ব্যাকপ্যাকিং হজ্জঃ দেখে শুনে ও ঠেকে শেখা অভিজ্ঞতা…


ডিসক্লেইমারঃ এই অভিজ্ঞতাটা মূলত একজন সাধারণ  বাঙ্গাল মুসলমানের উৎসুক চোখে দেখা জিনিসপাতির খোলামেলা আলোচনা।  শরীয়তের জ্ঞান ও তাকওয়ার মাপকাঠিতে আমার অবস্থান খুঁজে পাওয়া দায়, তাই এখানে হজ্জের শরয়ী তাৎপর্য বা মাস’য়ালা বিষয়ক কোন আলোচনা পাওয়া যাবে না। সবচেয়ে বড় কথা, হজ্জের ধর্মীয় বা ফিলসফিক্যাল তাৎপর্য নিয়ে অনেক অনেক আলোচনা আছে, কিন্তু আমাদের দেশের সাধারণ হাজীদের জন্যে স্রেফ গাইড হিসেবে বাংলাতে কোন ভালো কন্টেন্ট একেবারেই নেই। তবে আমার মূল লক্ষ্য ভবিষ্যতের হাজীদের, বিশেষত তরুণদেরকে উৎসাহ দেয়া…..


আল্লামা মুহম্মদ আসাদের মক্কার পথ বইটা যারা পড়েছেন, তারা সহজেই অনুভব করতে পারবেন কিভাবে স্রেফ একটা জার্নি একজন মানুষের গোটা জীবনকে পাল্টে দিতে পারে। অবশ্য এর জন্য হজ্জের আবেগিক, আধ্যাত্নিক আর রাজনৈতিক শিক্ষাগুলোকে পুরোপুরি অনুভব করতে পারার সংবেদনশীলতা প্রয়োজন, যা হজ্জের পর ঘরে ফিরে একজন নতুন মানুষ হিসেবে রুপান্তরে আপনাকে সাহায্য করবে।

অবশ্য আমাদের সামাজিক বা ব্যক্তিক মননে হজ্জকেন্দ্রিক বেশ কিছু স্টেরিটিপিক্যাল কনসিডারেশন আছে, কিছু বিরূপ ধারণাও হয়তো প্রচলিত আছে। তবে যেই দৃষ্টিভঙ্গীই থাকুক না কেন, খোলা মনে এবং খোলা চোখে একজন মানুষ জিলহজ্জ মাসের কিছু সময় মরুভূমির ঐ দু’টো বরকতময় শহরে কাটিয়ে আসে, সেই মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী এবং বিচার-বিবেচনায় একটা বিশাল বড় পরিবর্তন আসতে বাধ্য।

একটা ছোট ব্যাকগ্রাউন্ড দিয়ে মূল গল্প শুরু করি।

আমার মায়ের দাদা (কুমিল্লার পরিভাষায় আমরা তাকে বলতাম বড়আব্বা) ছিলেন অসম্ভব ভ্রমণপিয়াসী একজন মানুষ। সারাদেশ এবং তৎকালীন উপমহাদেশের হেন কোন জায়গা নাই যেখানে তিনি ঘুরে আসেন নি। (পাগলামীর নমুনাঃ ইতিহাসের বইয়ে নাকি পড়েছিলেন মুঘলরা পানিপথের যুদ্ধে জিতেছে, তার মাথায় ভূত চাপলো পানিপথ দেখে আসতে হবে। বাপের জমি বেঁচে টেচে তিনি ঘুরে আসলেন পানিপথ থেকে !) এরই ধারবাহিকতায় আশির দশকে জাহাজে চড়ে হজ্জযাত্রার সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতা সয়ে তিনি আমাদের পরিবারের প্রথম ‘হাজী’ হয়ে ফিরলেন। তিনি নাকি সবার জন্যে দোয়া করে এসেছেন।

