‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ এবং একজন লজ্জিত ‘ঢাবিয়ান’ – স্বপ্নের অপমৃত্যু নাকি স্বপ্ন দেখা অপরাধ?

ডিসক্লেইমারঃ আইনের ছাত্র হিসেবে আমার লিখার ফোকাস এবং উদাহরণগুলো বেশিরভাগই আইনকেন্দ্রিক, তবে তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার জন্যই খাটে বলে আমার বিশ্বাস। আর  এখানে ব্যবহৃত ফোটোগুলো সংগৃহীত।

আমার বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করবার অধিকার আপনার আছে, তবে অবশ্যই যুক্তি-প্রমাণ-ভদ্রতা সহকারে 🙂 

আমিই কি একমাত্র ‘ঢাবিয়ান’ (?!) যে তার ক্যাম্পাস নিয়ে ‘প্রাউড’ না ?

অনেক দিন ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত মুগ্ধ ছাত্রছাত্রীদের একঘেয়ে সব লেখা পড়ে পড়ে বিরক্ত হয়ে গেলাম।

মাঝেমধ্যেই বন্ধু-সহপাঠী কিংবা জুনিয়র ভাই-বোনদের সাথে কথাবার্তায় তাদের স্বপ্নগুলো জানার চেষ্টা করি। বুঝতে চেষ্টা করি তাদের প্রত্যাশার সীমারেখাটা কতদূর। এইসব আলাপ আলোচনা কখনও খুবই অনুপ্রেরণা দেয়, আবার কখনো দুঃখে মাথা কুটতে হয়।

স্রেফ দু’টো উদাহরণ দিয়ে শুরু করতে চাই। নেপালের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক নেপালি বন্ধুর স্বপ্নের কথা জানলাম। আইনের ছাত্র হিসেবে তার স্বপ্ন আন্তর্জাতিক আদালতে নেপালের হয়ে লড়াই করবার। পাশের দেশের পশ্চাৎপদ এক রাজ্যের দ্বিতীয় শ্রেণীর একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া আরেক বন্ধুকে দেখেছি। দিনের পর দিন নিজের প্যাশন – একটা লিগ্যাল স্টার্ট-আপ নিয়ে পড়ে আছে, কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন মাত্রায়, আজ বাঙ্গালোর তো কাল বাংলাদেশ। একাই কাজ করছে, ওয়ান ম্যান আর্মির মত। আমার চারপাশে আমারই মত এইরকম কাউকে দেখে আমি অনুপ্রাণিত হতে চাই। কিন্তু বিসিএস গাইড আর ব্যাংকের এসি রুমের দেয়ালে চোখ আটকে যায় বার বার।

আর ভারতের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলেমেয়েগুলোর কাজকর্ম দেখে অবাকই হয়ে যেতে হয়। এখন-তখন জাতিসংঘ, বিভিন্ন ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম, মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি বা সামাজিক সহায়তামূলক সংস্থা, তাদের কাজ-ডেডিকেশন এবং চিন্তার বহর দেখে অবাকই লাগে। এশিয়ান টাইগার দেশগুলোর ছাত্রছাত্রীদের কথা বাদই দিলাম।

এরপর যখন নিজের চেহারার দিকে তাকাই, তখন দাঁড়ানোর ভিত্তিটা কেমন নড়ে যায়। আমি খুব বেশি হতাশাবাদী লোক এটা সত্য, কিন্তু আশেপাশে অনুপ্রাণিত করার মত স্বপ্নবাজ লোকেরও যে বড় অভাব।

কিছু কথা বার বার বলে আমরা নিজেদের তুষ্ট রাখতে চাই। ভাষা আন্দোলনের কথা, বাংলাদেশের জন্ম দেয়ার কথা, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কথা। দেশের গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে অভিভাবকের দায়িত্ব পালনের কথা। কঠোর বাস্তবতা হচ্ছে, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কি এই ?

DU 2

‘যদ্যপি আমার গুরু’তে আহমদ ছফা আর প্রফেসর রাজ্জাকের আলোচনায় উঠে এসেছিল যে, পাকিস্তান সৃষ্টির পর কিভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানচর্চার উত্তাপ অনেক কমে গিয়েছিল। তখন নাকি ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মত নিবেদিতপ্রাণ মানুষও বিয়ে পড়ানো ও মিলাদের মত কাজে মনোনিবেশ করেছিলেন। আমার মনে হয়, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এই উত্তাপ এখন প্রায় শীতলতার কাছাকাছি নেমে এসেছে। আমাদের জ্ঞানতাপসেরা (শিক্ষক-ছাত্র সবাই) রাজনীতি আর কনসালটেন্সির মাধ্যমে দেশোদ্ধারে মত্ত, আর যারা এখনো এই লাইনগুলো ঠিক ধরে উঠতে পারেনি, তারা নাক-মুখ গুজে সরকারী দাসত্বের পেছনে ছুটছেন।

