দেশের সবচেয়ে সুন্দর সমুদ্র সৈকতের নাম কি?

Tek 1অনেকে অনেক বিচের নামই বলতে পারেন, তবে আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে টেকনাফ। পুরো সৈকতে মানুষের কোন আনাগোনা নেই, চক্রাবক্রা রঙ্গিন সব মাছধরা ট্রলারের সারি, সব মিলিয়ে অসাধারণ পরিবেশ। কক্সবাজার থেকে সবাই সেন্ট মারটিন চলে যান, দেশের দক্ষিণতম প্রান্তের এই শহরটা বেশিরভাগ সময়ে অদেখাই রয়ে যায়।

ঢাকা থেকে রাতের জার্নি করে আমরা নামলাম টেকনাফ শহরের একটু আগে, পর্যটন মোটেল নেটং এ। ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে সারাদিন বিচ দেখা, আর পরেরদিন অতি অবশ্যম্ভাবী কুদুম গুহায় হামলা। বাকিটুকু ছবিতেই দেখুন।

Tek 2টেকনাফ সৈকতে বঙ্গোপসাগর

Tek 3

রঙ্গিন ট্রলারের সারি

Tek 8

পাহাড়ের ওপর থেকে নাফ নদী, আর তীরের প্যারা বন

Tek 6

সদ্য ধরে আনা মাছ

Tek 7

নাফ নদী সম্পর্কে জানতে

Tek 11

এই দৃশ্য দেশের আর কোন সৈকতে পাওয়া যাবে না

কুদুম গুহা

সুদীর্ঘ এই বাদুড় গুহায় অজগর সহ অন্যান্য সাপের ভয় ছিল, গেম রিজার্ভে বুনো হাতি দেখার ইচ্ছাও ছিল, পুলিশ এসকর্ট নিয়ে না যাওয়ায় ডাকাতের কবলে পড়বার আশংকা ছিল, কিন্তু মুষলধারে বৃষ্টির কারণে এক পাহাড়ী জোক ছাড়া বাকী সব ঝুঁকিই সম্ভবত ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছিল।

Tek 4‘রহস্যময়’ কুদুম গুহা, হোয়াইকং ইউনিয়ন, টেকনাফ গেম রিজার্ভ, টেকনাফ

Tek 9

কুদুম গুহা

Tek 10

কেউ বলে কুদুম, আবার কেউ বলে কুদুং। ভিতরে বাঁদুড়ের ওড়াউড়ি, ননস্টপ কিচকিচানি আর বোটকা গন্ধ। আর বাদুড়-চামচিকা যেখানে থাকবে, সেখানে সাপ বিশেষত অজগর অবশ্যম্ভাবী। গুহায় পানি অ্যাভারেজে কোমর সমান, তবে এই সিজনে গলাপানি পর্যন্ত আমরা গিয়েছি, আরও ডিপ হতেও পারে। এবং সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, পানি অসম্ভব স্বচ্ছ এবং ন্যাচারেলি খুব ঠান্ডা। হাটুপানিতেই ছোট ছোট মাছের খেলা দেখেছি। যদি গ্রুপে আসেন, তাহলে সবার আগে নামবেন কারণ এরপর পানিতে হাটাহাটির সময় কাদায় সব ঘোলা হয়ে যায়।

যারা যেতে চানঃ টেকনাফ থেকে ৩৫ কিঃমিঃ, কক্সবাজার থেকে প্রায় ৫০ কিঃমিঃ এসে নামতে হবে হোয়াইকং বাজারে। এইখানে বনবিভাগের একটা বিট অফিস আছে, সেখানে প্রথমে যোগাযোগ করলে ভালো (ইদ্রিস নামে একজন গাইড আছেন), এরপর হোয়াইকং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে অবশ্যই পুলিশ এসকর্ট নিতে হবে। যদ্দূর শুনেছি তারা ট্যুরিস্টদের ব্যাপারে যথেষ্ট হেল্পফুল। রাস্তাটা নাকি বেশই খারাপ, দিনে দুপুরে ডাকাতি হয়।

হোয়াইকং-শাপলাপুর রোডে মিনিট পনেরো গেলেই একটা নির্দিষ্ট জায়গায় নামতে হয়। এরপর গেম রিজার্ভের মধ্য দিয়ে ট্রেইল, পৌছে যাবেন দেশের একমাত্র (জানামতে) মাটি-বালুর প্রাকৃতিক গুহা।

ঝুঁকি না নিতে চাইলে বিশেষত দলে নারী সদস্য থাকলে অবশ্যই নিরাপদ পথে পুলিশ নিয়ে যাওয়া উচিত।

Advertisements