ডঃ হাতেম বাযিয়ানের On Military Coups and Post-Colonialism প্রবন্ধটির অনুবাদ সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়েছিল পাঠচক্র অনলাইন ম্যাগাজিন এ। ডঃ হাতেম বাযিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া-বার্কলে এর একজন লেকচারার, এবং যায়তুনা কলেজ ক্যালিফোর্নিয়ার একজন কো ফাউন্ডার ও প্রফেসর  ইসলামিক ল ও থিওলজি।

Hatem1
ডঃ হাতেম বাযিয়ান

সামরিক অভ্যুত্থান এবং উপনিবেশোত্তর কাল

উত্তর-ঔপনিবেশিক পুরো সময়কাল জুড়েই একটি ধ্বংসাত্মক বিষয় বিভিন্ন আঙ্গিকে বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তুরস্কের সাম্প্রতিক ব্যর্থ অভ্যুত্থানটি সম্ভবত এর একটি সমাপ্তি টেনে দিবে। ঔপনিবেশিক শিকল ভেঙ্গে স্বাধীন হওয়া দেশগুলোর জন্য এই ধরনের সেনা অভ্যুত্থান একটা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। যদিও তুরস্ক কখনো সরাসরি কোন দেশের উপনিবেশ ছিল না, কিন্তু ইউরোপীয়ান বিভিন্ন ডিসকোর্সের প্রভাব এবং প্রথম মহাযুদ্ধের পর ইউরোপ-কেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রম এই দেশটিতেও উত্তর-ঔপনিবেশিক কিছু বৈশিষ্ট্য এনে দিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গণতন্ত্র এবং উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করতে নিয়মিত সামরিক অভ্যুত্থান।

সকল সময়েই তুরস্কের এই পশ্চিমা বা ইউরোপমুখী অভিযাত্রাকে কঠিনভাবে নিরাপত্তা দিয়ে গেছে তার সামরিক বাহিনী; এই পশ্চিমা অভিযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করতে পারে কিংবা প্রভাব ফেলতে পারে এইরকম যে কোন উদ্যোগ, যা কি না দেশটির বিস্মৃত অতীতে ফিরে যাবার একটি প্রচেষ্টার, তাকে সাথে সাথেই নস্যাৎ করে দিয়েছে এই সামরিক বাহিনী। তবে সামরিক বাহিনীর অব্যাহত বিরোধ এবং বাঁধার মুখেও তুরস্কের মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত সমাজের সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতির ময়দানে জায়গা তৈরি এবং তাদের দাবী-দাওয়া উত্থাপনের জন্য যে দীর্ঘ সংগ্রাম চলছে, তার প্রশংসা করতেই হয়। মূলত আধুনিক তুর্কী রাষ্ট্রের পত্তনের সময় থেকেই ইউরোপীয় ঘরানার অভিজাত মহল এবং সামরিক বাহিনী ইসলাম এবং এর সামাজিক বহিঃপ্রকাশের বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করে চলেছে। এই কার্যক্রমের ফলে দেশটির ধর্মভীরু জনগোষ্ঠীর এক বিশাল অংশ, যারা মূলত নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অংশ, সমাজ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছিল। সমাজ জীবন থেকে ইসলামের সকল চিহ্ন মুছে ফেলবার জন্য অভিজাত মহল এবং সামরিক বাহিনী ‘আধুনিকমনা ও পশ্চিমাপন্থী’ হবার একটি মাপকাঠি দাঁড় করায়, যার অর্থই ছিল প্রকাশ্যে ইসলামের সাথে দূরবর্তী এমনকি বিদ্বেষপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা।

