আমাদের খাঁচাবদ্ধ শহুরে ইঁদুরের জীবনে এসময়কার সবচেয়ে ওভাররেটেড শব্দ সম্ভবত দু’টো – এক হচ্ছে ডিপ্রেশন, আর দুই হচ্ছে মোটিভেশনাল।  জীবনের প্রতি পদে পদে কারণে অকারণে ডিপ্রেশনে ভোগা তরুণ প্রজন্ম আমরা, অবশ্য এর দায়টুকু ঠিক কতটা ঐ তরুণদের সেটাও বিবেচ্য বিষয়। মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্ত সমাজের ছাপোষা মানুষজন, যারা মোটাদাগে আমাদের অভিভাবক সমাজ, তাদের বেঁচে থাকার এবং বাঁচিয়ে রাখবার আজন্ম সংগ্রামের ফলাফল হিসেবে যে অসম্ভব চাপগুলো জমে ওঠে, ট্রিকল ডাউন ইফেক্টে সেগুলো প্রবাহিত হতে থাকে উঁচু থেকে নিচুতে, প্রায় সময়েই যার সর্বশেষ স্তরে থাকে পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তান, বা বাসের নিরুপায় কন্ডাক্টর, রাস্তার টোকাই বা বাসার কাজের লোক, যারা প্রতিবাদ করতে জানে না। গরমে জ্যামে বাসের দরজায় ঝুলে অফিসে বসের গালি খেয়ে সরকারী সেবার যাঁতাকলে পড়ে টানাটানির সংসারে ডিপ্রেশন বা মোটিভেশন খুঁজতে যাওয়ার ইচ্ছা, সময় বা সুযোগ কোনটাই কখনও হয় না।

“যে জীবন ফড়িংয়ের, দোয়েলের – মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা” – জীবনানন্দ দাশ

নিজের নামে আনন্দ থাকা সত্ত্বেও মানুষটা বিষাদের কবিতা লিখে দুঃখজনকভাবে অকালে মারা গিয়েছিলেন। একেই কি কাব্যিক পরিহাস বলে ?

সমস্যাটা তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তরুণদের, অন্তত আমার সেটাই মনে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন মাত্রার দীর্ঘশ্বাস, হ্যাশট্যাগ #স্যাডলাইফ আর ক্রমবর্ধমান আত্নহত্যার হার একটা ভয়াবহ রূপকল্পের সন্ধান দেয় যেটা হচ্ছে দায়-দায়িত্ব আর সমস্যার মোকাবেলা না করে থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাওয়া ইনসিকিওর একটা নতুন প্রজন্ম, বুদ্ধদেব গুহের ভাষায়, যাদের আকর্ণ হাসির নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে কান্নার স্রোতধারা……

সন্দেহাতীতভাবেই এর একটা বড় অংশ জেনুইন, প্রতিনিয়ত অসম্ভব প্রেশার আর স্ট্রেস নিয়ে কাজকর্ম করতে করতে আমাদের সাপ্তাহিক জীবন কিভাবে ফুরিয়ে যায় সেটা বোঝা মুশকিল। এর সাথে যুক্ত হয় অভাব-সমস্যা আর সম্ভাবনার দোলাচালে ঘুরতে থাকা এই বাংলাদেশের আত্নপরিচয়হীন বহুমাত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, যার চাপে পড়ে আমরা খুঁজে নিই দশজনের স্বপ্নে, ইচ্ছায় বাঁচতে। নিজের মনের স্বপ্ন-ইচ্ছেগুলো গুমরে মরতে থাকে দিনের পর দিন, আর এর টনিক হিসেবে আমরা খুঁজি সস্তা টিভি-সিনেমার বিনোদন, স্ট্যান্ডআপ কমিক, মোটিভেশনাল বক্তার সাময়িক সুখ অথবা একাকীত্বের সঙ্গী হিসেবে, গান।

যাই হোক, অকারণ দুঃখবিলাস বাদ দিলে অনেক ক্ষেত্রেই বিক্ষিপ্ত হয়ে ওঠা মনকে সান্তনা দিতে হয়ে সুর আর কথার শরণ নিয়ে। এখানে টুকে রাখলাম কিছু গান, মাঝে মাঝেই এগুলো আমাকে উঠে দাঁড়িয়ে আবার দৌড়াতে চালিত করে……

শো দেম হু ইউ আর – আব্রাহাম ডি ভিলিয়ার্স

Escape to far place in yourself, Where you can regain your strength…

To find the things that You Need most to boost your confidence

ক্রিকেট মাঠে অনুপ্রেরনা দেয়া পাগলাটে লোকটা ভালো গানও গাইতে জানে। খুব সিম্পল কথা, হয়তো একটু চিজি শোনাতেও পারে, তবে পাম্পড আপ করবার জন্যে যথেষ্ট……

আই অফ দ্য টাইগার – দ্য সারভাইভর

It’s the eye of the tiger, It’s the thrill of the fight….
Rising up to the challenge of our rival
And the last known survivor, Stalks his prey in the night…..
And he’s watching us all with the eye of the tiger

বক্সার রকি বালবোয়া আর এই গানটা যেন একে অপরের পরিপূরক…… জীবন মানেই ভেঙ্গে পড়া থেকে আবার জেগে ওঠা।

জিন্দা – ফারহান আখতার

Aag zubaan pe rakh de, Phir chot ke honth bhigaayenge
Ghaav gungunaayenge, Tere dard geet ban jaayenge…..