তিন জেনারেশন পর সেই ঘুরুঞ্চি মানুষের জিন সম্ভবত এই অধমই বহন করে চলছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায়ের কোন পথ আমার জানা নেই, কোন এক অলৌকিক উপায়ে (সম্ভবত মা-বাবার ননস্টপ দোয়ার দৌলতে) আল্লাহ আমাকে হজ্জের সুযোগ করে দিয়েছিলেন, অবশ্য এর জন্যে অমানুষিক চেষ্টা-প্রচেষ্টাও চালাতে হয়েছে দীর্ঘদিন। নিয়ত অনুসারে অনেক জল্পনা-কল্পনা-পরিকল্পনার পর ২০১৬ সালের তৃতীয় হজ্জ ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়বার উদ্দেশ্যে পা রাখি এয়ারপোর্টের বিপরীতে আশকোনার হজ্জ ক্যাম্পে।

এর আগে অবশ্য প্রচন্ড দৌড়াদৌড়ি গিয়েছে ক’টা দিন। রেজিস্ট্রেশন, টিকেট-ভিসা নিয়ে হালকা টেনশন, একদিন সরকারী হাসপাতালে গিয়ে দুই হাতে মেনিনিজাইটিস আর ইয়েলো ফিভারের প্রতিরোধক টিকা নিয়ে আসা। ব্যাকপ্যাকার হিসেবে জামাকাপড়ের গাট্টি নেবার বালাই নেই, আর হাতখরচের জন্য অতি সামান্য কিছু পয়সা বাদে হাতে কোন টাকাও নেই। আল্লাহ ভরসা, যা আছে কপালে……

hajj camp
হজ্জ ক্যাম্প, আশকোনা, ঢাকা

হজ্জ ক্যাম্প খুব ইনটেরেস্টিং একটা জায়গা। হজ্জে যাওয়া আত্নীয়-স্বজনকে বিদায় জানাতে বেশ ক’বার আগে আসা হলেও নিজে যাত্রী হয়ে এসে বেশ খুঁটিয়ে দেখবার সুযোগ হলো। শত শত মানুষ অপেক্ষমান, সেখানে সৌম্যদর্শন প্রৌঢ় আংকেল আন্টি আছেন, মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী ছেলের পাঠানো পয়সায় হজ্জ করতে যাওয়া বৃদ্ধ চাচা-চাচী আছেন, সরকারী-বেসরকারী চাকরী শেষ করে রিটায়ারমেন্ট কাটানো দম্পতিরাও আছেন, শক্তসমর্থ একা মানুষও আছেন। তবে তরুণ বয়সী কাউকে না দেখে একটু হলেও হতাশ হতেই হলো। হজ্জ অসম্ভব কঠিন একটা ইবাদত, বয়স এবং শারীরিক শক্তি জিনিসটা প্রচন্ডভাবে ম্যাটার করে এইখানে। (তবে এটাও ঠিক যে বিশ্বাসের শক্তি অপরিসীম, আশি বছর বয়সী কুজো মানুষও দুর্দান্তভাবে হজ্জ করে ফেলেন আল্লাহর ইচ্ছায়)।

ইয়াং বয়সে বা অন্তত চল্লিশের আগে হজ্জ না করার এই বাংলাদেশী কালচারটা যতটা না বেশি আর্থিক, তার চেয়েও বেশি মানসিক বলে মনে হয়।

যা হোক, প্রথম ফ্লাইটের পর দ্বিতীয় ফ্লাইটেই বাংলাদেশ বিমান নাকি লেট করা শুরু করেছে। আমাদের ইমিগ্রেশন ফর্মালিটি সবকিছু হজ্জক্যাম্পেই শেষ, বাসে করে রাস্তা পার হয়ে এয়ারপোর্টে লাউঞ্জে ঢুকে ফজর পড়ে নিলাম সবাই। এইখানে অবশ্য প্রথমবারের মত যারা মক্কায় যাচ্ছেন তাদের আবেগটা খুবই ভিন্ন, প্রতিটা মুহূর্তে কা’বার সামনে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় চোখ বুজে থাকেন তারা। শংকা আশা বিশ্বাস সবকিছু মিলিয়ে প্রতিটা মানুষের চেহারাতেই এক নতুন জেল্লা দেখা যাচ্ছে।

