এই লিখাটা বিভক্তভাবে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়েছিল পাঠচক্র অনলাইন ম্যাগাজিনে।

পাঠচক্রের সাইটে দেখতে পারেন এর প্রথম পর্ব এবং শেষ পর্ব

SEVENসাত বোন – অর্থাৎ সেভেন সিস্টার্স। মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা, মনিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচল।

বাহাত্তর সালে এক রেডিও টক-শোতে ত্রিপুরার সাংবাদিক জ্যোতি প্রসাদ সাইকিয়া যখন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই  রাজ্যগুলোকে একসূত্রে বলবার জন্য এই টার্মটা প্রথম ব্যবহার করেন, তখন সম্ভবত তিনি ধারণাও করতে পারেননি, কত শক্তিশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা তিনি বলে ফেলেছেন। জিওপলিটিক্যাল অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং বৈচিত্র্যময় সামাজিক কাঠামো, সব কিছু মিলিয়ে সারা বিশ্বে এই সাত বোনের তুলনা খুঁজে পাওয়া ভার। একই সাথে, এই সাত বোনের সংগ্রাম, নির্যাতন এবং প্রতিরোধের তুলনাও খুব একটা পাওয়া যাবে না। ভৌগলিক ভাবে বাংলাদেশের ঘরের কাছের এই সাতবোনি রাজ্য সম্পর্কে আমাদের জানাশোনা কতটুকু? ইন্ডিয়ার অন্যান্য বহু রাজ্য, বহু গ্ল্যামারের খবরাখবর আমাদের নখদর্পনে থাকলেও এই সাতবোন যেন কোনো এক অজানা কারনে আমাদের চোখের অন্তরালে থেকে যায়। অথচ এসব বোনের কান্না কি প্রতিবেশী হিসাবে আমাদেরও স্পর্শ করার কথা ছিল না?

irom chanu

ছবিতে অনশনরত অসুস্থ ইরম চানু শর্মীলা এবং কিছু ইন্ডিয়ান পুলিশকে দেখা যাচ্ছে

উত্তর-পূর্বাঞ্চলঃ শোষণ ও সংগ্রামের ঐতিহাসিক পটভূমি

সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলো ঐতিহাসিকভাবে কখনোই আজকের ইন্ডিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত ছিল না। আর্য সম্প্রদায় সমগ্র ইন্ডিয়া দখল করলেও ব্রক্ষ্মপুত্রের পূবপাশের এই উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে আসতে পারেনি। বরং এখানে গারো, খাসিয়া, বোরো, মিজো বা এইধরণের অনার্য আদিবাসী রাজাদের শাসন ছিল সবসময়ই।

এই অঞ্চলে প্রথম স্বাধিকারের দাবী তুলে নাগাল্যান্ড তথা নাগা’রা। ভারতের স্বাধীনতার ঠিক আগের দিন ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট নাগারা নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে, কিন্তু তাতে কাজ হয় নি। এরপর তাদের নাগাল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী সংগঠন নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিলের (NNC) উদ্যোগে ১৯৫১ সালের মে মাসে নাগাল্যান্ডে একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যার  মাধ্যমে নাগারা স্বাধীনতার পক্ষে সম্পূর্ণ সমর্থন জানায়। কেন্দ্রিয় সরকার তাদের দাবী প্রত্যাখ্যান করে, এবং ১৯৬৩ সালে আসাম থেকে আলাদা করে ভারতের ১৬তম রাজ্য হিসেবে গঠিত হয় নাগাল্যান্ড।[1]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বার্মা মনিপুর আক্রমণ করতে পারে, এই আশংকা থেকে এখানকার দূর্বল মনিপুরী রাজা ব্রিটিশ ভারতের সাহায্য চায়। ব্রিটিশ শাসনের দেড়শ বছর পর প্রথমবারের মত ব্রিটিশরা মনিপুর ‘দখল’ করে নেয় ত্রিশের দশকে সালে। ইন্টরেস্টিং বিষয় হলো, পোলো খেলাটি ইউরোপীয়রা এই মনিপুর রাজ্য থেকেই গ্রহণ করেন। একটা মৈত্রি চুক্তির মাধ্যমে এরা ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভূক্ত হলেও স্বায়ত্বশাসিত ছিলো। ১৯৪৯ সালে মনিপুরের রাজা বুধচন্দ্র ভারতীয় ইউনিয়নে মনিপুরকেও শামিল করে নেন।