এই ক্ষেত্রেও ডিফেন্স আছে। আমাদের ”গবেষণা’গুলো অনলাইনে দেয়া হয় না, তাই গ্লোবাল র‍্যাংকিং এ আমরা কেবলই পিছিয়ে পড়ি। অবাধ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এই ধরণের কথা যে কতটা নিম্নমানের শোনায় সেটা নাই বা বলি। ক’দিন আগে নামকরা এক প্রাইভেট ভার্সিটির ছোটভাই জানতে চাইল, আমাদের আইন বিভাগের ল জার্নাল ও অ্যাকসেস করতে পারবে কি না, নাকি সেখানে পাসওয়ার্ড লাগবে? আমি তাকে বলতে পারিনি যে আমাদের ল জার্নাল অনলাইনে দেওয়া হয় না।

২০১৫ সালে এসে আমি তাকে এও বলতে পারিনি যে, আমলাতান্ত্রিক বা শাসনতান্ত্রিক জটিলতায় ২০১২-১৩ সালের পর আমাদের বিভাগের ল জার্নাল এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

অবশ্য উপায়ও নেই; চলমান অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫০ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে শ’খানেক বিভাগ, ইন্সটিট্যুটের গবেষণা খাতে বরাদ্দ সাড়ে চার কোটি টাকা = ১.০৫ শতাংশ। শিক্ষক নিয়োগের চিত্র নিয়েও কথা না বলাই ভালো। সদ্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া এক শিক্ষক নাকি ছাত্রদের বলেছিলেন, তোমাদের ডিপার্টমেন্টে আমি নতুন apartment পেয়েছি; এই গল্প আজকে না হয় নাই বললাম।

DU 4এইটা কোন শরণার্থী শিবিরের ডাইনিং নয়, এইখানে ‘দেশসেরা মেধাবীরা’ দিবানিশি খাওয়াদাওয়া করে।

নতুন ভাস্কর্য হচ্ছে, গেট হচ্ছে, বিল্ডিং হচ্ছে। কিন্তু হলের ছেলেপেলের খাবারের মান বাড়ে না, বরং দিন দিন তা শুধু কমতির দিকে। উদ্বাস্তুদের মত খোলা আকাশের নিচে তিন বেলা খাওয়াদাওয়া করা লাগলেও প্রতিকার পাওয়া যায় না। এই খাবারের মান, পুষ্টি, ঘুমানোর পরিবেশ আর সামগ্রিক সবকিছুর সাথে আমাদের পড়াশোনার কার্যক্ষমতার সম্পর্ক কতটুকু এইটা নিয়েও কারো কোন মাথাব্যাথা আছে কি ? যে কোন সময়ে ভবন ধ্বসে শতছাত্রের প্রাণহানির সম্ভাবনা বাদই দিলাম, জেলখানায় আসামীরা যে রুমে যে পরিবেশে যে খাবার এবং আচরণের মধ্যে দিয়ে দিন কাটায়, ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হওয়া একটা স্বপ্নবাজ ছেলের গণরুমের জীবন কি এর চেয়ে খুব বেশি ভিন্ন?

আর ছাত্র-রাজনীতি আর তার নির্মমতার কথা নাই বা বললাম; স্রেফ খেলা, প্রেমিকা বা খাওয়া নিয়ে ঝগড়া থেকে নিজের সহপাঠীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে পুলিশে তুলে দেবার বা পঙ্গু করে হাসপাতালে পাঠাবার মত সৎকর্মও আমরা হরহামেশাই করে থাকি। রাস্তাঘাটে লালবাসের গর্বিত যাত্রী হিসেবে মাঝেমধ্যেই মারামারি ‘করতে হয়’, তা না হলে তো ‘ঢাবিয়ান’ এর ইজ্জত থাকে না। এই বীরত্বের তুলনা কোথায় ?

