Movie Review: দ্য ম্যান ফ্রম আর্থ (২০০৭)

Imagine if you would have 14000 years to live  –  what a chance to learn  !

খুব সম্ভবত আপনি মুভিটার নাম শোনেন নি, অথবা শুনে থাকলেও দেখা হয়ে ওঠে নি এখনও।

মুভিটির জনরা বলছে এটি একটি ড্রামা-সায়েন্স ফিকশন, যদিও কাল্ট ক্লাসিকে পরিণত হওয়া অপরিচিত এই মুভিটিকে আপনার দেখা অন্যতম সেরা মুভি বললেও অত্যুক্তি হবে না। অন্তত আমি সেটা বলবো।

TMFE 3

সবচেয়ে বড় কথা হলো, সায়েন্স ফিকশন মুভি বলা হলেও এখানে স্পেসশিপ এলিয়েন যুদ্ধ বা দুর্ধর্ষ টেকনোলজীর চমক ঠাট কিচ্ছু নেই, খুবই স্বল্প বাজেটে বানানো ৮৭ মিনিটের এই মুভিটা কেবলমাত্র একটি কাঠের কেবিনের মধ্যে শুট করা, যেখানে কোন অ্যাকশন নেই, রোম্যান্স নেই, ক্লাইম্যাক্স নেই, আছে স্রেফ কয়েকজন মানুষের কিছু গভীর কথাবার্তা। ধীরে ধীরে মুভিটা তার মূল ট্র্যাকে ওঠে, তাই প্রথম ১০-১৫ মিনিট ধৈর্য ধরে থাকতে পারলে আপনি মুভিটা দেখবেনই, এবং নিশ্চিত ভাবেই একটা বড় সড় ধাক্কা খাবে আপনার চিন্তাভাবনা আর চেনা-জানা পরিসরের এই পৃথিবী।

মুভি নিয়ে কথা বলার আগে যে সায়েন্স ফিকশনের ওপর ভিত্তি করে মুভিটা তৈরী তার লেখককে নিয়ে কিছু বলা দরকার। জেরোমি বিক্সবি সায়েন্স ফিকশন মুভির চিত্রনাট্যের জগতে পরিচিত একটি নাম। স্টার ট্রেক টিভি সিরিজ, টোয়াইলাইট জোন মুভি সিরিজ, ফ্যান্টাস্টিক ভয়েজসহ আরও বেশ কিছু সায়েন্স ফিকশন মুভির লেখক এবং চিত্রনাট্যকার তিনি। আর ‘দ্য ম্যান ফ্রম আর্থ’ সায়েন ফিকশনটি তিনি শুরু করেন ষাটের দশকে, প্রায় চার দশক পর ১৯৯৮ সালে মৃত্যুর আগে এটি তিনি শেষ করে যান।

যা হোক, মুভিটা কি নিয়ে ?

জন ওল্ডম্যান নামের একজন কলেজ প্রফেসর আকস্মিক ভাবে রিটায়ার করে চলে যাচ্ছেন কোন অজানা স্থানে। তার সহকর্মী বিদ্বান প্রফেসরেরা তাকে শুভকামনা এবং বিদায় জানাতে এসেছেন; জন ওল্ডম্যানের ছোট্ট কাঠের কেবিনে এ কথা সে কথার ফাঁকে বেরিয়ে আসে এক অসম্ভব আইডিয়ার গল্প – ১৪,০০০ বছর বয়সী এক ক্রোম্যাগনন বা গুহামানব, যে নাকি এক অজানা উপায়ে মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে বেঁচে আছে আজকের দিন পর্যন্ত, আমাদের মাঝেই ঠিক আমাদের মত কোন এক আধুনিক মানুষ হিসেবে। তার সামনে মানব ইতিহাসের পুরো চিত্র উন্মোচিত, জীবনের পুরো চিত্রপট খোলা, এক এক পৃষ্ঠার মত উলটে যাচ্ছে এক এক সভ্যতার পাতা – ব্যবলিন সুমেরিয়া বুদ্ধ চীন যীশু কলম্বাস ভ্যানগগ থেকে শুরু করে আজকের মাইক্রোবায়োলজী আর জেনেটিক টেকনোলজীর যুগ পর্যন্ত। এটা কি কোন কৌতুক, কোন ধাঁধা, মাতলামী নাকি……… সত্যি ঘটনা ?

