চান্স পেয়ে আজকেই ঘুরে আসলাম বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক থেকে। নেহায়েত খারাপ লাগল না। তবে সাফারী পার্কের মূল আকর্ষণ – সাফারী কার, সেটা এখনও চালু হয়নি তবে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই হয়ে যাবে। বাঘ সিঙ্গি মামারা তাই আপাতত খাঁচায় আটক আছেন।
Image
ঢোকার গেট
Image
Image
৩,৬৯০ একর জমির উপর নির্মিত এই সাফারী পার্কটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় সাফারী পার্ক। (বর্তমানে পৃথিবীর বৃহত্তম সাফারী পার্কটা হচ্ছে চীনের ঝিয়াংজিয়াং সাফারী পার্ক, আয়তনে এই পার্কের ১০ ভাগের এক ভাগ !!!) তবে ২০১৬ সালে পার্কের সম্পূর্ণ কার্যক্রম শেষ হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পার্কে মনোরেল এবং ক্যাবল কার চালুর সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিশাল এক সাইনবোর্ড দেখলাম, হাতিতে চড়ে সাফারী !!! চালু হবে হয়তো কখনো।

যা যা থাকছে সাফারী পার্কে –

ন্যাচার হিস্ট্রি মিউজিয়াম: এই মিউজিয়ামে প্রায় ২ হাজার প্রজাতির মেরুদন্ডীও অমেরুদন্ডী প্রাণির দেহাবশেষ, স্পেসিমেন ও স্টাফিং সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। এখনও চালু হয়নি।

কৃত্রিম হ্রদ : পার্কের ভেতরে বিচরণরত বন্য পশুপাখির পানীয় জলের উৎস সৃষ্টির জন্য খনন করা হয়েছে ৮টি জলধারা ও ২টি কৃত্রিম হ্রদ।

বায়োডাইভারসিটি পার্ক : বিরল, বিলুপ্তপ্রায় এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছের জিন পুল সংরক্ষণের জন্য ৯৬৫ একর জায়গাজুড়ে তৈরি করা হয়েছে এটা।

কোর সাফারি পার্ক :১,৩৩৫ একর এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কোর সাফারি। এখানে থাকবে বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক,আফ্রিকান চিতা, চিত্রা হরিণ, সাম্বার ও গয়াল। এছাড়াও হাতি, জলহস্তী, নীল গাই ও বারো সিংগা, পাখিদ্বীপ এবং বন্য মোষের অবাধ বিচরণের নিরাপদ স্থান হবে এটি। তবে আমরা বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক আর চিত্রা হরিণ ছাড়া কিছু এখনও পাইনি।  সাফারী চালু হয়ে গেলে অর্থাৎ প্রাণীগুলো অবমুক্ত করা হলে এখানে সাফারী গাড়ি ছাড়া কোনো দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না।

Imageকোর সাফারী পার্ক

Image

বাঘবন্দী ঘর !!!

সাফারি কিংডম : ৫৭৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সাফারি কিংডম। এখানে রয়েছে  প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র, জিরাফ ফিডিং স্পট, পেলিকেন আইল্যান্ড, প্যারট এভিয়ারিসহ দেশি-বিদেশি পাখির আশ্রম। এর এক পাশেই কুমির পার্ক, অর্কিড হাউস, প্রজাপতি, পেঁচা ও শকুন কর্নার, এগ ওয়ার্ল্ড, কচ্ছপ ব্রিডিং সেন্টার, ক্যাঙ্গারু বাগান, ময়ূর ওপেন ল্যান্ড, সার্পপার্ক ইত্যাদি রয়েছে।এর সবগুলো এখনও চালু হয়নি অবশ্য।

এক্সটেনসিভ এশিয়া সাফারি : এই পার্কে এশীয় তৃণভোজী এবং ছোট মাংসাশী প্রাণী,পাখি, সরিসৃপ ও উভয়চর প্রাণী নিয়ে ৮২৪ একর জমির ওপর এটা প্রতিষ্ঠিত।এ ছাড়াও বৃক্ষরাজিসমৃদ্ধ প্রায় ১৫০ একর জায়গায় তৈরি করা হয়েছে হাতির আশ্রম।এই জায়গাটা আমরা ঘুরে দেখতে পারিনি, সম্ভবত এটা এখনও নির্মাণাধীন।