বীরত্বের রকমফেরও আছে। ক্যাম্পাসে মেয়েদের নানাভাবে উত্যক্ত করবার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু করে ছোটখাটো নানা রকমের ঘটনা -দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। লজ্জা ঢাকতে আমরা সবসময়ে বলি, এগুলো বহিরাগতদের কাজ। আফটার অল, নিজেদের মান-সম্মান নিয়েই তো টানাটানি !

dhaka pic_101009পৃথিবী বিজয়ের স্বপ্ন দেখে ভোরে চোখ খুললে হলের ছাদে যখন এই ছবি দেখতে হয়, স্বপ্ন সম্ভবত সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

এইদিকে নিওলিবারেলিজমের জোয়ারে সবকিছু যখন বাণিজ্যিকীকরণ হচ্ছে, তখন এই ক্যাম্পাসে এক নতুন ধরণে শোভেনিজম জন্ম নিয়েছে। প্রশাসনিক দক্ষতাই হোক কিংবা কর্পোরেট পুঁজিপতিদের আগ্রহের কারণেই হোক, ঢাবি’র বিজনেস ফ্যাকাল্টি সহ অন্যান্য অনেক বিভাগের শ্রীবৃদ্ধি যে কাউকেই গর্বিত করবে – আধুনিক ই-লাইব্রেরি, ক্লাসরুম, কমনরুম ফুডকোর্ট সবকিছুই। ডিপার্টমেন্ট ভিত্তিক শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই আগেও চলতো, কিন্তু এখন যেন এই প্রতিযোগিতা এবং হীনমন্যতার ছায়া অনেকই বেশি। এই ধরণের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষত ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ, এবং এদের সংখ্যা নেহায়েত কম না।

ভারতের উদাহরণ আবার টানতে হয়। গুজরাতের এক ছোট বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা জানি, সেখানকার গ্লাসঘেরা ঝকঝকে আলোকোজ্জল সারি সারি শেলফ সাজানো লাইব্রেরীটা দেখে আমি প্রথমে ভেবেছিলাম ডিপার্টমেন্টাল শপ। রাত এগারোটা পর্যন্ত ছাত্রহাত্রীদের জন্য খোলা থাকে এই লাইব্রেরী। আমাদের সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর কথা মনে পড়তেই চুপচাপ কেটে পড়তে হলো। স্রেফ বসার জায়গা পাবার জন্য সেখানে যে যুদ্ধ, সেটা সম্ভবত ভর্তিযুদ্ধের থেকে কোন অংশে কম না। আর একবার বসতে পারলে তো হয়েছেই, বিসিএস আর চাকুরির পড়ার চাপে পাঠ্যবই রাখার জায়গা পাওয়া যায় না।

DU 3এখন, শত শত এই নেগেটিভ চিন্তার মধ্যেও আমাদের বড়ভাইবোনেরা, বন্ধু-জুনিয়রেরা স্বপ্ন দেখছেন, দেখাচ্ছেন, বিশ্বের বুকে নানাভাবে আমাদের নাম উচ্চকিত করছেন। তাহলে এতো ত্যানা প্যাচানোর কারণ কি?

আমার দুঃখ মূলত দুইটা – প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যর্থতা, এবং ছাত্র-ছাত্রী হিসেবে ইন জেনারেল আমাদের স্বপ্ন দেখবার অক্ষমতা।

এবং এর মূল কারণ হিসেবে আমার খালি ঐ একটা বিষয়ই মনে আসে – ফেক একটা গালভরা অহংকার !

বেশির ভাগ মানুষই আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন, এবং বলবেন বাজেটস্বল্পতাই আমাদের সকল দুর্দশার মূল কারণ। আসলে কি তাই?

অক্সফোর্ড বা হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির দিকে তাকালে আমরা দেখি, প্রফেসরের চেয়ে তার পদবীর দৈর্ঘ্য বেশি, ইন্সটিট্যুটের বিষয়ের চেয়ে তার নামের দৈর্ঘ্য বেশি। সেখানকার অ্যালামনাইরা অকাতরে পয়সা দিচ্ছেন, বিনিময়ে তারা একটা নাম বা সম্মাননা পাচ্ছেন সেই ক্যাম্পাসে। আমাদের দেশেও এই কালচার আছে, তবে সেটা শুধু বিল্ডিং বা অবকাঠামোর কাজে। গবেষণা বা রিসার্চের জন্য, স্কলারশিপের জন্য পয়সা দেবার মত লোক নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের ? হার্ভার্ড সম্প্রতি ৬ বিলিয়ন ডলারের ফান্ড কালেকশনে নেমেছে, এর মধ্যে একজন অ্যালামনাই দিয়েছেন ৪০০ মিলিয়ন ডলার। এইসব গালগপ্পো না শুনে বাস্তব চিন্তায় আসি – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগে অন্তত চার লক্ষ টাকা দিয়ে একটা গবেষণার ফান্ড বা দু’চারটে বৃত্তি দিতে পারবেন, এইরকম অ্যালামনাই বা ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সংখ্যা বাংলাদেশে কত বলে মনে হয় ? তারা হয়তো বিনিময়ে একটু নাম কামাতে চাইবেন, হয়তো অনুষ্ঠানে প্রধাণ অতিথি হতে চাইবেন। খুব বেশি অসুবিধা ?

