জীবনের শ্রেষ্ঠ দুই হাজার দিনের এক ঐতিহাসিক মহাযাত্রার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি……… 

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সর্বশেষ প্রেজেন্টেশনের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে ঝুম বৃষ্টির মধ্যে ভোরে ভোরেই ক্যাম্পাসে ঢুকতে হলো। এপিক সেই প্রেজেন্টেশনের গল্প আর নাই বা বললাম। একেকজন প্রেজেন্টেশন দিতে উঠছেন, আর আমরা ফেবুতে জ্বালাময়ী অ্যানালাইসিস চালিয়ে যাচ্ছি। জুনিয়র ব্যাচের ইনোভেটিভ আয়োজন ‘ফল উৎসব’ এর যাবতীয় ফলপাকুড় সামনে স্তূপ করে রাখা, তার রূপ-রস-গন্ধের সাথে বৃষ্টির সোদা গন্ধ মিলে মিশে মাথা নষ্ট অবস্থা সবার, এর মধ্যেই অবিরাম বকবকানি চালিয়ে যাওয়া। এরই মধ্যে হিসাব-কিতাব চলছে, আইন বিভাগে এযাবতকালের সবচেয়ে ‘ক্রেজি’ আয়োজন…… ‘ভর্তা উৎসব’ এর। পাগলামী যখন করবোই, তার স্বাদটা ঝাল হওয়াটাই কি জরুরী না ?

37 2ভর্তা উৎসব !!!

37 0 6

২০০৯ নবীণ বরণ (বাচ্চাকালে)

PCPCPC

২০১৫ (বুড়োকালে !)

37 0 1সকালের শুরু – শহীদ মিনারের চা সিঙ্গারা পরোটা আর চিতই পিঠা-শুটকি ভর্তা দিয়ে

37 0 3স্যার যদি ঢুকতে নাও দ্যান, সমস্যা নাই 😉

37 0 2সমবায় সমিতির মাধ্যমে ১ দিনে ১০০ পৃষ্ঠার অ্যাসাইনমেন্ট বের করে ফেলা……  (সেকেন্ড ইয়ার)

37 7 ক্লাসেই রাতের ঘুম পুষিয়ে নেওয়া

37 8এবং যথারীতি পরীক্ষায় ‘বাশ খাওয়া’

Rain তুমুল বৃষ্টির মধ্যে আসিফ নজরুল স্যারের সাথে ফুটবল খেলা (সেকেন্ড ইয়ার)

37 6ক্যাম্পাস ট্রেডমার্ক

          Iftar কোন এক বিকেলে ইফতারের পূর্বক্ষণে

শেষ বেলায় এসে ক্যারিয়ার প্ল্যান, চাকরী খোজার ব্যস্ততা, আদালতপাড়ায় ঘোরাঘুরি, বিদেশ যাবার স্বপ্ন বা স্রেফ হতাশার ছায়া সবার ওপর। সব কিছু ছাপিয়েই ক্লাস জীবনের শেষ সপ্তাহে এসে মনে হয় ক্যাম্পাসটাকে আরও ভালো লাগতে শুরু করেছে। মাইমুল স্যার, আসিফ নজরুল স্যার, সুপন স্যার, হাবিব স্যার, ইমন স্যারদের মত শিক্ষকদের ক্লাস করবার সুযোগ পেয়েছি, প্রত্যাশা বা প্রাপ্যতার দেয়ে উঁচু জায়গায় হাত রাখতে পেরেছি, আবার ব্যর্থতা আর হতাশার মধ্যে নিজেকে বারংবার আবিস্কার করবার সুযোগ পেয়েছি। হঠাত করেই মনে হচ্ছে একটা বড় অংশ যেন হারিয়ে গেল।

37 0 4 বঙ্গোপসাগরে আনন্দের ট্রলারযাত্রায় হঠাত করেই উত্তাল সাগরের মাথা নষ্ট রোলিং, সারা জীবন মনে রাখার মত এক মুহূর্ত

37 8বান্দরবানের পাহাড়ি পথে চাঁদের গাড়িতে উঠে চন্দ্রযাত্রা

37 4রাতের ডিপার্টমেন্ট

১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ থেকে ১৮ই জুন, ২০১৫………… লুকিয়ে অ্যানেক্স ভবনের ছাদে ওঠা, ক্লাসে বসে বা মসজিদে জম্পেশ ঘুম, নির্বিচার ক্লাস পলায়ন, মুটের জন্য ডিপার্টমেন্টে রাত কাটানো, শেষরাতে করিডোরে ফুটবল খেলা, যাবতীয় সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাজের অজুহাতে অনর্থক ঘোরাঘুরি, এয়ার কন্ডিশনিং এর লোভে সেমিনার লাইব্রেরীতে বই খুলে পড়ার ভান করা, লিভারপুলে বিরিয়ানী অভিযান কিংবা হুটহাট করে এদিক সেদিক চলে যাওয়া, শেষ মুহূর্তে ক্লাসে ঢুকে এটেনডেন্স দিয়ে বেরিয়ে আসা, ক্যাম্পাসের সবচেয়ে নটোরিয়াস বাস চৈতালির ‘সক্রিয়’ যাত্রী হিসেবে নানারকম সুকর্মে অংশগ্রহণ এবং মোস্ট ইম্পরট্যান্টলি, পরীক্ষার আগের রাতের আলোচনা ভিত্তিক পড়ায় আশাতীত রেজাল্ট (ব্যাকবেঞ্চার হিসেবে)…… হেন কোন বাঁদর+আমি করতে বাদ পড়েছে কি না জানি না। ফার্স্ট ইয়ারের প্রথম দিকে ক্লাসের ফার্স্ট বেঞ্চে বসবার জন্য হাতাহাতি পর্যন্ত হয়ে যেত, এগুলো ভাবলেও এখন হাসি আসে।

37 7র‍্যাগ ডে – ট্রেডমার্ক 😉

আজকের প্রেজেন্টেশনে আইনের শাসন আর উন্নয়নের মধ্যে সম্পর্ক আবিষ্কার করতে গিয়ে টিমমেটরা এক পর্যায়ে বারে বারে বলতে থাকলো, ”কান টানলে যেমন মাথা আসে, তেমনি আইনের শাসন থাকলে উন্নয়নও আসবে !!!”

ত্যক্ত হয়ে শেষটায় সুপন স্যার টেক্সট করলেন, আর কত কান টানবা ?

কান টানলেও সোনালু তলার সেই আইন বিভাগে ক্লাস করার সুযোগ যে আর কখনো পাবো না।

সময়টা যে বড্ড দ্রুতই পার হয়ে গেল………

37 3

Advertisements