Book Review – স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্রঃ একটি কার্যকর বিপ্লবের গাইডবুক

বই পড়ে পড়ে কি বিপ্লব শেখা যায় ? বিশেষত একটি স্বৈরাচার সরকার যখন জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে একটি দেশের উপরে, সেই দেশের মানুষ কি বই পড়ে সেই সরকারের পতন ঘটাতে পারে?

প্রশ্নটা আসলে বেশ অবান্তর শোনায়। তবে ১৯৯৩ সালে বার্মার সামরিক শাসনকে চ্যালেঞ্জ করে লেখা একটি নিরস্ত্র বা অহিংস বিল্পবের ‘হ্যান্ডবুক’ শেষ পর্যন্ত এমনই প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিলো, এক পর্যায়ে সামরিক জান্তা আইন করে এই বইয়ের বাহক-পাঠকের জন্য সাত বছরের কারাদন্ডের বিধান করতে বাধ্য হয়।

TAHRIRতাহরীর স্কয়ার – বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচার উৎখাতের পর

বইটির নাম From Dictatorship to Democracy: A Conceptual Framework for Liberation. লিখেছেন জিন শার্প নামক এক মার্কিন ভদ্রলোক। বার্মার সামরিক স্বৈরাচারকে কেন্দ্র করে বইটি লিখা হলেও পরবর্তীতে এটি সার্বিয়া, ইউক্রেন, থাইল্যান্ড, চীন হয়ে সর্বশেষ তিউনিসিয়া, সিরিয়া, মিশর এবং আরব বসন্তের আন্দোলনগুলোতে ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হয়। কোন কোন দেশে এই বইয়ের থিওরীর অ্যাপ্লিকেশন জন্ম দেয় সফল বিপ্লবের, কোন দেশে আন্দোলন হয়ে যায় ব্যর্থ, কোন কোন দেশে আন্দোলন এখনও চলমান। মোদ্দাকথা, মহাত্না গান্ধীর সেই নিরস্ত্র অহিংস আন্দোলনকে এই নতুন শতাব্দির জন্য অনুবাদ করেছেন জিন শার্প। মূল-মন্ত্র গুলোকে এক রেখে বিশ্বের বহু দেশের গনতন্ত্রকামী মানুষেরা তাদের দেশ-পরিস্থিতি-পরিবেশের আলোকে নতুনভাবে সাজিয়ে নিচ্ছে এই ছোট্ট বইটিকে।

এই বইয়ে স্বৈরাচারকে নিরস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে হটিয়ে দিয়ে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবার জন্য যে পদ্ধতি তিনি প্রচার করতে চেয়েছেন, সেটি হলো Political Defiance, বাংলায় যাকে বলা যায়, রাজনৈতিক প্রতিরোধ বা রাজনৈতিক বিদ্রোহ !!! তার এই বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি দিক – সর্বাবস্থায় সহিংস পথ পরিহার করা, এবং আন্দোলনকে সিম্বোলিক করে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। বিশ্বজুড়ে কমলা বিপ্লব, লালশার্ট বিপ্লবী বা রা’বায়া চিহ্নধারী আন্দোলনকারীরা আজ সেই ধারণারই প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। এমন কি বইয়ের শেষে অহিংস আন্দোলন পরিচালনা করবার জন্য ১৯৮টি ‘অস্ত্র’ বা পদ্ধতির কথাও বলে দিয়েছেন তিনি !!!