আমি শুনেছি ঢাবি’র কোন এক বিভাগে একজন অ্যালামনাই নিজ খরচে ডিপার্টমেন্টের চেহারা বদলে ফেলতে চেয়েছিলেন, কোন এক জায়গায় তার নামটা দিয়ে স্বীকৃতি দেবার বিনিময়ে। কাজ হয়নি। এখানেও হয়তো সেই ‘অহংকার’ বা ইগো জিনিসটা কাজ করেছে।

এই ইগো বা কৃত্রিম এবং হাস্যকর অহংকারের আবার বিভিন্ন মাত্রা আছে। কখনো সেটা সামাজিক, কখনো রাজনৈতিক, কখনো সাংস্কৃতিক। ভর্তি পরীক্ষায় টপ রেজাল্ট করবার পরেও কোন ছাত্র-ছাত্রী স্রেফ মাদ্রাসা বিভাগের হবার কারণে অনেক বিভাগে প্রবেশাধিকার পায় না। তাতে সেই বিভাগটি মেধার বিচ্ছুরণ থেকে বঞ্চিত হলো কি না তাতে কিছু আসে যায় না, মেধাবী ছাত্রটা হয়তো বিভাগের মুখ উজ্জ্বল করতে পারতো – দরকার নেই……… অচ্ছুৎ লোকজন সেইসব বিভাগে হাঁটতে পারবে না। অহংকার ইগো, বা হীনমন্যতা কোন পর্যায়ে ?

আর সবশেষে ছাত্রছাত্রীরা……… স্বপ্ন খোপেই আবদ্ধ সবসময়ে, এদিকে আবার অহংকারে মাটিতে পা পড়ে না। পুরনো সেই সংস্কৃত প্রবাদটা মনে পড়ে যাচ্ছে, বিদ্যা দদাতি বিনয়ম। অর্থাৎ, জ্ঞান বিনয় বাড়ায়। আমাদের জ্ঞান নেই, জ্ঞানের স্বপ্ন দেখাবার মত কেউ নেই, জ্ঞানের স্বপ্ন দেখবার মত খাবার-থাকার জায়গাও নেই, বিনয় কি মাটি ফুড়ে বের হবে ?

সত্যিকার অর্থে আমার জীবনে এবং চিন্তায় নাড়া দিয়ে আচ্ছন্ন করে রাখার মত ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ এখন পর্যন্ত একটিই – নটরডেম কলেজ; সেখানকার পরিবেশ, ভিশন, শিক্ষকদের জীবনদর্শন এবং ছাত্রদের মধ্যে স্বপ্ন দেখাতে শেখানো……… সব কিছু মিলিয়েই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করলাম, দুঃখের বিষয় দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় পড়ালেখা করার অপরাধবোধ ছাড়া তেমন কোন চিন্তাগত পরিবর্তন ‘প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে আমার বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে দিতে পারেনি। কেতাবী পড়াশোনাকে স্ট্যান্ডার্ড ধরা হলে অবশ্য সেটাও আমি মনোযোগ দিয়ে করিনি, ব্যর্থতার দায়ভার তাই পুরোটাই আমার।

পাকিস্তান আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ আর গণতন্ত্রের লড়াই, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল – এটি অ্যান্টি-এস্টাবলিশমেন্ট প্ল্যাটফর্ম। এখন এমপিথ্রি বিসিএস গাইডের পাতায় পাতায় জীবনের স্বপ্ন দেখতে দেখতে নানারকম কোটায় আবদ্ধ এস্টাবলিশমেন্টের খোপে আশ্রয় খোজা মেধাবীদের এই প্রতিষ্ঠান আর কতদূর যাবে ? যে ঈগলের আকাশ শাসন করার কথা ছিল, সে নিজের ইচ্ছায় ডানা গুটিয়ে মুরগীর খোপে চুপচাপ বসে আছে।

এই ঈগলের জন্য আপনার করুণা হতে পারে, আপনি স্মৃতিতে কাতর হতে পারেন, ভালোবাসাও থাকতে পারে কিন্তু অহংকার ?

দুঃখিত, আমার সেটা মনে হয় না।

Advertisements

29 comments

  1. well said vai…but these are reality… once thought that my greatest obtainment is being the student of DU but now i think this chance has given me just depression…nothing….the most brilliant students are deprived here by the so called students…here corruption from canteen to administration…..corruption for only a meal( tk 30)…after only a few years we will feel shame to say we are from DU…..