আধুনিক তুরস্কের সামাজিক অগ্রগতির ধারাটি আরও জটিল হয়ে যায় স্নায়ুযুদ্ধের সময়, যেখানে সকল প্রকাশ্য কিংবা গোপন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় কম্যুনিজমের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করা। স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে কিংবা তুরস্কের ভেতরেও ইসলাম সম্পর্কে একটি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করা হয়; তবে মনে রাখতে হবে এই অবস্থান কেবলই ছিল সমাজে কম্যুনিজমের আগ্রাসনকে দুর্বল করবার একটি পদক্ষেপ, ইসলামের প্রতি কোন জ্ঞানগত মূল্যায়ন থেকে নয়। বরং যখনই তুরস্কে ইসলাম কিংবা এর সামাজিক প্রতিফলনের কোন চিহ্ন দেখা গেছে, অভিজাত মহল এবং সামরিক বাহিনী সাথে সাথেই সেটি নস্যাৎ করে দিয়েছে। যার ফলে সমাজের এক শ্রেণীর মানুষ মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে নিজভূমে পরবাসীতে পরিণত হয়েছে।

একই ধারায়, স্নায়ুযুদ্ধের পরও যে সকল মানুষ বা সংঘ জোরালোভাবে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের সমাজ বা পৃথিবীকে ব্যাখ্যা করতে চাইতেন, সামরিক বাহিনী তাদের দমন-পীড়নে প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা পালন করতে থাকে।  নিজেদেরকে তুরস্কের কট্টরপন্থী সেক্যুলার সংবিধানের অভিভাবক দাবী করা এই সামরিক বাহিনী নিয়মিতভাবেই তুরস্কের বিস্মৃত অতীতের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের যে কোন উদ্যোগ কঠোরভাবে দমন করতে থাকে, এবং অনেক ক্ষেত্রেই এই সামরিক অভ্যুথানগুলোতে মার্কিন বা ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যোগসাজশ লক্ষ্য করা যায়।

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সামরিক অভ্যুত্থান প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। যদিও বেশির ভাগ মানুষ এটিকে  নির্বাচিত সরকারের অযোগ্যতা বা অদক্ষ শাসন ব্যবস্থার ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করেন, কিন্তু এটিই সামরিক অভ্যুত্থান বা সেনা হস্তক্ষেপের মূল কারণ নয়। উত্তর-ঔপনিবেশিক শাসন কাঠামোই হচ্ছে সামরিক অভ্যুত্থানের মূল কারণ।

ঔপনিবেশিক শাসন কাঠামোতে একটি কলোনী বা উপনিবেশের নিরাপত্তা ও সংহতি রক্ষায় রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা এবং ধর্মীয় কাঠামোর পাশাপাশি উপনিবেশের স্থানীয় বাসিন্দা বা ‘নেটিভ’দের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সহিংসতা এবং সামরিক শক্তিও ব্যবহার হয়ে থাকে। একই সাথে, ঔপনিবেশিক শক্তি তার উপনিবেশের নেটিভ জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে তার নিজের স্বার্থরক্ষার কাজে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা, গোয়েন্দাগিরি এবং প্রশাসনে দালাল হিসেবে নিয়োগ করে থাকে।

এই ধারাবাহিকতায়, উত্তর-ঔপনিবেশিক দেশ স্বাধীনতার পরও আদতে সেই উপনিবেশই থেকে যায়, স্রেফ সেখানে হয়তো বিদেশী শক্তি অনুপস্থিত থাকে। ইতোমধ্যেই ঔপনিবেশিক শক্তি তার শাসিত দেশে এক নতুন অভিজাতশ্রেণী তৈরি করে ফেলে যারা নিজ দেশ স্বাধীন হলেও ঔপনিবেশিক প্রভুর স্বার্থরক্ষায় কাজ করে যেতে থাকে। ঔপনিবেশিক শক্তির আদরে-পুষ্টিতে লালিত এই অভিজাত শাসকশ্রেণী স্বাধীন দেশ, দেশের অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ সবকিছুকেই সেই ‘ঔপনিবেশিক মাতৃভূমি’র সুযোগ-সুবিধার জন্য অব্যাহতভাবে চালিয়ে যেতে থাকে। মনে রাখতে হবে, এই ঔপনিবেশিক প্রেক্ষাপট দেশের সকল ক্ষেত্রেই – রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, শিক্ষা এবং ধর্ম, সমান ভাবে প্রযোজ্য। একই ভাবে, যে সামরিক বাহিনী ঔপনিবেশিক শক্তির অধীনে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা সংরক্ষণের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে গিয়েছিল, স্বাধীনতার পর উত্তর-ঔপনিবেশিক সময়ে এসেও সামরিক বাহিনী একই ধারায় কাজ করে যেতে থাকে।