Put fire on the tongue, Then we’ll wet the lips of injury;
The wounds shall sing, and your pain will become songs….

স্পোর্টস ড্রামাগুলো সবসময়েই জীবনের উত্থান-পতনের গল্প বলে।

লাভ উইল কাম টু ইউ – পোয়েটস অফ দ্য ফল

Till all laughter is claws on your skin
and your moments of clarity scream the hell within
When you fade like a rose in the gloom love waits outside your room

Like morning dew your love will come again to you

কিছু কিছু গান শুধু গান না, এগুলো হয়ে ওঠে বিমূর্ত শিল্পকর্ম। অসাধারণ তবে আন্ডাররেটেড এই ব্যান্ডের একটা অসাধারণ গান……

টিল আই কলাপস – এমিনেম

Till the roof comes off, till the lights go out
Till my legs give out, can’t shut my mouth.
Till the smoke clears out. Am I high? Perhaps
I’ma rip this shit till my bones collapse.

এমিনেম, সবসময়েই উঠে দাঁড়াবার অনুপ্রেরণা……

লিভিং অন অ্যা প্রেয়ার – বন জোভি

“We’ve gotta hold on to what we’ve got. It doesn’t make a difference if we make it or not.
We’ve got each other and that’s a lot. For love we’ll give it a shot…..”

নিম্ন-মধ্যবিত্তের সংগ্রাম স্বপ্ন আর বেঁচে থাকবার লড়াই, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে পৃথিবীর সবখানেতেই এক…

ড্রিম অন – অ্যারোস্মিথ

Every time I look in the mirror, All these lines on my face getting clearer.
The past is gone; It went by like dusk to dawn.

Yeah, I know nobody knows, Where it comes and where it goes…
I know it’s everybody’s sin, You got to lose to know how to win.

স্বপ্নে বাঁচার গল্প……

নট অ্যাফরেইড টু স্ট্যান্ড অ্যালোন – নেটিভ দীন

I am not afraid to stand alone. If Allah is by my side
I am not afraid to stand alone. Everything will be alright
I am not afraid to stand alone. Gonna keep my head up high

মুসলমান হিসেবে প্রতিনিয়ত চলা অস্তিত্বের সংগ্রামের গল্প……

তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর – আপেল মাহমুদ

বৈশাখের ওই রুদ্র ঝড়ে, আকাশ যখন ভেঙে পড়ে
ছেঁড়া পাল আরও ছিঁড়ে যায়

হাতছানি দেয় বিদ্যুত্‌ আমায়, হঠাৎ কে যে শঙ্খ শোনায়
দেখি ঐ ভোরের পাখি গায়…..

মুক্তিযুদ্ধে ক্লান্তশ্রান্ত যোদ্ধাদের আবার চাঙ্গা করে তুলতে পেরেছিল যে গান, সেটা সবসময়ই শক্তি যোগায়……

দ্য শো মাস্ট গো অন – কুইন

Empty spaces – what are we living for ?
Abandoned places – I guess we know the score
On and on, does anybody know what we are looking for…
Another hero, another mindless crime, Behind the curtain, in the pantomime
Hold the line, does anybody want to take it anymore.
The show must go on…….

ফ্রেডি মার্কারির গলায় বেঁচে থাকার আহবান……

লুজ ইয়োরসেলফ – এমিনেম

He’s nervous, but on the surface he looks calm and ready to drop bombs,
But he keeps on forgetting what he wrote down, The whole crowd goes so loud
He opens his mouth, but the words won’t come out
He’s choking how, everybody’s joking now
The clock’s run out, time’s up, over, blaow!

সম্ভবত সর্বকালের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছু মোটিভেশনাল গানের তালিকায় এইটা থাকবে। কিছু ক্রুশ্যাল সময়ে আমাকে অদ্ভুত সাহস দিয়েছিল গানটার স্রেফ কয়েকটা কথা……

এইসব মোটিভেশনাল গান-টান কি শুধুই ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষজন বা মানসিকভাবে দুর্বল লোকদের জন্যে প্রযোজ্য?

উত্তর – না 😉

মার্কিন নির্বাচনে গত বছরের ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে বক্তব্য দেয়ার আগে আংকেল বারাক ওবামা ‘লুজ ইয়োরসেলফ’ শুনে পাম্পড আপ হয়ে নিচ্ছিলেন কিভাবে দেখে নিন।

Advertisements