ঠিক কি কারণে আরব উপদ্বীপের একটা ছোট শহর থেকে পৃথিবীর দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে ইসলাম ছড়িয়ে গেল এবং সেখানকার মানুষেরা নিজেদের হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং বিদ্যমান আত্নপরিচয় অনেকাংশে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে ইসলামে লীন হয়ে গেল সেটার অনেকগুলো কারণ আছে।

তবে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামের ওপেননেস, অর্থাৎ সবাইকে বরণ করে নিয়ে জায়গা দেবার মত বিশালত্ব এর একটা অন্যতম কারণ বলে মনে হয়।

ঠিক এই কারণেই একজন মানুষের পূর্বজীবনের সকল চিহ্ন যেমন ইসলাম ভুলে যায়, তেমনি মুসলমানেরাও ভুলে যায় এই লোকটা দু’দিন আগেও কি করে এসেছিল। মাইকেল জ্যাকসন প্যারিস হিলটন বা লিন্ডসে লোহানের ইসলাম গ্রহনের ক্লিকবেইট গুজবগুলোতে আলহামদুলিল্লাহ সুবহানাল্লাহ কমেন্টের কমতি কোন দিনও পড়েনা, দেশ-কাল-পাত্র যতই ভিন্ন হোক। গুজব শুনে হোক বা বাস্তবেই হোক, একজন ‘পাপী’ সিনেমার তারকা, সঙ্গীত শিল্পী বা উগ্র ইসলামবিদ্বেষীকেও স্বাগত জানিয়ে বুকে টেনে নিতে পারে সেই ‘অযোগ্য’ ‘গোঁড়া’ সহজ সরল মানুষগুলো।

এটা কি স্রেফ তাদের জ্ঞানের অভাব, নাকি মনের উদারতা ?

আয়নার উল্টোপাশের চিত্রটা এর অনেকটাই বিপরীত। জেনারেলাইজেশন করছি না, তবে উগ্র ডানপন্থী সেক্যুলারিজম এবং লিবারেলিজমের বিভিন্ন ভার্সনে আমরা দেখতে পাই একজন মুসলমান তার দাঁড়ি-টুপি-পোশাক ছাপিয়ে কখনও ‘মানুষ’ হয়ে উঠতে পারে না। এমনকি সে যদি নিজে ‘লিবারেল’ হতে চেয়েও থাকে, আইন-সমাজ-পরিবেশ তাঁকে সেই ছাঁচে পুরোপুরি গ্রহণ করতে চায় না। এই জিইয়ে রাখা ঘৃণার চাষাবাদে (নাথান লীন যেটিকে বলেছেন দ্য ইসলামোফোবিয়া ইন্ডাস্ট্রি) নানান নামে শোষণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার ইচ্ছায় হোক, কিংবা স্রেফ নিজেদের আইডিওলজিক্যাল ইনসিকিউরিটি থেকেই হোক, দাঁড়ি-টুপিওয়ালা ঐ মানুষগুলো সারা জীবনই ‘অপর’ থেকে যায়।

আজন্ম ড্রাগস-অ্যালকোহল-সুদ-ঘুষ আর নিষিদ্ধ সম্পর্কে জড়িয়ে থাকা একজন “পাপী” মানুষকে আমাদের মসজিদে আমরা স্বাগত জানাতে পারবো যে কোন সময়ে, নূন্যতম দ্বিধা ছাড়াই। কিন্তু তথাকথিত “উন্মুক্ত জ্ঞানচর্চা”র জায়গাগুলোতে, তা সে বইমেলা হোক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের টপ ডিপার্টমেন্ট, টুপি-পাঞ্জাবীওয়ালাদের সহ্য করা হবে না কোনভাবেই।

আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ফার্স্ট হন, লাভ নেই। বইমেলাতে বই প্রকাশ করেন, তাতেও লাভ নেই। কারণ শক্তিমান এস্টাবলিশমেন্টের কাছে আপনি “অপর”।

উগ্রপন্থী, সংকীর্ণমনা, কূপমণ্ডূক বা মৌলবাদী শব্দগুলো ঠিক কাদের সাথে মানায় ?

(ফিচারড ফোটো হিসেবে মাদ্রাসার বাচ্চাকাচ্চাদের দুর্দান্ত এই ছবিটা তুলেছেন নাসিফ ইমতিয়াজ)

Advertisements