আসলে স্বচ্ছ ধারণা পেতে মাত্র শ’খানেক পৃষ্ঠার ছোট্ট বইটি সবারই পড়ে ফেলা উচিত। আমি এখানে ছোট্ট একটা সামারি করে দিচ্ছি, যেন পাঠক বইটা সম্পর্কে একটা প্রাথমিক ধারণা লাভ করতে পারেন।

RRRRRRRRRRRRFrom Dictatorship to Democracy: A Conceptual Framework for Liberation.
(স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্রঃ একটি কার্যকর বিপ্লবের রূপরেখা)

Written By – Gene Sharp
Albert Einstein Institute, Boston, USA

ভূমিকাঃ

স্বৈরাচারকে সরিয়ে গণতন্ত্রেকে পুনঃস্থাপন করবার জন্য বিরোধীপক্ষকে অবশ্যই একটা কার্যকর ও বাস্তব স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান গ্রহণ করতে হবে। এই প্ল্যান গ্রহণের মূল উদ্দ্যেশ্য একটি। আর তা হলো, স্বৈরাচারের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো খুজে তাদের দুর্বলতম জায়গাগুলো চিহ্নিত করা, যেন সঠিক সময়ে তাদের উপর কার্যকরভাবে আঘাত করা যায়।

স্ট্র্যাটেজি নেয়ার গুরুত্বঃ

একটি সুপরিকল্পিত এবং বাস্তববাদী স্ট্র্যাটেজী

  • আন্দোলনকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে সহায়তা করবে।
  • সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য যা যা রিসোর্স দরকার তা চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে, কারণ স্বৈরাচারের রিসোর্স সকল দিক থেকেই বিপক্ষের চেয়ে অনেক অনেক বেশি।
  • আন্দোলন যেন একজন স্বৈরাচারকে উৎখাত করে নতুন আরেক স্বৈরাচারের জায়গা করে না দেয়, সেটা নিশ্চিত করবে।
  • স্বৈরাচারের আক্রমণ এবং বিভিন্ন চালের প্রতিরক্ষায় ব্যস্ত না রেখে বরং আন্দোলনকেই গতিশীল রাখবে।

কার্যকর স্ট্রাটেজি না থাকলে আন্দোলন-সংগ্রাম শুধুমাত্র শক্তি আর সম্পদের অপচয় ছাড়া কিছুই হবে না; বরং এটি স্বৈরাচারের ক্ষমতাকে আরও সুসংহত করবে।

Gene Sharpজিন শার্প

বিশেষ যে সকল দিক মাথায় রাখা প্রয়োজনঃ

  • আন্দোলনকে অবশ্যই নিরস্ত্র এবং অহিংস (Non Violent) হতে হবে। সহিংস আন্দোলনের মানেই হচ্ছে স্বৈরাচারের সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গাটিকে (সামরিক বাহিনী) চ্যালেঞ্জ করা, যেটা পুরো ব্যাপারটিকে আরও ঘোলাটে করে তুলবে।
  • আন্দোলনকে গোপন বা আন্ডারগ্রাউন্ড পর্যায়ে না রেখে চেষ্টা করতে হবে যত বেশি সম্ভব গণমানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। প্রকাশ্য আন্দোলনে জনসমর্থন দিন দিন বাড়তেই থাকে, অপরদিকে আন্ডারগ্রাউন্ড কার্যক্রমে কর্মীদের মধ্যে হতাশা এবং ভয় কাজ করে অনেক বেশি। তবে এই ক্ষেত্রে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে স্বৈরাচার সরকারের পক্ষের লোক কিংবা গোয়েন্দাদের অনুপ্রবেশের ঝুকি থাকে। কিন্তু এই ঝুকিটুকু নিতে হবে।
  • স্বৈরাচারকে হটানোর পরিকল্পনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, স্বৈরাচার-পরবর্তী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি টেকসই রূপরেখা প্রণয়ন করা। আন্দোলনের মাঝেও এই সেক্টরে কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।

একটি স্বৈরাচার সরকারের ক্ষমতার উৎসঃ

  • লেজিটিমেসি ও কর্তৃত্বঃ সাধারণ মানুষ মনে করতে পারে যে, এই শাসকগোষ্ঠী (Regime) বৈধ এবং এদের মান্য করাটা নৈতিক এবং আইনগত দায়িত্ব।
  • নিজস্ব দলীয় জনশক্তি ও তাদের সমর্থন। (এরমধ্যে সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের অবস্থান রয়েছে)
  • যাবতীয় রিসোর্স এবং একটি শক্ত আর্থিক ভিত্তি।
  • কঠোরভাবে বিরুদ্ধমত দমন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বা নির্যাতন।