সাত ঘন্টার মসৃণ ফ্লাইট শেষে জেদ্দা এয়ারপোর্টে নেমেই মূলত যুদ্ধের শুরু (হজ্জ যে জিহাদের সমতুল্য, এই জিনিসটা আমাদের বাঙ্গালদের জন্যেই সবচেয়ে বেশি সত্য। এই জিহাদই সাসটেইন করা যায় না, অন্য কিছু করবার মুরোদ কতখানি তা বলাই বাহূল্য)। হজ্জ ইমিগ্রেশনের ফর্মালিটিতে প্যাঁচ আছে, এইখানে পোড় খাওয়া লোকজনও ধান্দাকানা মেরে যেতে পারেন। অ্যারাইভাল লাউঞ্জে এম্বার্কেশন কার্ড হাতে নিয়ে অনেকেই অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকবে, নিজেরটা শেষ করে যথাসম্ভব অন্যদেরকে লিখে দিতে পারেন।

জেদ্দা এয়ারপোর্টের হজ্জ টার্মিনাল নাকি আকারে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টার্মিনাল, অবশ্য আধুনিক এয়ারপোর্টের সুযোগ-সুবিধাগুলোর বেশির ভাগই সেখানে নেই। ডোম শেইপের ছাউনি উপরে, বাতাস বলতে মরুভূমির লু হাওয়া। এর মধ্যে দিয়ে হেটে হেটে খুঁজে পাওয়া গেল বাংলাদেশ প্লাজা, একদম শেষ মাথায়। বাংলাদেশী সকল হাজীদের ম্যানেজমেন্ট এইখান থেকেই হয়। বাংলাদেশী হজ্জ মিশনের লোকেরা অবশ্য খুবই তৎপর, পতাকা হাতে হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা ইমিগ্রেশন পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশ প্লাজা পর্যন্ত, যেটার দূরত্ব প্রায় আধা কিলোমিটার হতে পারে। ছোট একটা ব্যাগ নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যেতে যেতে ভারী হ্যান্ড লাগেজের বোঝা নিয়ে চলা বৃদ্ধ মানুষগুলোর কষ্ট দেখে খারাপই লাগে।

অভিজ্ঞতার আলোকেঃ

হ্যান্ড লাগেজ অবশ্যই যথাসম্ভব হালকা রাখা জরুরী – ইমিগ্রেশন কাউন্টারের আশেপাশেই বাঙ্গালী পাকিস্তানী ক্লিনাররা মোবাইলের সিম কেনার জন্য ফিস ফিস করবে, ২০-৫০ রিয়াল যাই নিক দ্রুত সিম কিনে ফেলতে হবে (কারণ মক্কা বা মদীনায় গেলে লাখো মানুষের ভিড়ে মোবাইল সিমের জন্য চরম হাহাকার পড়ে যাবে। একটা সিমের জন্য মানুষ ৩-৪ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পায়নি এমনও দেখেছি) – বাঙ্গালী ভলান্টিয়ারদের সাথে একটু হাসিমুখে কথা বললে এরা বর্তে যায়, ট্রাই করেই দেখবেন। আর মরুভূমিতে পৌছেই পিপাসার্ত অবস্থায় বরফঠান্ডা পানি (বিশেষত কমপ্লিমেন্টারী যে জমজমের পানির বোতল দিবে সেটা খুব ঠান্ডা থাকে) বুঝে শুনে খাওয়া ভালো, একবার ধরা খেয়ে গেলে অসুস্থতা সারাতে বহু কষ্ট হবে।

বাংলাদেশ প্লাজায় হাজীদের অবর্ণনীয় কষ্টের ইতিহাস আছে। প্রথম ক্ষেত্রেই পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়া হবে আপনার, হাতে স্রেফ একটা হলুদ রঙের ট্যাগ থাকবে আর গলায় একটা আইডি কার্ড, ইহরামের দুই পিস কাপড় গরমে ঘেমে আনকমফোরটেবল হয়ে যেতে পারে, নিজের লাগেজের সাথে পরিচয় থাকবে না হোটেলের রুমে পৌছানোর আগ পর্যন্ত, মাথার উপর মরুভূমির সূর্য – এই সব কিছু মিলিয়ে অনেকেই বিশেষত মুরুব্বীরা ইনিসিকিউরিটি থেকে অধৈর্য হয়ে যান, অনেকেই হৈ চৈ শুরু করে দেন।

2016-09-18_00070
বাংলাদেশ প্লাজাঃ নিজ নিজ গ্রুপের ডাকের অপেক্ষায় হাজীরা অপেক্ষমান

