রত্যক্ষ কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না বলে সমালোচনা থাকলেও এরদোগানের তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা এ জাগরণের ওপর প্রভাব ফেলেছে। বিশেষত লিবিয়া ও সিরিয়ার জাগরণে তুরস্কের নীতির প্রভাব সুদূরপ্রসারী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। একই সাথে মিসরের নতুন ব্রাদারহুড সরকার এবং হামাস-ফাতাহ সমঝোতা এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ইস্যুতেও এরদোগানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

TTTT 03

গত এক দশকে বিশ্ব অর্থনীতি ও খাদ্যপরিস্থিতিতে যে সঙ্কট দেখা দিয়েছে তাতে ক্ষমতাসীন সব সরকারই কম-বেশি জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে সঙ্কটে পড়েছে। তবে এর ব্যতিক্রম ছিল একেপি। দলটির জনপ্রিয়তা গত তিনটি নির্বাচনে অব্যাহতভাবে বেড়েছে। এর মূল কারণটি ছিল ন্যায়বিচার উন্নয়ন ও সুশাসনে দলটি যে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে, তা আগের তিন-চার দশকে দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রক্রিয়া,আরব জাগরণ এবং আফগানিস্তান থেকে ন্যাটোর সৈন্য প্রত্যাহারের আলোচনায় অন্তরালে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে তুরস্ক। ওআইসি নেতৃত্বেও রয়েছে এখন তুরস্ক। মুসলিম দেশ এবং পশ্চিমের নানা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকার জন্য একেপি সরকারের বিশেষ প্রয়োজন ছিল। আরব বিশ্বসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের মধ্যপন্থী ইসলামী দলগুলোর যে উত্থান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে তার জন্যও তুরস্কে এরদোগানের নেতৃত্ব বিশেষভাবে প্রয়োজন।

একে পার্টি পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে মাইল্ড ইসলামিস্ট বা নমনীয় ইসলামপন্থী হিসেবে পরিচিত। দলটির ঘোষিত আদর্শের মধ্যে ইসলাম বা ধর্মের কোনো কথা নেই। পটভূমি ও কাজের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় এর প্রভাব। একে সরকারের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল এবং প্রধানমন্ত্রী এরদোগান দুজনই ছিলেন তুরস্কের সাবেক ইসলামিস্ট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত ড. নাজমুদ্দিন আরবাকানের সহযোগী। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ব্যাপারে আরবাকান ও তার দলকে নিষিদ্ধ করার পর নতুন নামে দল গঠন করেন নিষিদ্ধ রিপাবলিকান পার্টির নেতা কর্মীরা। আরবাকান যখন ১৯৯৭ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন তার দল ওয়েলফেয়ার পার্টির প্রার্থী হিসেবে ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন এরদোগান। আরবাকান এবং তার দলকে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে নিষিদ্ধ করা হলে এরদোগান যে ভার্চু পার্টি গঠন করেন তাতে নেপথ্য উপদেষ্টা ছিলেন নাজমুদ্দিন আরবাকান। অবশ্য পরে দুজনের মধ্যে কর্মপন্থা নিয়ে কিছুটা বিরোধ দেখা দেয়। আরবাকান গঠন করেন ফেলিসিটি পার্টি। আরবাকানের দল ফেলিসিটি পার্টির (এসপি) যেখানে ইসলামী আদর্শের প্রতি বেশি অঙ্গীকার ছিল সেখানে এরদোগানের দল একে পার্টি দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে মূল লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে।