এই ক্ষমতার উৎসগুলোকে কিভাবে চ্যালেঞ্জ করা যায়ঃ

  • স্বৈরাচারী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তা জনসাধারণের সামনে খুব কুশলী ও দক্ষভাবে উপস্থাপন করা।
  • সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বৈরাচারের আনুগত্যের মানসিকতা এবং ভয় দূর করতে প্রচেষ্টা চালানো। এইজন্য সমাজের মধ্যেই ঘটে যাওয়া উৎসাহব্যঞ্জক কিংবা দুঃসাহসী ঘটনার গল্পগুলো তাদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া, যা তাদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।
  • সামাজিকভাবে মানুষকে সঙ্ঘবদ্ধ করে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলা। দশজন একলা মানুষকে আলাদা আলাদা ভাবে জাগিয়ে তোলার চেয়ে তাদেরকে দলবদ্ধ করে তাদের নিজস্ব সামাজিক-রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির জায়গাটা দিয়েই তাদের চোখ খুলে দিতে হবে।
  • শান্তিপূর্ণ হরতাল, অবরোধ, বয়কট কিংবা অর্থনৈতিক কাজের উপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে স্বৈরাচারের রিসোর্স এবং আর্থিক শক্তিকে আক্রমণ করা।

পরিকল্পনা বা স্ট্র্যাটেজি নির্ধারণের ধাপঃ

  • মহাপরিকল্পনা বা চূড়ান্ত প্ল্যানঃ সার্বিক বিষয়বস্তু বিবেচনায় রেখে আন্দোলনের মূল লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা বা Grand Strategy.
  • পরিকল্পনাঃ গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজিকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ছোট ছোট ধাপ ঠিক করে সগুলো বাস্তবায়নের জন্য নেয়া পরিকল্পনা বা Strategy.
  • কৌশলঃ এরপর কোন বিশেষ স্ট্র্যাটেজিকে বাস্তবায়ন করার জন্য গৃহীত বিশেষ কৌশল বা Tactics.
  • পদ্ধতিঃ সামগ্রিকভাবে পরিকল্পনা বা স্ট্র্যাটেজী বাস্তবায়নের জন্য প্রণীত বাস্তবসম্মত ও কার্যকর কর্মপদ্ধতি বা Method.

গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি নেয়ার সময় যা লক্ষ্যণীয়ঃ

  • স্বৈরাচারের দুর্বলতম জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোতে কার্যকর আঘাতের পরিকল্পনা।
  • পুরো আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে চিহ্নিত করা।
  • এই গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজিটুকু সাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। মানুষ যখন দেখবে স্বৈরাচারকে আসলেই ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব এবং সেই প্রক্রিয়াটাও তাদের সামনে পরিস্কার, তখন আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন বেড়ে যাবে।
  • দীর্ঘ চিন্তা এবং পরামর্শের মাধ্যমে যে চুড়ান্ত পরিকল্পনাটা প্রনয়ন করা হবে, সেখান থেকে কোনভাবেই বিচ্যুত হওয়া যাবে না। কোন আকস্মিক আবেগী সিদ্ধান্ত কিংবা স্বৈরাচারের কোন পাতা ফাঁদে পা দিয়ে পরিকল্পনা থেকে সরে আসাটা হবে চূড়ান্ত ভুল।

Orange Revolutionইউক্রেনের কমলা বিপ্লবের কর্মীরা। জিন শার্পের থিওরী তারা পুরোদমে অনুসরণ করেছিলেন।

আন্দোলন/ ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনাগুলো করবার সময় যা মাথায় রাখা প্রয়োজনঃ