 

সৌদি হজ্জের ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক হাজীকেই একজন আরব মুয়াল্লেমের অধীনে থাকতে হয়, যার কাজ হচ্ছে পুরোটা সময় হাজীর সবকিছু দেখভাল করা। সমস্যা হচ্ছে এক একজন মুয়াল্লেমের অধীনে প্রায় হাজার তিন-চার হাজী থাকেন, সেই মোতাবেক প্রোপার লজিস্টিকাল সাপোর্ট যেমন গাড়ীঘোড়া আর ভলান্টিয়ার থাকলেও এগুলো ম্যানেজ করা অনেক সময়েই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষত পিক সময়গুলোতে। এয়ারপোর্ট থেকে লিস্ট মিলিয়ে মাথা গুণে বাসে ওঠানো, জেদ্দা থেকে মক্কা প্রায় শ’খানেক কিলোমিটার রাস্তায় তিন-চারটে চেক পয়েন্টে বিরতি, মাথা গোণা, লিস্ট মিলানো আর হালকা নাস্তা বিতরণ, প্রত্যেক যাত্রীর হোটেলের গেটে গেটে নামিয়ে দেয়া, সব কিছু মিলিয়ে পুরো সময়টাতে অর্থাৎ প্লেন থেকে নেমে মক্কা শহরে হোটেলে পৌছতে প্রায় কমপক্ষে ৪-৫ ঘন্টা থেকে অনেকের ২৪ ঘন্টাও লেগে যেতে পারে। একসাথে যদি পাঁচ-ছয়টা ফ্লাইট নামে তাহলেই মূলত এই ধরণের ভিড়ভাট্টা লেগে যায়।

হারাম শরীফের সীমানা। কুরআন গেট, এর আগেই একটা লেইন ডান দিকে চলে গিয়েছে মক্কা শহর বাইপাস করে যেটা নন-মুসলিমদের জন্য। মক্কা শহরে নন-মুসলিমদের প্রবেশ নিষেধ, চেকপোস্ট এড়ানো খুব কঠিন।

তবে উপরের সব কিছুই মূলত আসার আগে মানুষের কাছে শোনা অভিজ্ঞতা, কিছুটা অবশ্য নিজেরই দেখা। আমি ধৈর্য ধরে মটকা মেরে পড়ে ছিলাম যা আছে কপালে অ্যাটিচ্যুড নিয়ে , আল্লাহর অসীম রহমতে মক্কার বাঙ্গালীপাড়া হিসেবে পরিচিত মিসফালাহ এলাকার চেনা হোটেলে পৌছে গেলাম স্রেফ তিন-সাড়ে তিন ঘন্টার মধ্যেই। মক্কা শহরে তখন অবশ্য ভিড়ও কম, হজ্জের প্রায় দেড় মাস বাকি তখনও। আমার মত মিসকিনরাই সবচেয়ে কম খরচের প্যাকেজে হাজির হয়ে গেছি আল্লাহর শহরে।

অভিজ্ঞতার আলোকেঃ

ধৈর্যের কোন বিকল্প নাইহজ্জে মানুষের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় ধৈর্যের। মাথা গরম করে গালাগালি এমনকি হাজীদের মধ্যে হাতাহাতিও দেখতে হয়েছে, যেটা কোনদিনও কারও কাম্য নয়। – মুয়াল্লেমই হজ্জকালীন সময়ে আরবে হাজীদের সবচেয়ে বড় বন্ধু, হাতের বেল্টে বা আইডি কার্ড থাকে, প্রথম প্রথম পথ হারিয়ে গেলে কাউকে কার্ড দেখালেই মুয়াল্লেম অফিসে পৌছে দেবে, সেখান থেকে রেজিস্টার মিলিয়ে ঐ হাজীকে হোটেলে পৌছে দেয়া হয়। বয়স্ক দম্পতিদের ক্ষেত্রে ভিড়ের মধ্যে জোড়া বিচ্ছিন্ন হয়ে হারিয়ে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, এ কারণে বিভিন্ন ল্যান্ডমার্ক সেট করে রাখা উচিৎ, যেমন হারিয়ে গেলে ৬৫ নম্বর গেটে থাকবো, বা এই দোকানের সামনে থাকবো ইত্যাদি ইত্যাদি। হারাম শরীফে যত ক্লিনার আছে তাদের ৯৭% হচ্ছে বাংলাদেশী, ওদের সাথে সহজেই যোগাযোগ করে পথ খুঁজে নেয়া সম্ভব।