Living Root Bridgeবিশ্বের অপার বিস্ময়কর কিছু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে সাত বোনের মাঝে

এখানকার সবচেয়ে পুরনো, বড় এবং বিখ্যাত রাজ্য হচ্ছে আসাম। ১৮৩০ সালে আসামে চায়ের (Camellia sinensis) আবিস্কার এবং কয়েক বছরের মধ্যেই লন্ডনের বাজারে এর তুমুল জনপ্রিয়তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে আসামের গুরুত্ব অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে। ১৮৭৪ সালে আসাম আলাদা করলেও ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গে সেটিকে আবার বাংলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়, এবং ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর তা আবার নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ারের অংশ হয়ে যায়। ইন্ডিয়া স্বাধীন হবার পর এখান থেকে নাগাল্যান্ড, মিজোরাম এবং মেঘালয় আলাদা করে নেয়া হয়।

১৯৪৭ এর স্বাধীনতার পরঃ

১৯৪২ সালে সমগ্র ইন্ডিয়া জুড়ে কুইট ইন্ডিয়া আন্দোলন শুরু হবার পরপরই ব্রিটিশ রাজ ভারতের বেশ কিছু জায়গাকে ‘অশান্ত বা বিক্ষুব্ধ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে আর্মড ফোর্সেস (স্পেশ্যাল পাওয়ারস) অ্যাক্ট নামে একটি কুখ্যাত আইন জারি করে, যার বলে সামরিক বাহিনীকে অবাধ ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল।

ইন্ডিয়া স্বাধীন হয়ে যাবার পর নাগাল্যান্ডে যখন স্বাধিকারের প্রশ্নে গণভোট হয়ে গেল, তখন তা দমনের জন্য আসাম সরকার প্রথমত আসাম মেইন্টেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার আইন ১৯৫২ জারি করে, এবং এর মাধ্যমে পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধি করে। পরিস্থিতির ক্রমাবনতির কারণে ১৯৫৫ সালে নাগা হিলস এবং আসামের অন্যান্য এলাকায় আসাম রাইফেলস নামক একটি প্যারামিলিটারী বাহিনী মোতায়েন করে। কিন্তু এতেও পরিস্থিতির কোন উন্নয়ন না হওয়ায় (এমনকি ১৯৫৬ সালে নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল NNC তাদের স্বাধীন সরকারও গঠন করে ফেলে) ১৯৫৮ সালে তৎকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ জারি করেন আর্মড ফোর্সেস (স্পেশ্যাল পাওয়ারস) অ্যাক্ট, ১৯৫৮ যা AFSPA নামেই পরিচিত। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোতে এই আইন কার্যকর রয়েছে। তবে অল্প কিছুদিন আগে ত্রিপুরা রাজ্যে এই আইন রহিত করে নেয়া হয়।

এই আইনটিতে সামরিক বাহিনীকে অভূতপূর্ব ক্ষমতা দেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে ওয়ারেন্ট ছাড়া যেকোন ‘সন্দেহভাজন’ ব্যক্তিকে গ্রেফতার, কোন বাসাবাড়ীতে তল্লাসী, ‘যথাযথ’ ওয়ার্নিং দেবার পর গুলি করবার ক্ষমতা। এছাড়াও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ইমিউনিটি দেওয়া হয়েছে, এবং সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাবে না।[2]

জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা তীব্রভাবে এই আইনটির নিন্দা করে আসছে। এই আইনটি বাতিল করবার দাবীতে ইরম চানু শর্মীলা নামক একজন মানবাধিকার কর্মী যিনি মনিপুরের লৌহমানবী হিসেবে পরিচিত, তিনি ২০০০ সালের নভেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত অনশন করছেন।[3] (তিনি বিশ্বের দীর্ঘতম অনশন প্রতিবাদকারী)।