ঠিক এখন জায়গাটার যেই চেহারা, সেটাকে ইনফরম্যাল একটা চিড়িয়াখানা বললেই ভাল হয়। তবে খুব নিরিবিলি, এই যা শান্তি। চুপচাপ দাঁড়িয়ে প্রাণীগুলোকে দেখা যায়। তবে বাঙ্গালীর খাসলত তো আর পাল্টায় না। পার্কে ঢোকার সময় গেটের দারোয়ান বলেছিলো, পিস্তল নিয়ে ঢুকলে ঢোকেন কিন্তু কোন খাবার টাবার নিয়ে ঢোকা যাবে না। তারপরও কুমিরের পুকুরে, লিজার্ডদের খাঁচায় জুস আর পানির বোতল, বিস্কিটের প্যাকেট দেখে অবাক হতে হয়েছে, কষ্ট পেয়েছি তার চেয়েও বেশি।

Image
এভিয়ারীটা জটিল জায়গা। আমাজানের ম্যাকাও পাখিটা টিভিতেই দেখতাম, এইবার সুযোগ হলো ছুয়ে দেখার। তবে ঠোঁটের ধার দেখে ঘাড়ে নেয়া হলো না। হোয়াইট নেক ঈগল দেখে ভালোই লাগল, আর পেলিক্যান পাখি বেশিই সুন্দর।
Imageম্যাকাও দম্পতি !!!
Imageএভিয়ারীর এক সেকশন থেকে অন্য সেকশনে যেতে এরকম ভারী শিকলের পর্দা সরিয়ে ভেতরের আরো দুটো দরজা খুলে যতে হয়।
যারা যেতে চানঃ ঢাকা থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা ছাড়িয়ে রাজেন্দ্রপুর হয়ে নামতে হবে শ্রীপুরের বাগের বাজারে। জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে বাস বা টেম্পো যাই হোক ভাড়া নেবে ২০ টাকা। এরপর সেখান থেকে শেয়ারড অটো বা ট্যাক্সিতে ২০ টাকা নিবে, পার্কের গেটে নামিয়ে দিবে। আর নিজেদের গাড়ী থাকলে তো কথাই নেই, টান দিয়ে চলে যান সরাসরি। পার্কের টিকেট বয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা, এভিয়ারীতে ঢুকতে আলাদা ১০ টাকার টিকেট লাগবে। সাফারী কার চালু হয়ে গেলে সেটার জন্য টিকেট পারহেড ১০০ টাকা, বাচ্চাদের জন্য ৫০ টাকা।
খেয়াল রাখবেন, পার্কের ভেতর খাবার নিয়ে প্রবেশ নিষেধ। বাইরে কিছু চটপটির দোকান মার্কা জিনিস আর ইটালিয়ান হোটেল আছে। ফুড কোর্ট থাকার কথা পার্কে, এখনও চালু হয়নি।
Image
চারটা জিরাফ আনা হয়েছে আফ্রিকান সাফারীর জন্য
বিঃ দ্রঃ পার্কে ঢুকেই মেজাজ প্রচন্ড খারাপ হয়ে যেতে পারে, বিশাল এলাকাজুড়ে বিভিন্ন পশুপাখির মূর্তি আর ছবি। মনে হবে শিশুপার্ক মার্কা জায়গা, তবে মূল আকর্ষণ ভেতরে।
Image

পিচ্চি কুমির !!!

ঘুরে আসুন, দেখে আসুন তবে একটাই অনুরোধ, অযথা হৈ হল্লা করে বন্যপ্রাণীদের উত্যক্ত করবেন না, আর যেখানে সেখানে আবর্জনা বা প্যাকেট-বোতল ফেলবেন না।

হ্যাপী ট্র্যাভেলিং !!!
Advertisements