যা হোক, হোটেলে রুমে পৌছে লাগেজ-টাগেজ পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সবাইই। তবে তাড়াও আছে, যত দ্রুত সম্ভব হারামে (কাবা শরীফ বা মসজিদুল হারাম বা বায়তুল্লাহ যে নামেই ডাকা হোকনা কেন, মক্কায় আল্লাহর ঘর সবার কাছে “হারাম” নামেই পরিচিত)। ইতোমধ্যেই মাগরিবের আজানের সময় হয়ে এসেছে, শান্ত রাস্তাঘাটে হঠাত করে দলে দলে মানুষ কিভাবে পিলপিল করে আসা শুরু করলো তা বলা মুশকিল। মাগরিবের আজানের তখনও আধা ঘন্টা বাকি।

হারামের গেট থেকে মিসফালাহের প্রধাণ রাস্তা – ইবরাহিম খলীল রোডে ঢোকার মুখ।

এর আগেও হারাম শরীফে আসবার সৌভাগ্য হওয়ার কারণে আমার অনুভূতি হয়তো একটু ক্ষীণই ছিল, তবে প্রথম আগত হাজীগণ মসজিদের প্রশস্ত চত্বর পেরিয়ে গেট দিকে মূল মসজিদে ঢুকে কিছুটা সময় হেটে যখন প্রথমবারের মত উঁচু খিলান আর সোনালী আলোর কারুকাজের মধ্যে দিয়ে চকচকে কালো গিলাফে মোড়া সেই ঘরটা দেখতে পান, সেই অনুভূতির কোন তুলনা হয় না। মসজিদ পেরিয়ে কাবা’কে ঘিরে তাওয়াফের চত্বর, যাকে বলা হয় মাতাফ। দিনরাত অবিশ্রান্তভাবে এইখানে হাজীরা তাওয়াফ করে চলেছেন, নামাজের সময় ছাড়া এখানে একফোঁটা বিরতি নেই।

মক্কায় পৌছে হাজীদের প্রথম কাজ উমরাহ করে নেয়া। এখানে কা’বাকে ঘিরে সাতবার তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার দৌড়াদৌড়ি, যাকে বলা হয় সা’য়ী, সবশেষে চুল কেটে ফেলে ইহরাম ভাঙ্গা, এভাবেই উমরাহ শেষ।

এরপরের পুরোটা সময় মক্কায় থাকা, কেউবা আবার মদীনায়ও চলে যান। নবী-রাসূল ও সাহাবাগণের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা, এইসব করতে করতেই হজ্বের মূল সময়টা চলে আসবে।

2016-08-14_00065
গার-ই-হিরা, জাবালে নূর পাহাড় চূড়া থেকে ফুট বিশেক নিচেই হেরা গুহা, যেখানে নাজিল হয়েছিল কুরআনের প্রথম আয়াত। সেলফি তোলা বা নামাজ পড়া কোনটাই এখানে সঠিক বলে আমি মনে করি না। সাড়ে ছয়শো মিটার বা দু’হাজার ফুট উঁচু এই পাথুরে পাহাড়টায় উঠতে গিয়ে আমার কেবল মনে পড়ছিল পঞ্চান্ন বহর বয়স্কা এক নারীর কথা, যিনি একাকী এই পাহাড় বাইতেন শুধুমাত্র তাঁর স্বামীর জন্য। খাদিজা (রাঃ) কে স্বয়ং আল্লাহ ও জিবরাঈল সালাম দিয়েছেন কেন সেটা বুঝতে কষ্ট হবে না কারো। 

 

2016-08-14_00064
জাবালে নূর বা হেরা পাহাড়ের চূড়া থেকে মক্কা, ঝাপসা-দূরের ক্লক টাওয়ার হচ্ছে হারাম শরীফ। এই দূরত্ব পার হয়ে রাসূল (সাঃ) এবং খাদীজা (রাঃ) দুজনেই আসতেন এখানে।

চলতে থাকবে……

Advertisements

One comment

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s