উত্তরবঙ্গ অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে আমরা চলে আসলাম নাটোর। সেই ক্লাস ফোর-ফাইভে পড়া গল্পের নাটোরের রাণী ভবানী বা কাঁচাগোল্লার গল্পের পাশাপাশি বনলতা সেনের শহর নাটোর।

ইন্টরেস্টিং মিথ জানা গেলো শহরটাকে নিয়ে। মায়ের আদেশে তৎকালীন এই অঞ্চলের রাজা রামজীবন তার রাজধানী স্থাপনের জন্য উপযুক্ত একটি স্থানের সন্ধান করতে থাকেন। এক বর্ষাকালে রাজা নৌকা নিয়ে রাজধানী স্থাপনের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচনে বের হন, এবং ঘুরতে ঘুরতে তারা ভাতঝাড়া বিলের মধ্যে উপস্থিত হন। বিলের একটি স্থানে তারা দেখতে পেয়েছিলেন যে, দু’টি সাপ সাঁতার দিয়ে বিল পার হচ্ছে এবং একটি ব্যাঙ ছোট একটি সাপকে গিলে খাচ্ছে। রাজার সভাসদ-পন্ডিতেরা সেই জায়গাটাকেই রাজধানী নির্মাণের স্থান হিসাবে উপযুক্ত বলে মত দেন,  এবং রাজবাড়ি নির্মাণ করার পর রাজ-আমলা, কর্মচারী বহুবিধ লোকের সমাগমে অল্পদিনের মধ্যে বিলটি একটি শহরে পরিণত হয়। সেই পরিণত শহরই নাটোর।

IMGA0755

গেট দিয়ে ঢুকে বেশ খানিকটা ভেতরে রাজবাড়ীর ফ্রন্ট সাইড; অনেক অংশ খুবই জরাজীর্ণ এখন।

IMGA0714

IMGA0708

নাটোর রাজবাড়ীর নাটমন্দিরের অক্ষত অংশ, সম্ভবত বাইরের দেয়ালটুকুই টিকে আছে এখনও।

IMGA0734

সেখান থেকে আমরা চলে আসলাম দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ী, যেটা এখন উত্তরা গণভবন নামেই পরিচিত। কি একটা প্রোগ্রাম থাকায় আমরা ভেতরে ঢুকতে পারিনি, বাইরে থেকে দেখে চলে আসতে হয়েছিল। ১৭৬০ সালে নাটোর রাজবাড়ীর রাজা রামজীবনের আশীর্বাদে দয়ারাম রায় নামক একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দিঘাপতিয়ায় একটি জমিদারী লাভ করেন, এবং সেখান থেকে আশেপাশের জেলাগুলোতেও তার জমিদারী ছড়াতে থাকে।

IMGA0756

IMGA0762

জম্পেশ কাঁচাগোল্লা খাবার পর আমরা চলে আসলাম বগুড়া। প্রথম স্টপ অবশ্যই মহাস্থানগড় – আড়াই হাজার বছরের গৌরবোজ্জল ইতিহাসের এক নীরব স্বাক্ষী, সেদিনের সেই পুন্ড্রবর্ধন। আজকে অবশ্য দেখে তেমন কিছুই বোঝার নেই।

IMGA0779

IMGA0787

বিহারের ঠিক পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা সেই করতোয়া নদী আজকে বিশীর্ণা।

IMGA0791

এরপরের গন্তব্য গোকুল মেধ, যেটাকে আবার বলা হয় বেহুলা-লখিন্দরের বাসর। ছোটবেলা থেকেই মহাস্থানগড় বলতে কেন যেন এই জায়গাটার ছবিই মনে গেথে গিয়েছিল।

IMGA0811

IMGA0836

IMGA0841

ঘোরানো পেঁচানো সিড়ি দিয়ে টপে ওঠার পর এই গর্ত পাওয়া গেল। বেহুলার বাসর তো মিথোলজী অনুসারে নিশ্ছিদ্র হবার কথা।

IMGA0848

IMGA0850

IMGA0857

শহরে ঘুরতে ঘুরতে আচমকাই বিহারী পট্টির সন্ধান পেয়ে যাওয়ায় সেখানে বট-তিল্লি-ক্ষিরি কাবাবের সাথে সস্তায় জম্পেশ ডিনার হয়ে গেল। সাথে সাতমাথা এলাকা থেকে বগুড়ার দই।

ছোট কিন্তু দুর্দান্ত একটা শহর, বিশেষত তারেক রহমানের করা উন্নয়নের জোয়ারে শহরের ইনফ্রাস্ট্রাকচার দাঁড়িয়ে গেছে সেই পর্যায়ের। অবশ্য নর্থ বেঙ্গলের সবচেয়ে পশ হোটেল নাজ গার্ডেনে থাকা-খাবার অভিজ্ঞতা হয়েছিল অন্য একটা ট্রিপে, মনে হচ্ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইস্টার্ন ইয়োরোপের কোন রান-ডাউন জায়গায় আছি।

Advertisements