  • নিরস্ত্র বা অহিংস আন্দোলনের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে খুব স্বচ্ছ এবং পরিস্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন।
  • কোন কর্মসূচী বা ক্যাম্পেইনটি চূড়ান্ত পরিকল্পনাকে এগোতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করবে, সেটা ভেবে দেখতে হবে।
  • প্রতিটা ভিন্ন কর্মসূচীর লক্ষ্য এবং মূল অংশে থাকবে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণী-পেশার এবং ধারার মানুষজন। একই জনশক্তিকে বারংবার একই ধারার কর্মসূচীতে ব্যবহার করা যাবে না।
  • আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে কিভাবে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যায় এবং একই সাথে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ করে দেওয়া যায়, তা খুজে বের করতে হবে।
  • প্রয়োজনমতে যথাযথ পর্যালোচনার ভিত্তিতে কর্মসূচীতে পরিবর্তন আনা যেতে পারে।

কর্মসূচী বাস্তবায়নের সময়ে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা প্রয়োজনঃ

  • কর্মসূচী কিভাবে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে, এই বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের বিস্তারিত গাইডলাইন দিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। যেমন, কর্মবিরতি বা অসহযোগ আন্দোলনের ক্ষেত্রে, ঠিক কখন-কোথায় কিভাবে করতে হবে এবং স্বৈরাচারের পক্ষ থেকে কি কি প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, সেটা পার্টিসিপ্যান্টদের বুঝিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
  • আন্দোলনকে সকল সময়ে নিরস্ত্র এবং অহিংস রাখবার জন্য মোটিভেশন চালানো প্রয়োজন। প্রয়োজনে বক্তব্য, লিফলেট ব্যবহার এবং উগ্রপন্থী জনশক্তিকে পরিহার করে কাজ করা যেতে পারে।
  • ক্ষুদ্র কিংবা বড় যাই হোক, প্রতিটি কর্মসূচীর বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট এবং সংবাদ সকল ধারার মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিতে হবে। অতিরঞ্জিত কিংবা অসত্য কোন খবর পুরো আন্দোলনের ক্রেডিবিলিটি নষ্ট করে দিবে।
  • যে কোন কর্মসূচীর প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্বৈরাচার কি করতে পারে তা পরিমাপ করতে হবে, এবং এর জবাব হিসেবে আরও কার্যকর কোন পাল্টা কর্মসূচী নির্ধারণ করে রাখতে হবে।
  • প্রতিটি সাফল্য, যত ছোটই হোক না কেন তা উদযাপন করা প্রয়োজন। এটা আন্দোলনকারীদের মনোবল চাঙ্গা রাখবে।

সামগ্রিক আন্দোলনের শুরুর এবং শেষ দিকের কর্মসূচীর মধ্যে ভিন্নতাঃ

  • একদম প্রাথমিক পর্যায়ে, ছোট ছোট লক্ষ্য যেগুলোতে সহজেই সফলতা পাওয়া যায়, সে ধরণের কর্মসূচী নিয়ে এগুনো উচিত। প্রতিটি ছোট সাফল্যই আন্দোলনকে আরও গতিশীল এবং বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখে।
  • স্বৈরাচারের বিভিন্ন অপরাধ, নৃশংসতা এবং দুর্নীতি/ অপশাসনের চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরে এই শাসকগোষ্ঠীর প্রতি জনসমর্থন কমিয়ে আনতে হবে।
  • চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে অসহযোগ কিংবা অবরোধ ইত্যাদি কর্মসূচীর মাধ্যমে স্বৈরাচারের শক্তির কেন্দ্রকে আঘাত করতে হবে। এরপর স্বৈরাচার পতনের লক্ষ্য নিয়ে এগুতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দু’টি বিষয়ঃ