সাম্প্রতিক সময়ে উইকিলীকসের ফাঁস করা কিছু তারবার্তায় সেভেন সিস্টার্সের প্রতি ভারতীয় প্রশাসনের মনোভাবের কিছু বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাওয়া গেছে, যেখানে তারা এই অঞ্চলকে (বিশেষত মনিপুর) অঙ্গরাজ্যের বদলে উপনিবেশ হিসেবে মূল্যায়ন করে থাকেন।[4] এছাড়া সেখানে নিয়মিত মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা এবং এইসব ঘটনায় সামরিক বাহিনী বিশেষত আসাম রাইফেলস এর সংশ্লিষ্টতা বার বার উঠে আসে। [5]

অব্যাহত গুপ্তহত্যা, এনকাউন্টার এবং মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ভারতীয় সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সন্তোষ হেজের নেতৃত্বে ২০১৩ সালে গঠিত হয় সন্তোষ হেজ কমিশন; এই কমিশন ৬টি এনকাউন্টারের ঘটনা তদন্ত করে দেখতে পায়, নিহত ছয়জনের কারো বিরুদ্ধেই কোন ধরণের অভিযোগ ছিল না। এই কমিশন প্রচলিত AFSPA কে আরও জনবান্ধব করে তুলতে এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দায়মুক্তির সুযোগ আরও কমিয়ে আনবার সুপারিশ করেছেন।[6]

সেভেন সিস্টার্সের প্রায় প্রতিটি রাজ্যেই বিশেষত আসাম, মনিপুর ও নাগাল্যান্ডে ব্যাপক মানবাধিকার লংঘন ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। এই অপরাধগুলো সামরিক বাহিনী এবং সন্ত্রাসবাদী বিদ্রোহী দল, উভয় পক্ষ থেকেই ঘটে থাকে। পুরো সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলটি জাতিগতভাবে ব্যাপক বৈচিত্র্যময় হবার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই জাতিগত সহিংসতা ও দাঙ্গা এখানে তীব্র আকার ধারণ করে। কখনো কখনো ধর্মভিত্তিক সহিংসতাও এখানে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। AFSPA এর অপপ্রয়োগের ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সামরিক বাহিনী এই ধরণের মানবাধিকার লংঘনের কাজ ঘটিয়েও আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়। মনিপুরে আসাম রাইফেলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও তার কোন প্রতিকার না পাওয়ায় ২০০৪ সালে এর বিরুদ্ধে জনসমক্ষে নগ্ন হয়ে প্রতিবাদ করেন মানবাধিকার কর্মী ইমা নাংমি, যা আলোড়ন তোলে বিশ্বমিডিয়ায়। এই আন্দোলনের জ্বালাময়ী স্লোগান ছিল “ইন্ডিয়ান আর্মি প্লিজ রেইপ আস”[1]

rp

সাত বোন ও বাংলাদেশঃ বিচ্ছিন্নতাবাদী, চোরাচালান ও শরণার্থী সমস্যা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্মলগ্ন থেকেই সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এর সর্বপ্রথম আভাস পাওয়া যায় ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ দেশপ্রেমিক বাঙ্গালী রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনীত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, যেখানে বলা হয় মুজিব ও কতিপয় বাঙ্গালী ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগের সাথে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন।[2] পরবর্তীতে এই মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে কারাগারে হত্যা করা হলে এর প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ মানুষেরা সম্পন্ন করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও আগরতলার মেলাঘর হয়ে ওঠে স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালী বীর জনতার অন্যতম প্রধান প্রশিক্ষণস্থল, যেখানে খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর টু এর বীরযোদ্ধারা এবং ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে একাত্তরের যুদ্ধকালীন বাঙ্গালী শরণার্থীদের আশ্রয় দিলেও পরবর্তীতে এই শরণার্থীদের কেন্দ্র করে কিছুটা জাতিগত সমস্যা দেখা দেয় সেভেন সিস্টার্সে। ইন্ডিয়া সরকার আশির দশকে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে ইলিগ্যাল মাইগ্র্যান্টস (ডিটারমিনেশন বাই ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট, ১৯৮৩ (IMTD 1983)[3] নামক একটি আইন পাস করে। তবে আসামে সংখ্যালঘু মুসলমানেরা যারা বিভিন্ন সময়ে (বিশেষত ১৯৭৯-১৯৮৫ সালে নথিবহির্ভূত বাংলাদেশী ও অন্যান্য অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সহিংস আসাম বিক্ষোভ) ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন, তাদের সেফগার্ড হিসেবে আইনটি প্রণয়ণ করা হয়েছিল। অবশ্য ২০০৬ সালে সুপ্রীম কোর্ট এই আইনটিকে বাতিল ঘোষণা করেন।