উত্থান ও গৌরবময় পথচলা

২০০২ সালে এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংসদীয় আসন লাভ করার পর অত্যন্ত ধীরে সুস্থে এগিয়েছে একে পার্টি। কতগুলো তাৎপর্যপূর্ণ ইস্যুকে সামনে রেখে একে পার্টি এগিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সামরিক বাহিনীকে নির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য পদ লাভের শর্ত পূরণের জন্য পদক্ষেপ নেয়া, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নৃতাত্ত্বিক বিরোধগুলোকে কমিয়ে আনা, প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘জিরো প্রবলেম’ পর্যায়ে নিয়ে আসা, পশ্চিমের সাথে যৌক্তিক সম্পর্ক বজায় রেখে ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা গ্রহণ আর সুষম বণ্টন সম্মৃদ্ধ উচ্চ হারের প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো। একে পার্টির সরকার এসব লক্ষ্য পূরণে শত ভাগ সফল হয়েছে এ কথা বলা যাবে না। তবে এ ক্ষেত্রে যে অনেক দূর এগিয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। এ সাফল্যের কারণে তুরস্কের নতুন পথের অভিযাত্রায় একে পার্টি জনগণের সমর্থন পায় উল্লেখযোগ্যভাবে।

TTTT 04

একে পার্টির অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য হলো স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দেশের মানুষকে উপহার দেয়া। ২০০২ সালে দলটি ক্ষমতায় আসার আগে তুরস্কের অর্থনীতি ছিল বিদেশি দায়-দেনায় বিপর্যস্ত,বাজেট ঘাটতি রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। সেখান থেকে একে পার্টি এখন তুরস্ককে বাজেট ঘাটতির নিম্নতম পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। গত ৯ বছরে দেশটির জিডিপি দ্বিগুণ হয়েছে। চীন-ভারতের পরই সর্বাধিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখন হচ্ছে তুরস্কে। জি-২০ সদস্যদের মধ্যে তুরস্কের অবস্থান এখন ১৭ নম্বরে। অর্থনৈতিক বিকাশের বর্তমান হার থাকলে আরো এগিয়ে যাবে দেশটির অর্থনীতি। যেসব বড় বড় শিল্পপতি-ব্যবসায়ী আদর্শগতভাবে একে পার্টিকে সমর্থন করেন না তারাও এখন অর্থনৈতিক নীতি পলিসি এবং সুশাসনের জন্য একে পার্টিকে সমর্থন করছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে প্রকাশ্যে এরদোগান সরকার যাই বলুক না কেন তুরস্কে মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক যে আলট্রা সেক্যুলারিজম দেশটিতে চালু করে সেনাবাহিনীকে এর গার্ড বানিয়েছিলেন সে ধারা থেকে এরদোগান দেশটিকে ঘুরিয়ে ঐতিহ্যের ধারায় নিয়ে যেতে চান। এরদোগানের সংবিধান সংশোধন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ধর্মনিরপেক্ষতার নতুন ব্যাখ্যা তাতে স্থান পেতে পারে। সেটি হলো ধর্ম পালন বা অনুসরণের ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতা কোনো বাধা নয়। ধর্মনিরপেক্ষতার মূল মর্ম হলো সব ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। ধর্মের কারণে রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে কোনো বৈষম্য না করা বা রাষ্ট্রের কোনো একক ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা না করা হলো এর মূল চেতনা। তুরস্কের বাস্তবতায় এ রূপান্তরের মূল্যও কম নয়।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একে পার্টির একটি বিরাট সাফল্য রয়েছে। সেটি হলো দলটি মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি মডেল হাজির করতে পেরেছে। সে মডেলটি হলো জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী ভোটের মাধ্যমে দেশ শাসন করা। আর সামরিক বাহিনীকে নির্বাচিত সরকারের অধীনে প্রতিরক্ষা কর্মকাণ্ডে ভূমিকা সীমিত রাখা। তিউনিসিয়া, মিসর,ইয়েমেন,সিরিয়া ও অন্যান্য আরব দেশে যে গণ-অভ্যুত্থান এখন চলছে অথবা সফল হয়েছে সেসব বিপ্লবের নেতারা তুরস্ক থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তিউনিসিয়ার গণ-আন্দোলনের নেতা ঘানুসি তুর্কি মডেলকে ইসলামী দেশগুলোর জন্য অনুসরণীয় বলে উল্লেখ করেছেন। ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রেও তুরস্ক সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।

Advertisements