প্রথমতঃ স্বৈরাচার সরকার যদি পুলিশ বাহিনী, সরকারী আমলাতন্ত্র এবং সামরিক বাহিনীকে সম্পূর্ণ নিজের কব্জায় রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে আন্দোলন করে তাকে উৎখাত করাটা অত্যন্ত কঠিন; এমনকি কখনো কখনো সেটা অসম্ভবের পর্যায়েও চলে যায়। তবে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো কোন আন্দোলনেরই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথমেই স্বৈরাচার সরকারের প্রতি সামরিক বাহিনীর আনুগত্যের মাত্রাটুকু যাচাই করে দেখতে হবে। এরপর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আসলে সামরিক বাহিনী নিজেদেরকে কোন কোন জায়গায় ক্ষতিগ্রস্থ মনে করতে পারে, সেটাও পরিমাপ করতে হবে।

R4BIA Egyptস্বৈরাচার বিরোধী মিশরীয় আন্দোলনকারীদের চিহ্ন – রা’বা

গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথে সামরিক বাহিনী সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে, এরমধ্যে রয়েছে স্বৈরাচারের প্রতি আনুগত্য অস্বীকার করা কিংবা আন্দোলনের পর স্বৈরাচারের জন্য ক্ষমতা ছাড়বার একটি সেফ এক্সিট তৈরী করে দেওয়া।

তবে আবারও মাথায় রাখতে হবে, সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো কোন আন্দোলনেরই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। কারণ তাহলে কেবল স্বৈরাচার শাসকের ক্ষমতার হাতবদল হয়, গণতান্ত্রিক মুক্তি আসে না।

দ্বিতীয়তঃ আন্দোলনের সাথে সাথে একটি স্বাধীন ও দেশপ্রেমিক সিভিল সোসাইটি এবং একটি ছায়া সরকার তৈরীর কাজটুকু চালিয়ে যেতে হবে। স্বৈরাচার পতনের সাথে সাথেই দেশের হাল ধরবার জন্য উপযুক্ত নেতৃত্ব তৈরী করাটা বিপ্লবের অন্যতম প্রধাণ শর্ত।

নতুন সরকারের কাজঃ
গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথে নতুন সরকারের প্রথম এবং প্রধাণ কাজ হলো সংস্কার। পূর্বতন স্বৈরাচার শাসনামলের কোন অংশটুকু রেখে দেয়া যায়, এবং কোন অংশগুলো বিলোপ করে ফেলতে হবে তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা থাকলে ভালো। (ছায়া সরকারের মাধ্যমে)। আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণমুখী করে তুলতে যা যা করা প্রয়োজন, তাই করতে হবে।

এরপরের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে স্বৈরাচারী সরকার এবং তাদের দোসরদের পরিণতি। এইক্ষেত্রে দেশের বিরাজমান পরিবেশ-পরিস্থিতির আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তবে কোন বস্থাতেই যেন তা আবার কোন সহিংসতার জন্ম না দেয়, সেটা মাথায় রাখা জরুরী।

বিপ্লবের সাফল্য উদযাপন করা প্রয়োজন, অবশ্যই কিন্তু সতর্কতা (Vigelence) এবং চোখ কান খোলা রেখে। ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসকের কোন পাল্টা মরণকামড় কিংবা যে কোন ধরণের সামরিক অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই কাজ করতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসকের লৌহনিগড়ে আবদ্ধ সমাজ ও দেশে বিপ্লব শেষেই ইউটোপিয়া বা চিরসুখী সমাজ এসে হাজির হবে না। গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথে এক বিশাল পথে চলার সূচনাই হলো বিপ্লব, দেশের শাসক এবং জনগণ সকলেরই সেটা মনে রাখা প্রয়োজন।

যারা বইটি পড়ে ফেলতে চান, নামিয়ে নিন এখান থেকে

জিন শার্প ও তার কাজ, চিন্তাকে আরও ভালোভাবে জানতে এই ডকুমেন্টারীটা দেখে ফেলুন।

পৃথিবীর সকল স্বৈরশাসন আর অবিচার ধ্বংস হোক !!!

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s