জাতিগত সংঘাত, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানীর পাশাপাশি বাংলাদেশে সেভেন সিস্টার্সের বিভিন্ন স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে অবস্থান করে থাকে। এদের মধ্যে আসামের শীর্ষসংগঠন উলফা নেতা অনুপ চেটিয়া, পরেশ বড়ুয়া সহ অনেকেই বাংলাদেশ অবস্থানকালে বন্দী হয়েছেন। ইন্ডিয়া বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে করিডর ও ট্র্যানজিট সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে আদতে সেভেন সিস্টার্সে তাদের সামরিক ব্যবস্থাপনাই আরও সংহত করতে যাচ্ছে, এমন দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বিশ্লেষকের। সব মিলিয়ে, ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বিদ্রোহ-আন্দোলন দমনের ঝুঁকিপূর্ণ পথে বাংলাদেশকেও হাঁটতে হচ্ছে, ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। অরুণাচল সীমান্তে চীনের সরব উপস্থিতিও ভারতের চিন্তার একটি বড় কারণ, যা ক্ষেত্রবিশেষে ভূরাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশকেও কমবেশি প্রভাবিত করছে।

সমাপনী

সার্বিকভাবে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক মায়ানমার-রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সমস্যাসহ চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের ফলে উন্মোচিত নতুন সম্ভাবনা এবং সেভেন সিস্টার্সের বিস্ফোরণম্মুখ জাতিগত ও ধর্মীয় বৈচিত্রের পাশাপাশি উপমহাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান বাংলাদেশের জন্য একটি জটিল পরিস্থিতির সূচনা করতে যাচ্ছে। ইন্ডিয়ান ইউনিয়নের ভেতরে এরকম অবিচার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাত্র নয়। একদিকে যেমন সেভেন সিস্টার্সে চলছে জুলুম বিরোধী আন্দোলন সে আন্দোলনে এমনকি ইন্ডিয়ান আর্মি নিয়মিত বিরতিতে মারা পড়ছে, অন্যদিকে ইন্ডিয়ার অন্যান্য সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী যেমন দলিত বা নিচু বর্ণ হিন্দু সম্প্রদায়, মুসলিম ও খ্রীস্টানরা নানাভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে নিগৃহীত লাঞ্ছিত হচ্ছেন। ইন্ডিয়া যদি কথিত প্রবৃদ্ধি ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হওয়ার পথে হাঁটে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সুপার পাওয়ার হবার স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে আগুতে চায়, এ ধরণের নিপীড়ন চালু রেখে, এক বিরাট জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত রেখে সেটা কিভাবে সফল করবে দেশটি সেটাই এখন দেখার বিষয়।

চেরাপুঞ্জীর অবিরল বৃষ্টিধারা হয়তো কখনো থামবে না, কিন্তু নিপীড়িত মানুষের চোখের লোনা ধারা বন্ধ হওয়া এখন সময়ের প্রয়োজন।

—————————————————

তথ্যসূত্রঃ

[1] http://www.tehelka.com/2013/02/we-stripped-and-shouted-indian-army-rape-me-it-was-the-right-thing-to-do/

[2] http://archive.thedailystar.net/forum/2007/february/feb69.htm

[3] http://www.india-eu-migration.eu/media/legalmodule/Illegal%20Migrants%20Act%201983.pdf

[1] http://www.istishon.com/node/3671

[2] http://www.thehindu.com/nic/afa/afa-part-ii.pdf

[3] http://www.wsj.com/articles/indian-activist-presses-14-year-hunger-strike-to-protest-abuses-1420604056

[4] http://www.thehindu.com/news/the-india-cables/article1556697.ece

[5] http://www.thehindu.com/news/the-india-cables/the-cables/article1556742.ece

[6] articles.timesofindia.indiatimes.com/2013-04-04/india/38277575_1_apex-court-ibobi-singh-government-manipur

Advertisements