সামরিক অভ্যুত্থানগুলো সবসময়েই উত্তর-ঔপনিবেশিক দেশগুলোকে শাসনতান্ত্রিকভাবে দুর্বল এবং তার ঔপনিবেশিক প্রভুর উপর নির্ভরশীল করে রাখতে চেয়েছে, যেন কখনোই তা স্বাধীন দেশ হিসেবে সেই ‘ঔপনিবেশিক মাতৃভূমি’র প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে যেতে বা পারে। একটি রাষ্ট্রকে যদি আমরা মানুষের জীবনের সাথে তুলনা করি, তাহলে দেখা যায় রাষ্ট্র তার শৈশব, কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে অবতরণ করে, বৃদ্ধ হয়। সামরিক অভ্যুত্থানগুলো এমন একটি প্রক্রিয়া বা কাজ যা কি না রাষ্ট্রকে আজীবনই তার শৈশবে বন্দী রাখতে চায়। যার ফলে নিত্যদিনের কাজকর্মের জন্য তাকে সবসময়েই ‘ঔপনিবেশিক মা’য়ের সহযোগিতার উপর নির্ভর করে চলতে হয়।

একটি উত্তর-ঔপনিবেশিক সমাজের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে এগিয়ে যাবার প্রক্রিয়ায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় সামরিক অভ্যুত্থান। প্রতিটা অভ্যুত্থানেই একটি দেশের উন্নয়ন এবং অগ্রগতির চাকা পিছিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায় অতীতের কোন স্থানে, যেখানে আবার সেই উত্তর-ঔপনিবেশিক অভিজাত শাসকগোষ্ঠীই সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রে ‘পুনর্বাসন’ কার্যক্রমের জন্য সাহায্য চাইতে থাকে তার পূর্বতন ঔপনিবেশিক প্রভুদের কাছে।

আজকের তুরস্কে আমরা দেখেছি একই সাথে কয়েকটি ধারা এগিয়ে চলছে। গণতান্ত্রিক পথে অভিযাত্রা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং ইউরোপীয় চিন্তা ঘরানার বাইরে এক নতুন অভিজাত শ্রেণীর আগমন। এর আগে সবসময়েই, মূলত আধুনিক জাতি-রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করবার পর থেকেই তুরস্কের শাসকশ্রেণী এবং সামরিক বাহিনী তুর্কী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি স্থাপন করেছিল ইসলাম বিরোধিতার ওপর। তুরস্কে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে স্রেফ রাষ্ট্র এবং মসজিদ আলাদা করে ফেলা নয়, বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সকল ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যভাবে ইসলামের বিরোধিতা করাটাই ছিল সেই ধর্মনিরপেক্ষতার প্রকৃত স্বরূপ। তুর্কী প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র এবং মসজিদ আলাদা করে ফেলা বলতে বোঝানো হয়েছিল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সকল ক্ষেত্রেই ইসলাম এবং ইসলামের প্রতীকগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা।