MFTE 1

মুভির সবচেয়ে বড় সমস্যাটা সম্ভবত এখানেই, যা আপনাকে আটকে ফেলবে। একদিকে আপনি কথাগুলোকে বিশ্বাস করতে পারছেন না, আবার নিশ্চিতভাবেই আপনি এগুলো অবিশ্বাসও করতে পারছেন না। দুর্দান্ত এক ইন্টেলেকচুয়াল ডিবেটের ফাঁকে ফাঁকে রুদ্ধশ্বাস বিস্ময়ে শুনে যাচ্ছেন মানুষের পৃথিবীতে পথচলার ইতিহাস……… এই অনুভূতিটা সত্যিই অদ্ভুত।

সবচেয়ে বড় কথা, কলেজ প্রফেসরদের কথাবার্তার মধ্য দিয়ে জীবনের চিরসত্য কিছু ধারণা আর বিশ্বাস নিয়ে অসাধারণ গভীর কিছু চিন্তা উঠে আসে, যা আমাদের চেনা-জানা চিন্তাকে একটা বড়সড় ঝাঁকি দিবে, নতুন করে ভাবতে শেখাবে। আবার খুব সঙ্কীর্ণ মন নিয়ে দেখলে, মুভিটাকে আপনার কাছে সময়ের অপচয় এবং স্রেফ গাঁজাখুরিও মনে হতে পারে। এখানে দর্শকের কল্পনাশক্তি অনেক বড় রোল প্লে করবে, কিভাবে আমরা এটিকে নিচ্ছি, কি ভাবছি এবং সে আলোকে কি রেসপন্স দিচ্ছি।

মুভির শেষ দিকে একটা টুইস্ট আছে, তবে অনেকেই ভাবতে পারেন যে শেষটা হয়তো এরকম না হলেও পারতো। আর একটা পর্যায়ে এসে জন ওল্ডম্যান এমন একটি ঘটনার বিবরণ দেন, যেটা আপনি নিশ্চিতভাবেই অসম্ভব বলে জানবেন, কিন্তু কাহিনীর মোহময়তা এবং অভিনয়ের ফলে এক মুহূর্তের জন্যে হলেও হয়তো বা বিশ্বাস করে বসতে পারেন। মোটকথা, ইন্টেলেকচুয়ালি স্টিমুলেটিং এই মুভিটা অনেকক্ষেত্রেই নির্ভর করবে আমাদের কল্পনাশক্তির ওপর, স্রেফ একটা আইডিয়াকে, হোক সে অনেক শক্তিশালী কিংবা পলকা মিথ্যে একটা গল্প – আমরা কে কিভাবে তা ভেবে নিচ্ছি ?

MFTE 2

যারা সাই-ফাই বলতেই স্টার ওয়ার্স কিংবা টারমিনেটর, ইনসেপশন বা অন্যান্য ব্লকবাস্টার সুপারহিট মুভির কথা ভাবতে চান, তারা স্বাদ বদলের জন্য এই সাধারণ ডিরেকশন-ক্যামেরাওয়ার্কের অসাধারণ এনগেজিং মুভিটা দেখতে পারেন। শেন ক্যারুথের Primer বা ক্রিস্টোফার নোলানের   Memento, কিংবা হালের কাল্ট মুভি Predestination যারা দেখেছেন বা ভালো লেগেছে, কনসেপ্টের জন্য, দর্শকের চিন্তাকে আলোড়িত করবার জন্য এবং নানা ধরনের নতুন প্রশ্নের উদ্রেক করবার জন্য, তুলনামূলক কম গ্ল্যামারাস এই মুভিটাও আপনার চিন্তাকে স্পর্শ করবে, সেটা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি।

রটেন টোম্যাটোজ এ ৮৫% ফ্রেশ রেটিং পেয়েছে মুভিটি, আমার ব্যক্তিগত রেটিং ৮/১০।

তো, দেখতে প্রস্তুত ? টরেন্ট নামিয়ে নিতে পারেন এখান থেকে – The Man from Earth (2007); কিকঅ্যাস টরেন্ট, ফাইলসাইজ ৬০০ মেগাবাইট।

The mythical overlay is so enormous…and not good. The truth is so, so simple.”

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s