এই জমানায় ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্যেও যে সিরিয়াল দিতে হয় সেটা জানা ছিল না।

প্রথম জমানা অবশ্য ছিল সেই ২০১২ সাল। লোকজনের মুখে নাম-টাম শুনে গিয়েছিলাম মজিদ ভাইয়ের খোঁজে। কচুক্ষেত বাজারের মোড়ে (ভাগ্যকূল মিষ্টির দোকানটার সামনে) একটা ভ্যানে স্পেশাল ঝালমুড়ি বিক্রি করেন এই ভদ্রলোক। ভিড় ঠেলে মিনিট দশেক পর সিরিয়াল পেয়ে আমরা হাতে পেলাম মুড়ি।

Mojid Bhai Menu
ঝালমুড়ির মেন্যু কার্ড

স্বাদ দুর্দান্ত এতে কোন সন্দেহ নাই। রাস্তার ভেন্ডরগুলো স্রেফ ঘুগনি আর ছোলা-চানাচুর দিয়ে যেভাবে কাজ সেরে দেয় সেই জায়গায় এইখানে চপ-কাটলেট টাইপ বিভিন্ন আইটেম ‘সাইড ডিশ’ (?!) হিসেবে নেবার সুযোগ আছে, মশলা কিমা তেতুল টক আর মরিচের ঝোলে ঝালে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা বসে খাওয়াটা নেহায়েত খারাপ লাগবে না।

Mojid Bhai Jhalmuri
ঘুগনি, মসলা আর নানা উপকরণ

যা হো, ইদানিং হঠাত ফেসবুকের ফুডি গ্রুপগুলোতে ইনার খবর পেয়ে বেশ অবাকই হলাম, হ্যাতে নাকি এখন সেলিব্রেটেড ঝালমুড়িওয়ালা ! বেশ অনেকদিন ঐদিকে যাওয়া হয় না, এখন অবশ্য দেখলাম পুরো দোকানই সাজিয়ে বসেছেন। ভিড়ও ভালো, বিকেল-সন্ধ্যা নাগাদ গেলে হয়তো অপেক্ষাও করতে হতে পারে। এখন পসার বেড়েছে, মেন্যুকার্ডে এখন ৪০ রকম ঝালমুড়ি আছে, আর সবচেয়ে বড় কথা লোকটা খুবই আন্তরিক।

Mojid bhai original
সেই ২০১২ সালে তোলা ছবি – মজিদ ভাইয়ের ঝালমুড়ি

তাকে নিয়ে এখন দেখি নিউজও হচ্ছে। সেখান থেকেই জানা গেলো, ১৯৯৮ সালে কাজের খোঁজে জামালপুর থেকে আসেন রাজধানী ঢাকায়। প্রথমে শুরু করেন হোটেল বয়ের কাজ, এরপর ফুটপাতে মুড়ি বিক্রি। মিরপুর, মতিঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঝালমুড়ি বেঁচতেন তিনি, এখন থিতু হয়েছেন এই কাফরুল এলাকাতেই।

কচুক্ষেত বাজারের পাশে হাইটেক হাসপাতালের (ডিজিএফআই হেডকোয়ার্টারের বিপরীতে) সামনেই আবদুল মজিদ তার ঝালমুড়ির পসার নিয়ে বসেন। দুপুর বারোটা-একটা থেকে রাত বারোটা-সাড়ে বারোটা পর্যন্ত দোকান খোলা রেখে ডেইলি প্রায় চারশো-সাড়ে চারশো ক্রেতা সামলাতে হয় তাকে।

যা হোক, নেক্সট টাইম কাউকে ঝাড়ি দিয়ে ‘মুড়ি খা’ বলার আগে একটু চিন্তা করতে হবে বৈকি। মনের ঝাল ঝাড়তে গিয়ে ব্যাটা যদি ঝালেই তৃপ্তির সন্ধান পায় তাহলে লাভটা কি !

Advertisements