স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী পৃথিবীতে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অংশে এক নতুন অভিজাতশ্রেণীর উন্মেষ ঘটে যারা চিন্তা-মননে ইউরোপীয় ধ্যানধারণা পোষণ করেন না, এবং সকল ক্ষেত্রে ইউরোপের অনুকরণকেই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে মনে করেন না। এই নতুন ইন্টেলেচুয়াল মুসলিমেরা তুলনামূলক তরুণ, বেশিরভাগের বয়স ২৫-৫০ এর মধ্যে, এবং ইউরোপিয়ান ইতিহাসের পাশাপাশি ইসলামের ইতিহাসেও রয়েছে এনাদের তুখোড় দখল। তুরস্কের এই আধুনিক মহলটি উচ্চ শিক্ষিত, বর্তমানের সকল ইন্টেলেকচুয়াল ধ্যানধারণার উপর তাদের দখল রয়েছে এবং তারা ছড়িয়ে আছেন বিশ্বব্যাপী, যার ফলে রেটোরিক সর্বস্ব পশ্চিমা ওরিয়েন্টালিস্ট বয়ানে এনাদেরকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া যাচ্ছে না। তুর্কী উন্নয়নের চাকা পেছনে ঘুরিয়ে দিয়ে তাদের অনুগত সেবাদাসদের আবারও ক্ষমতায় দেখতে পশ্চিমা বুদ্ধিজীবিমহল এবং মিডিয়া  কি পরিমাণ মুখিয়ে ছিল সেটা ব্যর্থ অভ্যুত্থানটির একদম শুরুর সময়ে তাদের প্রতিক্রিয়াগুলো দেখলেই স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছিল।

তুরস্কের বর্তমান নেতৃত্ব দেশটির অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে ব্যাপক গতি সঞ্চার করেছে; প্রথমত, অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল লক্ষ্য এখানে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেনী। পাশাপাশি প্রায় ৭০টি নতুন কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে; যার ফলে এখন এমন মানুষেরাও উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে, যারা হয়তো আগেকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামনে একটি ছবি তুলবার স্বপ্নও দেখতে পারতো না। একই সাথে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে, এবং এখন সাধারণ মানুষেরা তাদের ইসলামী ঐতিহ্য এবং অভ্যাসগুলো প্রকাশ্যেই পালন করতে পারছে।

আমি জানি তুরস্কের বেসামরিক নেতৃত্ব একটি সম্ভাব্য সামরিক অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা এবং কিভাবে তা মোকাবেলা করা হবে তা নিয়ে অনেক আগ থেকেই শঙ্কিত ছিল; এবং এই অভ্যুত্থান দমনে তাদের বর্তমান কার্যক্রম এবং প্রতিক্রিয়াগুলো মূলত এই অভন্তরীন টানাপোড়েনেরই ফসল। অনেকেই বলতে পারেন তুর্কী সরকার এই সামরিক অভ্যুত্থানের ব্যাপারে অতিমাত্রায় আতঙ্কিত, কিন্তু উত্তর-ঔপনিবেশিক শাসন কাঠামো এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এই ধরনের প্রেক্ষাপটে মার্কিন-ইউরোপিয়ান হস্তক্ষেপের কথা মাথায় নিয়ে যদি আমরা চিন্তা করি, তাহলে তুরস্কের আজকের পরিস্থিতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে এই ধরনের কাজের ফলাফল কত সুগভীর হয়ে পারে।

যদি আমরা ইতিহাসের বৃহত্তর পর্দায় তাকাই, একেবারে প্রথম মহাযুদ্ধের শেষ পর্যায় থেকে, যখন সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামো থেকে ইসলামকে মুছে ফেলা হয়েছিল, এবং ইসলামকেই সমস্যার মূল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, সেখান থেকে প্রায় ১০০ বছর পর তুরস্কের আজকের এই অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, তুরস্কের সামাজিক জীবনে ইসলামের ভূমিকা স্বাভাবিকভাবে ফিরিয়ে আনবার প্রচেষ্টাটিই এখানে মূল বিষয়। আগের এবং এখনকার সামরিক অভ্যুত্থানগুলো এই প্রচেষ্টাকেই বারবার বাঁধা দিতে চেষ্টা করছে। আজকের তুরস্কের এই প্রচেষ্টার সফলতা কিংবা ব্যর্থতা সমগ্র মুসলিম বিশ্ব এবং ইউরোপের ওপর এক গভীর এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে কোনই সন্দেহ নেই।

 

 

Advertisements