রাঙ্গামাটি জেলাটা আমাদের পাহাড়ী তিন জেলার মধ্যে সবচেয়ে প্রমিনেন্ট হলেও আমার যাওয়ার কখনও সুযোগ হয়নি। একবার এক কাজের ফাকে সুযোগ পেলাম কিছু, এক দৌড়ে উঠে গেলাম বাসে। রাতের জার্নি, ভোরে পৌছে গেলাম রাঙ্গামাটি শহরে। Ranga 12শহরটা ছোট, বেশ গোছানো এবং লেকের পাড়ে বলে সারাক্ষণ একটা স্নিগ্ধতা ঘিরে থাকে বলে মনে হয়। আর শহরের শেষ প্রান্তে রিজার্ভ বাজার বা তবলছড়ীতে আসলে অন্যরকম ফিলিংস, অনেকটা দ্য হবিটের লেক টাউনের মত। এই লেক টাউনের আরেকটা মজার বিষয় হলো, এখানে কোন লোকাল বাসটাস না, রিকশা থাকার তো প্রশ্নই আসে না। সিএনজি, অটো আ মাহেন্দ্র টাইপের গাড়ীগুলো দিয়েই এদিক সেদিক যেতে হয়, ভাড়া মোটামুটি রিজনেবল যদিও আমি শুনেছিলাম রাঙ্গামাটি অনেক এক্সপেনসিভ। যা হোক, আমরা শুরু করেছিলাম চাকমা রাজবাড়ী এবং রাজবন বিহার দিয়ে, দেশের বৌদ্ধদের অন্যতম বিখ্যাত একটা বিহার, এবং সবচেয়ে সুন্দর তো বটেই। প্রচুর বানর এখানে, দল বেধে ঘোরাফেরা করছে।

Ranga 16রাজবন বিহার, রাঙ্গামাটি

Ranga 3

বিহারের ভেতর বুদ্ধের ট্যাপেস্ট্রি

Ranga 1

বিহারের মধ্যে বিশাল ঘন্টা

Ranga 5

রাজবন বিহারের বোধিবৃক্ষ

Ranga 4

বোধিবৃক্ষের পাদদেশ। পুরো জায়গাটায় অনেকগুলো ঘটিতে পানি রাখা, এইটার ফাংশন কি তা জানি না

Ranga 7

বৌদ্ধমূর্তি

Ranga 9

রাজবন বিহারের একটা জমকালো অংশ। হোয়াট ইজ ঘ্যাংঘর ??

Ranga 14

বানর সেনাদল, পরিবার বংশ এমনকি মাংকী কিডস, সবই আছে !

Ranga 15

রাজবন বিহার, রাঙ্গামাটি

Ranga 17

এইটা হলো জগতের বিভিন্ন ধাপ ! হায়েস্ট ধাপটা হলো স্বর্গ !!!

Ranga 11

চাকমা রাজা এই কামানটা নাকি মুঘলদের সাথে যুদ্ধে জয়লাভ করে দখল করেছিলেন

রাজদর্শন সেরে আমরা চলে আসলাম পর্যটন কমপ্লেক্সে। রাঙ্গামাটি বলতেই আমরা ছোটবেলা থেকে যে ঝুলন্ত ব্রিজটা দেখে এসেছি, সেটা এইখানেই। কাপ্তাই লেকের শহর লাগোয়া একটা অংশ ঘিরে এই কমপ্লেক্স। এবং ট্যুরিস্টদের জন্য ডেডিকেটেড বলে জিনিসপাতির দাম গলাকাটা। তবে এইখানে পাহাড়ী আনারস দিয়ে বসেছিলেন একজন, পাঁচ টাকা করে প্রতিটা আনারস আর তার স্বাদ? ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। এইখানে লেকে ঘোরার জন্য প্রচুর বোট আছে, তবে দামের বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।

Ranga 6সেই ঝুলন্ত ব্রীজ !

Ranga 2 কাপ্তাই লেক (পর্যটন কমপ্লেক্সের ভেতর)। শুকনো মৌসুম বলে পানি অনেক কম

Ranga 10

ট্রেডমার্ক অফ রাঙ্গামাটি 😉

রাঙ্গামাটি শহরে দেখবার মত জায়গা মূলত এগুলোই। বর্ষা মৌসুমে শুভলং ঝর্না সজীব থাকে, ট্রাইবাল অ্যাট্রাকশন হিসেবে পেদা টিং টিং আর টুক টুক ইকো ভিলেজের নাম জানি, বোট রিজার্ভ করে সেগুলো দেখতে যাওয়া যায়। অবশ্য আমার রাঙ্গামাটি প্ল্যানে আছে বাদুড়ে গুহা আর পাবলাখালী অভয়ারণ্য, যেখানে বন্য হাতি অবাধে ঘুরে বেড়ায়। সময়ের টানাটানিতে কিছুই হলো না। বিকেলটা আমরা কাটিয়েছিলাম রাঙ্গামাটি ডিসি পার্কে। লেকের এক পাড় ঘেসে তৈরি করা ছোট্ট একটা জায়গা, এইখানে ৩০০ বছরের পুরনো এক চাপালিশ গাছ আছে। অলস বিকাল কাটানোর জন্য জায়গাটা খারাপ না।

Ranga 8৩০০ বছর পুরনো চাপালিশ গাছ !

Ranga 18

মন্তব্য নিস্প্রয়োজন

Ranga 13

ডিসি পার্ক থেকে কাপ্তাই লেক

আমরা চলে আসবো খাগড়াছড়ি। দুইভাবে আসা যায়, জলপথে আর সড়কপথে। কাপ্তাই লেকের রিজার্ভ বাজার ঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে সাতটায় একটা যাত্রীবাহী ট্রলার ছেড়ে যায় মহালছড়ির উদ্দ্যেশ্যে। সেখান থেকে জীপে যাওয়া যায় খাগড়াছড়ী। আর আরেকটা হলো বাস, নাম জীপ সমিতি। এই বাসগুলো কিছুক্ষণ পর পর ছেড়ে যায়, রাঙ্গামাটি টু খাগড়াছড়ি ভাড়া সম্ভবত ১৬০ টাকা আর সময় লাগে সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টা। এই বাসটিও মাঝে মহালছড়ীতে একটা শর্ট ব্রেক নেয়। তবে রাঙ্গামাটি থেকে খাগড়াছড়ি আসার রাস্তাটা ছিলো অসাধারণ। খাগড়াছড়ি ছোট্ট শহর, শহরের মধ্যে সেই আলুটিলা রিসাং আর একতা নতুন বৌদ্ধ বিহার, যেখানে বুদ্ধের একটা নিশাল শায়িত মূর্তি আছে। সিস্টেম রেস্টোর‍্যান্টে খাওয়া দাওয়া করে আমরা আমাদের কাজে চলে গিয়েছিলাম, ভ্রমণের এইখানেই সমাপন। বাংলাদেশের বৌদ্ধ কালচারগুলো সম্পর্কে ভালো আইডিয়া পাওয়া যায় রাঙ্গামাটিতে। তবে এখানে আসবার পক্ষে বেস্ট সীজন হলো বর্ষাকাল, মে-জুন থেকে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত।

Advertisements