    Like

  2. Well said, We have to thing ahead. We have to compete with world class university but main problem is our society. Here bcs is the only scale of social status. How a person thing differently? We have to change our-self then establish it in our society so that we can produce Mark Jukar Barg, Steve Jobs, Vernon Jordan, R. Tomlinson or Stephen Hawking

    Like

    • নিজেদেরকে তো আমরা সবসময়ই দেশের চিন্তা-অগ্রগতির ধারক বাহক হিসেবে দাবী করি। পরিবর্তনটা এখান থেকেই শুরু হোক – ছাত্র, শিক্ষক, সিস্টেম সবকিছুর।

      ব্লগটা পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ 🙂

      Like

  3. “Fake akta galvora ahongkar”…. Akdm perfect shobdochoyon. Ato ato shopno niye amra DU te vorti hoi thik e kintu protita bochor par korar somoy pechone fire jokhon kono orjon khuje ferar chesta kori, tkhn sotti e obak hote hoy ai vebe j kono kisu orjon to durer kotha jeno protita bochor par hoar sathe sathe purono ja orjon chilo shetio hariye felchi. Hoyto berthota ta amr e kintu etar pechone bissobiddaloyer ki atotuku dayvar nei? Amr shopno dekhar j probol shokti chilo aj jno kothay dumre muchre pore ache! Amr to majhe majhe mne hoy bissobiddaloy er name ati akti manoshik rogi toirir karkhana. J shopno dekha vule jay take amr kase manoshik rogi chara r kisu mne hoyna.

    Like

  4. Hi, you wrote well. I think you skipped something about the quality of teaching and teacher. I am now in USA pursuing PhD, education here is far far away from DU, teacher have liability, they have 2 office hour per week to solve the students course problems. Students have midterm, quiz ( every week), homework etc. So, if a student want to gossip with his/ her friend its not possible, as he/ she know if he/she don’t understand the topic he/ she will fail in quiz or midterm, but in DU student/I all time engaged ingossiping with friends as I knew I will have to memorise all the things or the teacher is unable to make us the topic understandable, if you take any step against teacher you are gone/fail in course. I am sure if there is no mark in attendence ( like USA) there will be no student in my DU department. It would be true I am in USA as I studied in DU it is also true that I am struggling with my course/future also for DU. Love you DU but hate your policy. (Sorry for typing in english my Avro not working).

    Like

  5. These are the realities that everyone would love to ignore with pleasure, and here one thing comes to mind again, PRIDE! What would be the use of thinking about these. These cultures seem to be imprinted and thrust upon Dhaka University. Those who wish for a change hardly can do anything and those can really change things are hardly interested. As long as they are fine who cares whats the long term destruction.
    Here I wish to say about the result and examination of students. Those who do well by the goodwill of our teachers do well while the weaker ones are ignored without any hope for improvement. The way courses are completed in so few classes fall even lower than school teaching. Well thinking about these only brings more depression.

    Like

  6. সবচেয়ে বড় কথা শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে চাকরির জন্য।গবেষণা করার ইচ্ছা নেই কারোর। “……………সত্যিকার অর্থে আমার জীবনে এবং চিন্তায় নাড়া দিয়ে আচ্ছন্ন করে রাখার মত ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ এখন পর্যন্ত একটিই – নটরডেম কলেজ; সেখানকার পরিবেশ, ভিশন, শিক্ষকদের জীবনদর্শন এবং ছাত্রদের মধ্যে স্বপ্ন দেখাতে শেখানো……… সব কিছু মিলিয়েই।” ………… কথাটা ভালো লাগলো।

    Like

    • হাহা নিজের জায়গায় সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যাওয়া যাক, অন্তত অ্যালামনাইদের সাফল্য দেখে ছোটোরা শিখুক, অনুপ্রেরণা পাক !

      ব্লগ পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ 🙂

      Like

  7. আচ্ছা, ভাইয়া, আমার একটা প্রশ্ন ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের মনে যে অহংকার, সেটা কি তারা নিজেরাই সৃষ্টি করেছে না কি আশেপাশের মানুষজনও সে জন্য দায়ী?
    আমার নিজের মুখ থেকে এখনও যতবার “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি / আমি ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ি” টাইপ বাক্য বের হয়েছে; তার থেকে “ও, তুমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ো/ তুই তো ঢাবিতে পড়ছ” টাইপ কথা কমপক্ষে কয়েকগুণ বেশি শোনা লাগছে।

    Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s